মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭

বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের ৩৪ বছরের পরিসংখ্যান

ক্রীড়া ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার ০৭:৫০ পিএম

বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের ৩৪ বছরের পরিসংখ্যান

ঢাকা: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ জাতীয় দলের আজ ৩৪তম জন্মদিন। ১৯৮৬ সালের আজকের তারিখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখা বাংলাদেশ আজ পূরণ করেছে ৩৪ বছর।

টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি থেকে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্য বেশি। ‍বিশেষ করে, মাশরাফি মুর্তজার নেতৃত্বে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নতুন এক বাংলাদেশকে দেখা যায়। 

তিন দশকের এই সময়কালে দারুণ কিছু মুহূর্ত উপভোগ করেছে বাংলাদেশ। তারই কিছু উল্লেখযোগ্য অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

পরিখ্যানে বাংলাদেশের ওয়ানডের ৩৪ বছর:

১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডেতে করেছিল ৯৪ রান।

বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।

প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক শহীদুর রহমান (৩৭)।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম বলটি মোকাবিলা করেন রকিবুল হাসান।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দলের কোনও ব্যাটসম্যান বাউন্ডারি মারতে পারেননি।

বাংলাদেশের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট নিয়েছেন জাহাঙ্গীর শাহ বাদশা। পাকিস্তানের দুটি উইকেট নিয়েছিলেন ৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এই পেসার।

বাংলাদেশ ওয়ানডে স্ট্যাটাস প্রাপ্তি ১৯৯৭ সালে।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম জয় কেনিয়ার বিপক্ষে, ১৯৯৮ সালের ১৭ মে। ম্যাচটিতে বাংলাদেশ ৬ উইকেটের জয় পেয়েছিল।

বাংলাদেশের হয়ে প্রথম হাফসেঞ্চুরি করেছেন আজহার হোসেন, ১৯৯০ সালের ২৮ এপ্রিল।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন মেহরাব হোসেন অপি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৯৯৯ সালের ২৫ মার্চ।

ওয়ানডেতে প্রথম ৫ উইকেট নিয়েছেন আফতাব আহমেদ, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৪ সালের ৫ নভেম্বর।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি রান তামিম ইকবালের। তিনি ২০৭ ম্যাচে ৭ হাজার ২০২ রান করেছেন।
রানের মতো সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরিতেও শীর্ষে তামিম। ১৩ সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৪৭টি হাফসেঞ্চুরি আছে তামিমের।

ওয়ানডের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস লিটন দাসের। এ বছরের ৬ মার্চ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

ওয়ানডেতে সবেচেয়ে ভালো ব্যাটিং গড় সাকিব আল হাসানের। ২০৬ ম্যাচে ৩৭.৮৬ গড়ে সাকিবের রান ৬ হাজার ৩২৩।

গত বিশ্বকাপে ৬০৬ রান করে সাকিব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের কারও স্ট্রাইক রেটই ১০০ নয়। সবচেয়ে এগিয়ে থাকা সৌম্য সরকারে স্ট্রাইক রেট ৯৮.৫৭।

সবচেয়ে বেশি শূন্য রানে আউট হয়েছেন হাবিবুল বাশার, ১৮ ম্যাচে।

সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি মর্তুজা, ২১৮ ম্যাচে ২৬৯ উইকেট।

সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ, ৬৪টি।

সবচেয়ে বেশিবার ৫ উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। ২০১৫ সালে অভিষেক হওয়া কাটার মাস্টার ৫বার নিয়েছেন ৫ উইকেট।

সেরা বোলিং ফিগার মাশরাফির। ২০০৬ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে ১০ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট।

সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন মাশরাফি, ৮৮ ম্যাচে।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সফল অধিনায়কও মাশরাফি। তার নেতৃত্বে জয় ৫০টিতে এবং পরাজয় ৩৬টিতে। জয়ের হার- ৫৮.৫৩%।

বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মোট ১৪জন অধিনায়ক।

সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন মাশরাফি ও মুশফিক, ২১৮ ম্যাচ।

সর্বোচ্চ রানের জুটি তামিম-লিটনের। ২০২০ সালের ৬ মার্চ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিলেটে দুই ওপেনার ২৯২ রানের জুটি গড়েন।

সবচেয়ে বেশি ডিসমিসিয়াল করেছেন মুশফিকুর রহিম (২২৩)।

ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ মুখোমুখি সব দলকেই হারাতে সক্ষম হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি জয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ৭৫ ম্যাচে ৪৭ জয়।

রানের হিসেবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। ২০২০ সালের ১ মার্চ সিলেটে, ১৬৯ রানে বাংলাদেশের কাছে হারে জিম্বাবুয়ে।

উইকেটের হিসাবে বাংলাদেশের বড় জয় কেনিয়ার বিপক্ষে,  ৯ উইকেটে।

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ৩৩৩। গত বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৮ উইকেটে এই রান করেছিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ৫৮। ২০১১ সালের ৪ মে বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ২০১৪ সালের ১৭ জুন ভারতের বিপক্ষে এই লজ্জায় ডুবতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।

২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে প্রথমবারের মতো বহুজাতিক কোনও টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজে প্রতিপক্ষ ছিল স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

২০০৯ সালে ১৯ ওয়ানডে খেলে ১৪টিতে জয় পায় বাংলাদেশ। জয়ের হার ছিল ৭৩ শতাংশ। এটাই নির্দিষ্ট কোনও বছরে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য।

২০১২ ও ২০১৮ সালে ওয়ানডে ফরম্যাটে হয়েছিল এশিয়া কাপ। ওই দুই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ফাইনাল খেলে। বৈশ্বিক কোনও টুর্নামেন্টে এটাই বাংলাদেশে সেরা সাফল্য।

এই ৩৪ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে উপভোগ্য লড়াই। বিশেষ করে, ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ভারতের বিপক্ষে মুখোমুখি মানেই যেন বাড়তি উত্তেজনা!

সোনালীনিউজ/এইচএন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue