রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬

বাবা বললেন সব কিছু গুছিয়ে রাখিস, মেয়ে বলল জামা কাপড় নিয়ে যাইয়ো

আদালত প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার ০২:০৬ পিএম

বাবা বললেন সব কিছু গুছিয়ে রাখিস, মেয়ে বলল জামা কাপড় নিয়ে যাইয়ো

বরগুনা: বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেফতারের পর কারাগারে থাকা ১৪ জন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করেছে পুলিশ। 

মামলার দিন ধার্য থাকায় মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে তাদের হাজির করা হয়।

আদালতে হাজিরের জন্য একটি প্রিজন ভ্যানে করে বরগুনা জেলা কারাগার থেকে প্রথমে ১৩ পুরুষ অভিযুক্তকে আনা হয়। এরপর একই ভ্যানে করে রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

প্রিজন ভ্যান থেকে নেমে আদালতে যাওয়ার পথে মিন্নির সঙ্গে দেখা হয় তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের। এ সময় মিন্নিকে তার বাবা কিশোর বলেন, ‘মিন্নি সবকিছু গুছিয়ে রাখিস।’

এ সময় মিন্নি তার বাবাকে বলেন, ‘তুমি যাওয়ার সময় জামা কাপড় নিয়ে যাইয়ো।’

এদিকে উচ্চ আদালত থেকে পাঠানো মিন্নির জামিনের আদেশ বরগুনার আদালতে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম।

তিনি বলেন, মিন্নির জামিনের আদেশ দুপুর ১২টার পর বরগুনার আদালতে পৌঁছেছে। আইনি প্রক্রিয়ায় মিন্নির জামিনের আদেশ বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া ও কিছু দাফতরিক কাজ শেষে বিকেল ৩টার দিকে মিন্নি কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।

এর আগে গত রোববার (১ সেপ্টেম্বর) রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয় পুলিশ। একই সঙ্গে রিফাত হত্যা মামলার ১ নম্বর আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। যার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে দেশে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয় রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে। কিন্তু মিন্নির শ্বশুর মামলার ১৮ দিন পর গত ১৩ জুলাই এই হত্যাকাণ্ডে মিন্নি জড়িত এমন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করার পর মামলাটির তদন্ত নাটকীয় মোড় নেয়। পরে এ মামলায় গ্রেফতার করা হয় মিন্নিকে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া সবাই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত ২ জুলাই এ মামলার প্রধান আসামি সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

সোনালীনিউজ/এইচএন