শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

বঙ্গবন্ধু কন্যাকে একটু ছূঁয়ে দেখতে চান সেই বীরাঙ্গনারা!

নাজনীন মুন্নী | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার ১১:৪৬ এএম

বঙ্গবন্ধু কন্যাকে একটু ছূঁয়ে দেখতে চান সেই বীরাঙ্গনারা!

ফাইল ছবি

দেশে হাজার সাংবাদিকের মধ্যে আমি একজন। তুচ্ছ মানুষ। ক্ষমতা একেবারেই শূণ্য। না কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়া আছে মাথার উপর। না কোনো মন্ত্রী আমলা স্বজন। সাংবাদিক হিসাবেই তেমন নাম কামানো সম্ভব হয় নাই। এমন হতদরিদ্র অবস্থা যে, আমি আমার সাংবাদিকতা জীবনে কোনোদিন আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখিনি।

মোটামুটি কষ্টে সৃষ্টে ১১ বছর সাংবাদিকতা করার ফল হিসাবে বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা কার্ড আর বছরে একদিন ইফতারে গনভবণ যাওয়ার দাওয়াত পাই। আমি জানি হাজার সাংবাদিক সেই কার্ড পায়। তারপর মনে হতে থাকে আমার এই কার্ড পাওয়ার পেছনে অন্য কারো হাত নেই তো?আমি সন্দেহের দৃষ্টিতে সেই কার্ড দেখতে থাকি।

তবে প্রথম যখন এই কার্ড পেয়েছিলাম সেই দাওয়াতে গেছি খুব উৎসাহ নিয়ে। সকাল থেকে বড় যারা যাবেন তাদের কাছে ঘ্যান ঘ্যান... কখন যাবেন। যাবেন কখন?!। অতপর: দীর্ঘ এক জ্যাম ঠেলে গনভবন যখন,তখন মাগরিবের আযান পড়ছে।

গনভবনের ইফতারে তেমন আহামরি আয়োজন থাকে না। সবাই সেখানে যায় সে কত গুরুত্বপূর্ণ সেটা বুঝাতে। আর আমি গেছি প্রধানমন্ত্রী দেখতে। ইফতার শেষ হতে না হতে লোকজন ঊঠে পড়লো। দেখলাম একজায়গায় ভীষন জটলা।

প্রধানমন্ত্রী কোথায় প্রশ্ন আমার, সাথের বস এর কাছে
-যেখানে মানুষের জটলা সেখানে
-ও আচ্ছা মুখ শুকনো করে বুঝলাম প্রধানমন্ত্রী দেখা হবে না আজ নিশ্চিত
হঠাৎই বস বললেন " চলেন যাই"
বললাম, কোথায় বস?
- প্রধানমনন্ত্রীকে দেখে আসি। কখনও প্রধানমন্ত্রীকে দেখিনি।
আলো জ্বলে উঠা আমার চেহারা আবার অন্ধকার হলো কয়েক মুহূর্তেই। কারণ বস আসলে আমাকেই দেখাতে চাইছেন। যাতে লজ্জা না পাই তাই নিজের কথাটাই বলেছেন।
লজ্জা আর ইগো জিতেছিল সেদিন।প্রধানমন্ত্রীকে না দেখেই ফিরছিলাম। তারপর গিয়েছি কয়েকবার। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সেল্ফি দুর, এখনও তাকে আমি স্বচোখে দেখিনি।

এমন হতদরিদ্র সাংবাদিক হয়েও দারুন এক বড়লোকি স্বপ্ন আমার একবছর ধরে। বীরাঙ্গনাদের নিয়ে নিউজ করতে সপ্তাহ খানেক ঘুরেছি ১৫ জন বীরাঙ্গনার সাথে। জীবনের শ্যাষ প্রান্তে থাকা এই নারীরা একবার প্রধান মন্ত্রীকে দেখতে চান। ছুঁতে চান সেই শেখের বেটিকে। যে শেখ বাবা হয়ে তাদের পরিচয় আর আশ্রয় দিয়েছিলেন। এটা তাদের চাওয়া। আর আমার চাওয়া, সাড়া জীবন কষ্ট, বঞ্চনা, অপবাদ নেয়া এই মানুষগুলো কেবল অসম্মান পেয়েছে। তাদের একটু সম্মান জানানো হোক। সামনে ১৬ ডিসেম্বর। তাদের জন্যই আমরা আজ গর্ব করার মতো এক দেশের মালিক। আমি জানি আমার সেই চাওয়ার সাথে ১৬ কোটি মানুষ আছে।

..... আমি ছা পোষা মানুষ কেমন করে তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবো? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কতজনকে সময় দেন। এই বীরাঙ্গনা যাদের তিনি মুক্তিযোদ্ধা উপাধি দিয়েছেন তাদের কি একটু সময় দিবেন তাকে ছূঁয়ে দেখার? এই প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রী বরাবর পৌছাবেন এমন কি কোনো সুহৃদ আছেন?

লেখাটি জনপ্রিয় রিপোর্টার ও উপস্থাপক নাজনীন মুন্নীর ফেসবুক থেকে নেয়া।


সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন


*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন। সোনালীনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের এই মতামতের অমিল থাকাটা স্বাভাবিক। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য সোনালীনিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। এর দায় সম্পূর্ণই লেখকের।