বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ৪ মাঘ ১৪২৫

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি মামলা

ফিলিপাইনে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্ত‍ার সাজা

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০১:২৮ পিএম

ফিলিপাইনে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্ত‍ার সাজা

ঢাকা : ব্যাংকিং খাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ৮ দফা ঘটনায় ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোকে ৩২ থেকে ৫৬ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন দেশটির আদালত।

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) দেশটির অর্থনৈতিক কেন্দ্র মেকাটি শহরের একটি আদালত এ রায় দিয়েছেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় এই প্রথমবারের মতো কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হলো। 

প্রতিটি অভিযোগের বিপরীতে মায়ার ৪ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া প্রায় ১১ কোটি ডলার জরিমানা করা হয়েছে তাকে। ৪টি অজ্ঞাত ও কাল্পনিক ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ লেনদেনে সহায়তা করার অপরাধে দেগুইতো দায়ী বলে জানিয়েছেন আদালত।

তবে ২০১৬ সালের সিনেটের তদন্তের শুনানিতে দেগুইতো বলেছেন, তাকে 'বলির পাঁঠা' বানানো হয়েছে। আরসিবিসি ব্যাংকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ হলেই কেবল অর্থপাচার করা সম্ভব।

এদিকে দেগুইতোর আইনজীবী দিমেট্রিও কাস্তোডিও বলেন, তার মক্কেল রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। সুপ্রিমকোর্টের চূড়ান্ত রায় স্থগিত করে তিনি মুক্তই থাকবেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এ মামলা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। দেগুইতোর জন্য এটি একেবারে সাময়িক বিপত্তি।

তবে এ রায়ের পর ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম বলেন, আরসিবিসি ব্যাংকের আরও ছয় কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদের মামলা দেশটির অ্যান্টি মানিলন্ডারিং কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করি, যা বিচারকার্যকে আরও সহজ করে দেবে।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়।

পাঁচটি সুইফট বার্তার মাধ্যমে চুরি হওয়া এ অর্থের মধ্যে শ্রীলংকায় যাওয়া দুই কোটি ডলার ফেরত আসে। তবে ফিলিপাইনে যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলার জুয়ার টেবিল ঘুরে হাতবদল হয়। এই অর্থ চুরিতে দেশের ভেতরের কোনো একটি চক্রের হাত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়।

খোয়া যাওয়া রিজার্ভের অর্থের দেড় কোটি ডলার ফেরত এলেও বাকি অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তৎপরতা চালানো হলেও এখনও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। সূত্র: রয়টার্স

সোনালীনিউজ/এমটিআই