বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন, ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

পহেলা ফাল্গুন

ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, বুধবার ১২:৫০ এএম

ফুল ফুটুক আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত

ঢাকা : ‘হে কবি! নীরব কেন-ফাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়’ কবির নির্লিপ্ততা ভাঙতেই যেনো পাতার আড়ালে লুকিয়ে কুহুস্বরে ফাগুনের মাতাল আবেশ ছড়াতে শুরু করেছে কোকিল। ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে গাছ।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলা পঞ্জিকার একাদশতম মাস ফাল্গুনের প্রথম দিনকে বরণ করে নেওয়া হবে নানা রকম ফুলের সাজে।

রাজধানীর শাহবাগের ফুলের দোকানে গতকাল চলে তুমুল বেচা-কেনা। গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, জিপসি, জারবেরা, গ্লাডিওলাস, ক্রিসেনথিসাম এর মতো রংবেরঙের সব ফুলে ছেয়ে আছে দোকানগুলো।

দেখা গেছে, আজকের উৎসবকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করেন ফুল দোকানিরা। থরে থরে ফুল রাখা দোকানগুলোতে একমনে ফুলের তোড়া সাজাতে থাকেন কেউ, আর কেউবা ঠিকঠাক করে রাখেন নজরকাড়া সব ফুলগুলোকে।

মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই শুরু হয়ে গেছে ফুলের টুকটাক বেচাকেনা, দোকানে দোকানে দেখা গেছে ক্রেতাদের আনাগোনা। বন্ধু বা প্রিয়জনের সঙ্গে ফুল কিনতে এসে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে শিকারি চোখে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা। পছন্দের সব ফুল কিনে ঘরে ফিরতে, সাধ্যমতো দরদাম করছেন ক্রেতারা।

অন্যদিকে বেশি দাম হাঁকিয়ে হাসিমুখে ক্রেতাদের হাতে ফুল তুলে দিচ্ছেন বিক্রেতারা।

ফাল্গুনের জন্য ফুল কিনতে আসা ক্রেতা সুমাইয়া লগ্ন বলেন, ‘বাঙালির জীবনে ফাল্গুন আর ফুল এক সূতায় জড়িয়ে আছে। তাই ফাল্গুনকে বরণ করে নিতে বন্ধুদের সাথে আজকেই ফুল কিনতে এসেছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে উৎসবটি উপলক্ষে দোকানগুলিতে অনেক ফুল উঠলেও বিক্রেতারা দাম বেশি চাইছেন। তাছাড়া একই ফুলের দাম একেক দোকানে একেকরকম চাওয়া হচ্ছে আমাদের কাছে। তাই বিভ্রান্তিতে পড়ে যাচ্ছেন আমাদের মতো ক্রেতারা।’

সাভার থেকে ফুল কিনতে আসা নূর মোহাম্মদ জানান, ‘প্রত্যেক ফাল্গুনের আগেই আমি শাহবাগের ফুলের দোকানগুলিতে আসি। দাম এখানে একটু বেশি হলেও বিভিন্ন ফুলের সমারোহে পছন্দের ফুলগুলো সহজেই এখানে পেয়ে যাই।’

ফুলের বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ থাকলেও বিক্রেতাদের গলায় শোনা গেছে ভিন্ন সুর। শাহবাগের ফ্রেশ ফ্লাওয়ার দোকানটির বিক্রেতা আবু জাফর জানান, ‘এই একটি মাসের ব্যবসার উপরই আমাদের দোকানগুলো টিকে আছে। সাধারণত কোন বিশেষ উৎসব এলেই ফুলের চাহিদা বেড়ে যায় আর আমরা সে হিসেবেই আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রাখি। এবারও আমরা ক্রেতাদের মুখে হাসি ফোটাতে সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে রখেছি।

ফুলের বাড়তি দামের অভিযোগ যদিও অসত্য নয়, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বিশেষ দিনগুলোতে এমনিতেই ফুলের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। আর যেসব ফুলের চাহিদা অনুপাতে যোগান থাকে না, সেগুলোর দাম এমনিতেই বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। এখানে খুচরা ব্যবসায়ীদেরও কিছু করার থাকে না। ফুল চাষীরাও এই একটি মাসের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন একটু লাভের মুখ দেখার আশায়। ক্রেতারাও তাই হাসিমুখে ফুল কিনে নিয়ে যেতে কার্পণ্য করেন না।’

আশানুরূপ ফুল বিক্রি হচ্ছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে ফুল বিক্রেতা আলামীন জানান, ‘আশা করছি এবারে আমরা ভালো ব্যবসা করতে পারবো। দেশ রাজনৈতিক ভাবে অস্থিতিশীল না থাকার কারণে ফুলের যোগানও ভালোই আছে, আশা করছি আমরাও ক্রেতাদের হাতে পর্যাপ্ত ফুল তুলে দিতে পারবো। ইতোমধ্যে সকাল থেকেই টুকটাক বেচাকানা বাড়ছে, বিকালের মধ্যে আশা করি দোকানগুলি জমে উঠবে।’

সোনালীনিউজ/এমটিআই