শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২০, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭

বর্তমান সংসদের ৮ সংসদ সদস্য মারা যাওয়ার রেকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২০, মঙ্গলবার ০৮:৪৪ পিএম

বর্তমান সংসদের ৮ সংসদ সদস্য মারা যাওয়ার রেকর্ড

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা : দেশের বর্তমান সংসদের সময় সংসদ সদস্য মারা যাওয়ার রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (৩০ ডিসেম্বর) পর এ পর্যন্ত ১৩ জন সংসদ সদস্য মারা গেছেন। অথচ গত সংসদের পাঁচ বছরে বিভিন্ন দলের ১৫ সংসদ সদস্য মারা যান। চলতি সংসদে সাবেক এক মন্ত্রীসহ দুজন করোনায় মারা গেছেন। তবে করোনাকাল হওয়ায় পাঁচ সংসদ সদস্যের সংসদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি।

জানা গেছে, গত বছর মারা গেছেন পাঁচ সংসদ সদস্য। চলতি বছরের আট মাসে মারা গেছেন আরও আটজন। মারা যাওয়া দুজন ছাড়া সবাই আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য।

সংসদের আইন শাখা-২ সূত্র জানায়, নির্বাচনের ঠিক পরই আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (কিশোরগঞ্জ-১) মারা যান। তিনি সংসদের একটি অধিবেশনেও যোগ দিতে পারেননি। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে মারা যান তিনি। এমনকি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথও নিতে পারেননি সৈয়দ আশরাফ। সংসদ সদস্য হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন।

একই বছরের ৯ জুলাই আওয়ামী লীগের রুশেমা বেগম (মহিলা আসন-৩৪), ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ (রংপুর-৩) মারা যান। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুতে সংসদে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তার সহধর্মিণী রওশন এরশাদ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ওই বছরের ৭ নভেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কার্যকরী সভাপতি মঈনউদ্দীন খান বাদল (চট্টগ্রাম-৮), ২৭ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের মো. ইউনুস আলী সরকার (গাইবান্ধা-৩) মারা যান।

চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি মারা যান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হোসেন (বাগেরহাট-৪), ১৮ জানুয়ারি আব্দুল মান্নান (বগুড়া-১), ২১ জানুয়ারি ইসমাত আরা সাদেক (যশোর-৬), ২ এপ্রিল সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ (পাবনা-৪), ৬ মে হাবিবুর রহমান মোল্লা (ঢাকা-৫), করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ জুন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম (সিরাজগঞ্জ-১), ১০ জুলাই সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন (ঢাকা-১৮) ও করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২৭ জুলাই ইসরাফিল আলম (নওগাঁ-৬) মারা যান।

চলতি বছরের জানুয়ারির পর মারা যাওয়া কারোরই রীতি অনুযায়ী সংসদ ভবনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। অথচ কোনো স্ট্যান্ডিং সংসদ সদস্য মারা গেলে সংসদে অনুষ্ঠিত জানাজায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ছাড়াও নিজ নিজ দলের পক্ষ থেকে মরদেহে শ্রদ্ধা জানানো হয়। মুক্তিযোদ্ধা হলে পান গার্ড অব অর্নার। জানাজায় সহকর্মীরা ছাড়াও সংসদে কর্মরত ও আশপাশ এলাকায় বসবাসকারীরা অংশ নেন। কিন্তু শেষ পাঁচজন এমপির ভাগ্যে এসব জোটেনি।

দলের একের পর এক সংসদ সদস্য মারা যাওয়ায় জুনে সংসদে অশ্রুসিক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘খুব দুঃখজনক… আসলে আমার জন্য খুব কষ্টকর হচ্ছে বলতে, এভাবে সবাইকে হারানো খুবই দুঃখজনক।’

প্রাণঘাতী করোনায় আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ (এমপি নন) মারা যাওয়ায় সংসদে আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বার বার চোখ মোছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিগত সংসদে যে ১৫ সংসদ সদস্যের মৃত্যু: বিগত দশম সংসদের পাঁচ বছরে দুজন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী ও একজন বিরোধীদলীয় হুইপসহ ১৫ সংসদ সদস্য মারা যান। তাদের মধ্যে ১২ জন আওয়ামী লীগের এবং তিনজন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ছিলেন। এদের মধ্যে হত্যা করা হয়েছে এক সংসদ সদস্যকে। এছাড়া ওই একই আসনে মারা গেছেন দুই সংসদ সদস্য। দশম সংসদের ২৩তম অধিবেশন শুরুর দিন উত্থাপিত শোক প্রস্তাবের বই এবং সংসদ লাইব্রেরিতে রাখা সংসদের কার্যপ্রবাহ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সংসদের আইন শাখা-২ সূত্রে জানা যায়, দশম সংসদ হারিয়েছে সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে নির্বাচিত বর্ষীয়ান পার্লামেন্টারিয়ান ও বিশিষ্ট তার্কিক সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে। তিনি এক সময় রেলমন্ত্রীও ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন সৈয়দ মহসিন আলী (মৌলভীবাজার-৩), মোহাম্মদ ছায়েদুল হক (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১) এবং প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন (ময়মনসিংহ-১)।

প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ কুড়িগ্রাম-২ আসনের জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরীকে হারায় এ সংসদ। মারা যাওয়া আওয়ামী লীগের অন্যদের মধ্যে রয়েছেন গাইবান্ধা-১ আসনের মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। ২০১৬ সালের শেষ প্রহরে নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়। ওই আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচিত হন একই দলের গোলাম মোস্তফা আহমদ। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।

এছাড়া সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের মো. ইসহাক হোসেন তালুকদার, মাগুরা-১ আসনের মোহাম্মদ সিরাজুল আকবর, খুলনা-৪ আসনের এস এম মোস্তফা রশদি, বরিশাল-৫ আসনের মো. শওকত হোসেন, টাঙ্গাইল-৮ আসনের শওকত মোমেন শাহজাহান, ময়মনসিংহ-৩ আসনের মজিবুর রহমান ফকির ইন্তেকাল করেন। জাতীয় পার্টির কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এ কে এম মাঈদুল ইসলাম এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের মো. নাসিম ওসমান মারা যান।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ