শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬

বিপুল সম্ভাবনার পরও কার্বন বিক্রির উদ্যোগ নেই

বাণিজ্যে মিলবে ১৯ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার ০২:৩৮ পিএম

বাণিজ্যে মিলবে ১৯ হাজার কোটি টাকা

ঢাকা : দেশের বনাঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণের কার্বন বিক্রির সম্ভাবনা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে সংশ্লিষ্টরা এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাচ্ছে না। শিকাগো কার্বন মার্কেটের বর্তমান সর্বোচ্চ বাজারদর অনুযায়ী, বাংলাদেশ চাইলে ১৮ হাজার ৮১৬ কোটি টাকার কার্বন বিক্রি করতে পারে।

বিশ্বব্যাংক ও বন বিভাগের সমীক্ষা অনুযায়ী, পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনে রয়েছে ৫ কোটি ৬০ লাখ টন কার্বন। কার্বন বাণিজ্যে বনের কোনো ক্ষতিও হয় না। বিশ্ববাজারেও কার্বনের দাম বাড়ছে। অথচ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সম্পদ অটুট রেখেই এর ধারণকৃত কার্বন বিক্রির জন্য ২০০৯ সালে সুন্দরবনে ‘ফরেন কার্বন ইনভেন্টরি ২০০৯’ নামে যৌথ সমীক্ষা চালায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং যুত্তরাষ্ট্র সরকারের একাধিক সংস্থা। সমীক্ষায় গাছের সংখ্যা, ঘনত্ব, উচ্চতা, লতা ও গুল্ম এবং জৈব উপাদান মিলিয়ে ৫ কোটি ৬০ লাখ টন কার্বনের সন্ধান পায় বন বিভাগ। অথচ অর্থ ব্যয় করে এ সমীক্ষা করার পর ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও কার্বন বিক্রির জন্য আন্তর্জাতিক কার্বন স্টক মার্কেটে নিবন্ধন করা হয়নি। নিয়োগ দেওয়া হয়নি কোনো আন্তর্জাতিক ব্রোকার হাউজকে।

কার্বন নিঃসরণকারী শিল্পোন্নত দেশ এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোই কার্বন কিনে থাকে। বিশ্বব্যাংকের ফরেস্ট কার্বন ফ্যাসিলিটি তহবিল, যুত্তরাষ্ট্রের শিকাগো কার্বন বাজার ও লন্ডনের আন্তর্জাতিক কার্বন স্টক মার্কেটে এর কেনাবেচা হয়।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১০ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার সময় কার্বনের দাম কমে প্রতি টন ১০ ডলারে নেমে আসে। ২০১৭ সাল থেকে আবারো এর দাম বাড়তে শুরু করে। ২০১৮ সালের শেষ দিকে এর দাম টন প্রতি ১৩ ডলার থেকে ২৫ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে। কখনো কখনো এ দাম ৩ ডলারেও নেমে আসে। কখনো আবার ৪০ ডলারে গিয়ে ঠেকে।

২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি কার্বন বাজার সম্পর্কে বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সাল পর্যন্ত কার্বনের দাম প্রতি টন ৪০ থেকে ৮০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি টন কার্বনের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। জাতিসংঘের আওতায় ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত কিয়োটো প্রটোকল অনুযায়ী, কোনো উন্নয়নশীল দেশ তার বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং ধ্বংস হয়ে যাওয়া বনাঞ্চলে পুনর্বাসন করলে শিল্পোন্নত দেশগুলো বনজ সম্পদের কার্বন কিনতে পারবে। কোনো শিল্পোন্নত দেশ যে পরিমাণ কার্বন কিনবে, সেই পরিমাণ কার্বন নিঃসরণও করতে পারবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুন্দরবনে সবচেয়ে বেশি কার্বন মজুত রয়েছে বাইন, পশুর ও কাঁকড়া গাছে। সুন্দরি গাছ মাঝারি ধরনের কার্বন ধারণ করতে পারে। সুন্দরবনে ৬২ শতাংশ এলাকায় গাছের সংখ্যা বাড়ছে, গাছের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ বৃদ্ধিসহ চারা গজানোর পরিমাণও তুলনামূলকভাবে ভালো।

এদিকে জেগে ওঠা চরগুলোতে নতুন বনাঞ্চলও সৃষ্টি হচ্ছে যদিও গেওয়া ও কেওড়া গাছের কার্বন ধারণক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম। নেপাল ও ব্রাজিলসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ বিশ্ববাজারে কার্বন বিক্রি করছে। কিন্তু বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। সুন্দরবনের নানা প্রজাতির গাছের এ কার্বন ধারণ ক্ষমতা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে তুলে ধরার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে এ দেশ। এভাবে বঞ্চিত হচ্ছে বিশাল অর্থ প্রাপ্তি থেকে।

কার্বন বিক্রি ছাড়াও জাতিসংঘের অধীনে তৈরি ‘বনায়নের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো’ বা ‘রিডিউসিং ইমিশন ফ্রম ডিফরেস্ট্রেশন অ্যান্ড ফরেস্ট ডিগ্রেডেশনের (রিড)’ তহবিল থেকেও অর্থ পাওয়ার পথ খোলা আছে। কিন্তু বাংলাদেশ এসব ক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিতে পারছে না বলে দেশের জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন।

দেশের বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলেন, অতি কার্বন নির্গমনকারী শিল্পোন্নত দেশ ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে সুন্দরবনের কার্বন বিক্রি করা সম্ভব। শিগগিরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, বাজার পর্যবেক্ষণ করে দাম বাড়লে বিক্রি করা হবে। প্রাথমিকভাবে সুন্দরবনে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের আরো ১১টি বনের কার্বন ধারণক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির পরিকল্পনা আছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue