রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদের

বাজেটে আয়-ব্যয়ে বিশাল ফারাক

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৫ জুন ২০১৯, শনিবার ০৬:০৯ পিএম

বাজেটে আয়-ব্যয়ে বিশাল ফারাক

ঢাকা : প্রস্তাবিত বাজেটে (২০১৯-২০) আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বিশাল ফারাক রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

শনিবার (১৫ জুন) রাজধানীর বনানীতে জাপার কার্যালয়ে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, সরকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা করেছে। বাজেটের আক‍ার পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এবারের বাজেটে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে। বাজেটের রাজস্ব ব্যয় ও উন্নয়ন ব্যয় অর্জন করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

জাপার কো-চেয়ারম্যান বলেন, বাজেটে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা ঘাটতি অনেক বড়। সরকারকে এ অঙ্কের অর্থ রাজস্ব খাত থেকে আয় করতে হবে এবং নির্ধারিত খাতে ব্যয়ও করতে হবে। আয়ের ক্ষেত্রে আমাদের চাওয়া, তুলনামূলক অবস্থাপন্ন থেকে বেশি হারে রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ ও অল্প আয়ের লোকদের ঘাড়ে কম দায় চাপানো হোক। প্রত্যক্ষ কর যেমন আয়কর থেকে যতদূর সম্ভব রাজস্ব আদায় হোক ও পরোক্ষ কর থেকে কম অংশ আয়ের ব্যবস্থা করা হোক।

তিনি বলেন, আয়কর থেকে রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ও যে পদ্ধতির মাধ্যমে করা হবে বলা হয়েছে তা বর্তমান আয়কর বিভাগের অপর্যাপ্ত অবকাঠামো ও লোকবল ইত্যাদির কারণে প্রায় অসম্ভব, অনেক বিশেষজ্ঞের মতে। ফলে আয়কর থেকে মোট আদায়ের যে অংশ আশা করা যাচ্ছে তার থেকে অনেক কম আয় হবে আশঙ্কা আছে। একই কথা মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে, আয় ও ব্যয়ের মধ্যে একটি বিশাল ফারাক আছে, যা বাজেট ঘাটতি ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এ ঘাটতি মেটানোর জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে, ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ (৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি) + বিদেশি ঋণ ও সাহায্য (৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি) + ব্যাংকের বাইরে (সঞ্চয় পত্র ইত্যাদি) থেকে নেওয়া ঋণ (৩০ হাজার কোটি) টাকা।

ঘাটতি মেটাতে সরকার যখন আবার ব্যাংক ঋণের সাহায্য নেবে তা বিরাজমান সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে উল্লেখ করে কাদের বলেন, দেশে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সঙ্কট বেকার সমস্যা। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বাধা হোক এ ধরনের পদক্ষেপ যেকোনো ভাবেই পরিহার করতে হবে বলে মনে করি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাপার মহাসচিব ও সংসদ সদস্য (এমপি) মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা প্রমুখ।

সোনালীনিউজ/এমটিআই