সোমবার, ১৭ জুন, ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬

ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে ৪ কোটি মানুষ

স্বাস্থ্য ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার ১২:৩৩ পিএম

ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে ৪ কোটি মানুষ

ঢাকা: বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি মানুষ নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়াটো হেপাটাইটিস (ন্যাশ) বা ফ্যাটি লিভার রোগে আক্রান্ত। তন্মধ্যে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত ১৮ লাখ মানুষ। সচেতনতা না বাড়ালে অদূর ভবিষ্যতে দেশের মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে। গতকাল বুধবার দুপুরে ২য় আন্তর্জাতিক ন্যাশ দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দ্য ইয়ার আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

ন্যাশ প্রধানত খাদ্যাভ্যাস বা শারীরিক পরিশ্রম না করলে হয়। এ রোগে মানবদেহের অন্যতম অঙ্গ লিভারে চর্বি জমে এর কার্যক্ষমতা নষ্ট করে। সঠিক সময়ে এটি প্রতিরোধ করতে না পারলে ধীরে ধীরে লিভারের কার্যক্ষমতা লোপ পায় যা লিভার সিরোসিস, এমনকি লিভার ক্যান্সারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগের কোনো বাহ্যিক লক্ষণ না থাকায় মানুষ এর প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন নয়। তাই সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

ডিক্যাবের সাধারণ সম্পাদক ডা. নূরুল ইসলাম হাসিব বলেন, ফাস্টফুডের ক্ষতিকর দিকগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা তুলে ধরছেন। ফলে কোকাকোলা ও আমেরিকান বার্গার বর্তমানে বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রে ব্যবসায় নজর দিয়েছে। এখানে এসব কোম্পানির নিজস্ব ফ্যাক্টরি করছে। টোব্যাকোর মতো ফাস্টফুডের ব্যবসার ক্ষেত্রেও কর বাড়ানো প্রয়োজন।

সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ফাস্টফুড ও বিরিয়ানি ফ্যাটি লিভারের অন্যতম কারণ। ফাস্টফুডের কারণে লিভার সিরোসিস হয়। বাড়ায় স্থূলতা। সাবেক সচিব নাসির উদ্দিন বলেন, জননিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হবে। ফাস্টফুড, ভেজাল খাবার পরিহারে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। সম্প্রীতি বাংলাদেশের সভাপতি পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের পাশাপাশি মনোজগতের পরিবর্তন প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভিসি অধ্যাপক কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, খাদ্যে ভেজালে আমাদের দেশে শাস্তি হয় না। প্রথমে এটা নিশ্চিত করতে হবে। ন্যাশ একটা নীরব ঘাতক। এ রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন মানিক বলেন, প্রচলিত আছে, উকিল চায় দেশে অপরাধ বাড়ুক, তাহলে আয় বাড়বে। তেমনি ডাক্তার চায়, অসুখ বাড়লে আয় বাড়বে। কিন্তু কিছু চিকিৎসা সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। এ রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ালে কমানো সম্ভব। এ রোগের সম্পূর্ণ চিকিৎসা নেই। ভেজাল ও তেলমুক্ত খাবার খেতে হবে।

ফোরাম ফর দ্য স্টাডি অব দ্য ইয়ার লিভার বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শহীদ জায়া শ্যামলী চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসএমএমইউ’র লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ ও এভারেস্ট ফার্মাসিউটিক্যালসের এমডি মোহাম্মদ জাকির হোসেন প্রমুখ।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এসআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue