সোমবার, ১৭ জুন, ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬

বান্ধবীর বাড়ি বেড়াতে এসে শ্লীলতাহানির শিকার দুই বান্ধবী!

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৯ জুন ২০১৯, রবিবার ০৮:৪০ পিএম

বান্ধবীর বাড়ি বেড়াতে এসে শ্লীলতাহানির শিকার দুই বান্ধবী!

বাগেরহাট: জেলার শরণখোলায় ঈদে বান্ধবীর বাড়ি বেড়াতে এসে শ্লীলতাহানি ও মারধরের শিকার হয়েছে পিংকি (১৯) ও হাফিজা (১৫) নামের দুই বান্ধবী। এদের মধ্যে পিংকি আড়াই মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে। এ সময় জোরপূর্বক তাদের আপত্তিকর ছবি তোলার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় হামলাকারীদের বাধা দিলে তারা অপর বান্ধবী বেবী আক্তার, তার বাবা, মা, ভাবীসহ মোট ১১জনকে মারধর করে আহত করে। এদের মধ্যে পিংকি, হাফিজা ও সুমি আকতারকে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার মধ্য খোন্তাকাটা গ্রামের বাসিন্দা ও বেবীর বাবা মোশাররফ হোসেন বলেন, তার মেয়ে বেবী আকতার ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি গার্মেন্টেসে চাকরির সুবাদে ওই এলাকার অপর চাকরিজীবী পিংকি আকতার ও হাফিজা আকতার একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একত্রে বসবাস করেন।
ঈদে পিংকি ও হাফিজা বেবীর সঙ্গে তার গ্রামের বাড়ি মধ্য খোন্তাকাটায় বেড়াতে আসেন। এ সময় এলাকার বখাটে জসিম উদ্দিন ও সোহেলের নেতৃত্বে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম দর্জি, মিজান সরদার, ইয়াকুব মিস্ত্রি, স্থানীয় ইউপি সদস্য রোকেয়া বেগম ও গ্রাম পুলিশ ছগির হোসেনসহ ১০/১২জনের একটি দল শুক্রবার (৭ মে) রাত ৯টার দিকে মোশারেফ হোসেনের বাড়িতে যান। পরে পিংকি ও হাফিজাকে নষ্টা মেয়ে আখ্যা দিয়ে টেনে হিচড়ে খোন্তাকাটা বাজারের আনসার ও ভিডিপি ক্লাবে আটকে রাখে। পরে ওই বখাটেরা ক্লাবের দরজা জানালা বন্ধ করে তাদের মারধর ও শ্লীলতাহানি ঘটায়।

এসময় হাফিজা ও পিংকির আপত্তিকর ছবি তুলে ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করা হয়। বিষয়টি মোশাররফ হোসেন শরণখোলা থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে এবং শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রোকেয়া বেগম নীজেকে নির্দোষ দাবি বলেন, জসিম ও সোহেল শ্লীলতাহানি ঘটিয়েছে এবং আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য দুটি থাপ্পর দিয়েছি। এছাড়া গ্রামপুলিশ ছগির লাঠিচার্জ করেছেন।  

অপরদিকে, ঘটনার নেতদৃত্বদানকারী জসিম বলেন, নুরুল ইসলাম ও রোকেয়া দু’জনে তাদেরকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান এবং আমরা কোন টাকা দাবি করিনি। তবে নুরুল ইসলাম ওদের কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন।

তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এলাকার ইউপি সদস্য হাসানুজ্জামান জমাদ্দার, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এনামুল জমাদ্দার কবির ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা তরিকুল ইসলাম অপু মারধর ও শ্লীলতাহানির কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মোশারেফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সন্ত্রাসীরা মহিউদ্দিন বাহিনীর লোক বিধায় এখনও কোন বিচার হয়নি।

শরণখোলা থানার ওসি দিলীপ কুমার সরকার জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয় চেয়ারম্যান মিমাংসার কথা বলে উভয় পক্ষের দায়িত্ব নেন। উপযুক্ত বিচার না হলে মামলা নেয়া হবে।

সোনালীনিউজ/এমএইচএম

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue