শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০১:০৮ পিএম

বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

ঢাকা : সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তার পানি। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে লালমনিরহাটের ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি নিয়ন্ত্রণে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে গত কয়েক দিন থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের অধিকাংশ গেট খুলে দেওয়া হয়। ফলে তিস্তার পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত হয়েছে শেরপুরের প্রায় ২৫টি গ্রাম। বন্যায় সিরাজগঞ্জেও দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ।

আমাদের লালমনিরহাট প্রতিনিধি জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ৫ উপজেলার প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে পাটগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত বহুল আলোচিত বিলুপ্ত ছিটমহল আঙ্গরপোতা-দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিঙ্গিমারী, পটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চর, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার রাজপুর, খুনিয়াগাছ, গোকুন্ডা ইউনিয়ন ও কালীগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল এলাকার প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ঘরের ভেতর ঢুকে পড়েছে পানি। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট। লোকজন গবাদি পশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন। নলকূপগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। রান্না করতে না পারায় শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

এদিকে শেরপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত তিন দিনের টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে  নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। গত সোমবার সকাল থেকে বুধবার বিকাল পর্যন্ত ঝিনাইগাতীতে থেমে থেমে ও মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় এ গ্রামগুলো প্লাবিত হয়। প্লাবিত ইউনিয়নগুলো হচ্ছে ঝিনাইগাতী সদর, ধানশাইল, গৌরীপুর, হাতিবান্ধা ও মালিঝিকান্দা। এসব  ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কাঁচা ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট, রোপা আমন ধানের বীজতলা, পুকুরের মাছ পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে কিছুসংখ্যক মানুষ ও গৃহপালিত পশু পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা স্লুইসগেট সংলগ্ন বন্যানিয়ন্ত্রণ রিং বাঁধটি গত দুদিনে দুই দফায় দুই স্থানে দুর্বৃত্তরা কেটে দিয়েছে। ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় শাহজাদপুর উপজেলার চলনবিল অঞ্চলের ৮ উপজেলার প্রায় ৫৩ হাজার হেক্টর জমি ফসলি জমি বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া নিচু অনেক কাঁচা রাস্তাঘাটও এ বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এতে এ অঞ্চলের প্রায় ১ লাখ মানুষ বন্যার পানিতে আক্রান্ত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অপরদিকে এ বাঁধ কেটে দেওয়ায় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় দেড় কোটি টাকা জলে চলে গেছে।

কক্সবাজার প্রতিনিধি তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃষ্টির পানি অব্যাহত থাকায় মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বরইতলী ইউনিয়নে পাহাড় ধসে একব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন উপজেলাবাসী। বৃষ্টি ও উজানের পানিতে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে ঢুবে রয়েছে। শতশত বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক স্থানে কালভার্ট, ব্রিজ ও অধিকাংশ রাস্তাঘাট বন্যার পানির নিচে রয়েছে। সড়কগুলো পানিতে ঢুবে থাকায় নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, খাগড়াছড়িতে অতি বর্ষণে পাহাড় ধসের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সারা রাত অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে নতুন করে আরো পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে অব্যাহত রয়েছে পাহাড় ধ্বস। পৌর শহরের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে তিন শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

শহরের শালবাগান এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী অর্ধশতাধিক পরিবারকে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলায় খোলা হয়েছে ৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্র। খাগড়াছড়ি সম্প্রসারণ বিভাগ গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬.২৫ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি ব্যাপক পাহাড় ধসের শঙ্কা প্রবল হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় পাহাড় ধসে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার নাম যুগেন্দ্র চাকমা (৪০)। তিনি দীঘিনালার বাবুছড়া ইউনিয়নের দুর্গম উল্টাছড়ি এলাকার সুবধন চাকমার ছেলে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই