বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

‘বাবা হয়ে কি করে বলি মেয়ের গোপন কথা!’ 

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০১৭, বুধবার ০৬:৪৮ পিএম

‘বাবা হয়ে কি করে বলি মেয়ের গোপন কথা!’ 

ময়মনসিংহ: পুলিশের কনস্টেবল হালিমা বেগম ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার ব্যারাকে গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। আত্মহত্যার আগে তিনি এক এসআইকে অভিযুক্ত করে একটি সুইসাইড নোট লিখে যান। হালিমার বাবা গণমাধ্যমের কাছে তার মেয়ের আত্মহত্যার কথা তুলে ধরেছেন। 

বাবা হেলাল উদ্দিন আকন্দ জানান, চলতি মাসের দুই তারিখে ঘটনাটি ঘটে। ওর মৃত্যুর পর পাঁচ দিনের মাথায় আমরা যখন ওর মালপত্র আনতে যাই, তখন সেখানে লাগেজের মধ্যে একটি ডায়েরি ও দুই কপি কাগজ পেয়েছি। যেখানে রয়েছে মৃত্যুর রহস্য।

অনেক গোপন কথা আপনাদের বলতে হবে, কী করে যে এসব বলি - অনেকটা অসহায়ভাবেই বলেন হলিমার বাবা। তারপর তিনি জানালেন, হালিমা বেগম ডায়েরিতে লিখেছেন তাকে তার এক সহকর্মী, একই থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টর ধর্ষণ করেছেন।

আত্মহত্যাকারী পুলিশ কনস্টেবল হালিমার লেখা সুইসাইড নোট

তিনি আরো বলেন, কীভাবে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, সেটিও সে লিখেছে। তাকে বলা হয়েছিলো ইয়াবা বিক্রি করে এরকম এক মেয়ে আসামি ধরার জন্য মহিলা পুলিশ লাগবে। তাই বলে আমার মেয়েকে নিয়ে যায় মিজান। তারপর এই ঘটনা।

পুলিশের কর্মকর্তারা ঐ সাব-ইন্সপেক্টরকে মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম নামে চিহ্নিত করেছেন।

হালিমা বেগম তার ডায়েরিতে আরো লিখেছেন তিনি যখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ নিয়ে যান, সেটি তিনি গ্রহণ করেননি।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার আহমেদ জানিয়েছেন, আমার কাছে সে ধর্ষণের অভিযোগ করেনি। উল্টো মিজান আমার কাছে অভিযোগ করেছে যে হালিমা তাকে ব্ল্যাকমেইল করছিলো।

হালিমা বেগমের অভিযোগ তিনি কেন গ্রহণ করেননি, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একথা পুরো অসত্য। আমার কাছে সে কোন অভিযোগ করেনি।

এ ঘটনায় হালিমার বাবা বাদী হয়ে ঐ সাব-ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। এসআই মিজানুল বর্তমানে কারাগারে আছেন বলে জানিয়েছেন দেলোয়ার আহমেদ।

প্রসঙ্গত, গত ২ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে গৌরীপুর থানা ব্যারাকের একটি পরিত্যক্ত ভবনে গায়ে কেরাসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন হালিমা। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের নেয়ার পথে অবস্থার অবনতি ঘটলে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেদিনই সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হালিমার মৃত্যু হয়।

গত বছর শেষের দিকে কমনওয়েলথ হিউম্যান রাইটস ইনিশিয়েটিভ নামে একটি সংস্থার গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে পুলিশ বিভাগে কর্মরত নারী সদস্যদের মধ্যে ১০ ভাগের বেশি সদস্য যৌন হয়রানির শিকার হন।

সোনালীনিউজ ডটকম/ঢাকা/এআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue