মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০, ৮ মাঘ ১৪২৬

বছরের শুরুতেই বাংলাদেশ পুলিশে ১০ হাজার লোক নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০৪:৫১ পিএম

বছরের শুরুতেই বাংলাদেশ পুলিশে ১০ হাজার লোক নিয়োগ

পুলিশ বাহিনীর সার্বিক সক্ষমতা বাড়ানো ও আধুনিকায়নের জন্য ২০২০ সালের শুরুতেই (জানুয়ারি) পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ১০ হাজার জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবে সরকার।

সূত্র জানায়, এরইমধ্যে পুলিশ সদর দফতরের বিভিন্ন ইউনিটের জন্য সর্বমোট ১৩ হাজার ৬৪১টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। বাকি পদ সৃষ্টির কার্যক্রম বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বা দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন।

এ ছাড়া যুগোপযোগী তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ, উন্নত মানের অস্ত্র, গাড়িসহ লজিস্টিক সাপোর্ট, গোয়েন্দা তথ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত তদন্ত ব্যবস্থার প্রসার, ভবন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন এই প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত থাকবে। পুলিশ সদস্যদের জন্য উন্নত খাবার এবং পোশাক সরবরাহও রয়েছে এর আওতায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি পুলিশের লজিস্টিক সাপোর্টসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ে বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনায় বলা হয়, পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যানবাহন ও জলযান গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুলিশ বাহিনীর গতিশীলতা ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিশেষায়িত, দীর্ঘস্থায়ী, মানসম্পন্ন যানবাহন এবং জলযানের বিকল্প নেই। যানবাহন ক্রয়ে বাজেট কোড প্রতিবন্ধকতা দূর করে ব্যবহার উপযোগী, টেকসই ও মানসম্পন্ন যানবাহন দ্রুততার সঙ্গে কিনতে হবে।

এ ছাড়া খাদ্য ও পোশাক বিষয়ে বলা হয়, প্রাধিকারপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য কাপড়, বুট, জুতা, বেল্ট, রিফ্লেক্টিং ভেস্ট, রেইন কোটসহ সব ধরনের পোশাক সামগ্রীর গুণগত মান উন্নত করে যুগোপযোগী করা হয়েছে, যা পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে রেশনিং প্রথার মাধ্যমে চাল, গম বা আটা, ডাল, তেল, চিনি সরবরাহ করে থাকে, যা পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকারি গুদামের যে চাল সরবরাহ করা হয়, তা অনেকাংশেই স্বাদহীন ও দুর্গন্ধযুক্ত থাকে। ফলে ওই চাল খাওয়া যায় না। পুলিশ বাহিনীর জন্য ওয়ারেন্টি প্রথা শিথিল না থাকায় ভালো মানের চাল খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলনের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে একাধিকবার পত্রালাপ করা হলেও আশানুরূপ অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি। এই সুবিধা পাওয়া গেলে এবং রেশনিং প্রথা আরো উন্নত করা হলে পুলিশের সক্ষমতা আরো বাড়বে।

বর্তমান পরিস্থিতি, জঙ্গি তৎপরতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ কৌশলগত অপরাধ মোকাবেলায় সক্ষম ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত সরঞ্জামাদি পুলিশ বাহিনীতে সংযোজন করা হলে পুলিশের সক্ষমতা আরো বাড়বে। পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে রাজস্ব বাজেটের অর্থায়নে দেশের বিভিন্ন ইউনিটের জন্য আবাসিক টাওয়ার নির্মাণ, বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটের ফোর্সের আবাসনের জন্য ব্যারাক, বিদ্যমান ব্যারাকের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, থানা, ফাঁড়ি, তদন্তকেন্দ্র, অফিস এবং ফোর্স ও অস্ত্রের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ইউনিটগুলোর সীমানাপ্রাচীরসহ অত্যাবশকীয় কাঠামো নির্মাণ করা। নারী পুলিশ সদস্যদের আবাসন সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন জেলায় ৫৫টি মহিলা ব্যারাক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণভিত্তিক তদন্ত ব্যবস্থাপনায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের বিবিধ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতিসম্প্রতি বিভিন্ন ধরনের অপরাধের মাত্রা, ধরন ও কৌশলগত ভিন্নতার কারণে প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

এ বিষয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করছে। তবে এখনো অনেক সমস্যা আছে। সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পুলিশকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে সঙ্কটমুক্ত করে তোলার উদ্যোগসংক্রান্ত আলোচনায় আরো উঠে আসে, ধারাবাহিক সফলতা বজায় রাখার জন্য গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের মাধ্যমে নতুন নতুন পন্থা উদ্ভাবন করে সুদূরপ্রসারী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ বাংলাদেশকে একটি ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। এজন্য সিটিএন্ডটিসিইউ গঠন করার পাশাপাশি নিডবেজড ট্রেনিং, দেশ ও বিদেশে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশেষ টিম, ফোর্স ও ব্যাটালিয়ন গঠন।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এসএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue