বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান কিনছেন ডিসিরা

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০২:৪৯ পিএম

বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান কিনছেন ডিসিরা

ঢাকা : ধানের উপযুক্ত দাম না পাওয়ায় ধানক্ষেতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে দেশজুড়ে। এরই প্রেক্ষিতে কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান কিনেছেন সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসিরা।

রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের আরও কয়েকটি জেলায় সরকারি খাদ্যগুদামে এভাবে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে।

বোরো মৌসুমে সরকার প্রতিকেজি চাল কিনবে ৩৬ টাকা এবং ধান কিনবে ২৬ টাকা কেজিতে। কৃষকরা বলছেন, বরাদ্দ অপ্রতুল হওয়ায় এভাবে কিছু ধান বিক্রি করেও তাদের বিশেষ লাভ হচ্ছে না। তারপরও প্রশাসনকে পাশে পেয়ে তারা খুশি।

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) : প্রকৃত কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান কিনছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস ও খাদ্য অফিসের কর্মকর্তারা। বুধবার দুপুরে উপজেলার মনোহারপুর গ্রামের কৃষক মো. সেলিম হোসেনের বাড়ি থেকে শুরু হয় এ ধান ক্রয় কার্যক্রম। এদিন ১১ জন কৃষকের কাছ থেকে ৮৫ মণ ধান কেনা হয়। প্রতি কেজি ধান কেনা হয় ২৬ টাকা দরে।

উপজেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, কৃষকরা যাতে ধানের ন্যায্য দাম পান ও প্রকৃত কৃষক যাতে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারেন সেজন্য উপজেলা প্রশাসন যাচাই-বাছাই করে কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে দিয়েছেন। এবার এ উপজেলা থেকে ৩০৮ টন ধান কেনা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার ধান সংগ্রহে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী যাতে সুযোগ নিতে না পারে এজন্য কৃষকের বাড়ি গিয়েই ধান সংগ্রহ করছি আমরা। জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস বলেন, প্রকৃত কৃষকদের বাছাই করে তাদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। কোনো ভাবেই কোনো সিন্ডিকেট ধান দিতে পারবে না।

রাজশাহী : রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক গ্রামে কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান কিনেছেন। এ অঞ্চলের উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা মাঠে মাঠে গিয়ে কৃষকের ধান কাটার তদারকি করছেন। প্রশাসনের এসব তৎপরতার কারণে উত্তরের কৃষকদের মাঝে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে।

রাজশাহীর দুর্গাপুর এলাকার কৃষক মতিউল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি গুদামে ৩ টন ধান বেচে তাদের বিশেষ লাভ হচ্ছে না, তারপরও প্রশাসনকে পাশে পেয়ে আশা জেগেছে।’

জানা গেছে, মঙ্গলবার নাটোরের জেলা প্রশাসক মোহা. শাহরিয়াজ সদর উপজেলার দস্তানাবাদ এলাকায় ৩২ জন কৃষকের কাছ থেকে ৯৬ টন ধান কেনেন ১ হাজার ৪০ টাকা মণ দরে। একই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক সদর উপজেলার নয়াগোলা এলাকায় গিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা তদারকি করেন।

তানোরের পাঁচন্দর এলাকার আদর্শ কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে ধান কেনা হলেও এর বিশেষ প্রভাব পড়ছে না বাজারে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের বলেন, এ অঞ্চলে প্রচুর ধান হয়েছে। ফলে এসব জেলা থেকে ধান কেনার পরিমাণটা বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন।

শেরপুর (বগুড়া) : মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নে ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এসএম সাইফুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শেরপুর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. হারুন-উর-রশিদ, খামারকান্দি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবদুুল ওহাবসহ গ্রামের কৃষকরা।

প্রথম দিন খামারকান্দি ইউনিয়নের খামারকান্দি গ্রামের কৃষক আবদুস সালাম ও আবু সাঈদ এক টন করে দু’জন কৃষকের কাছ থেকে দুই টন ধান সংগ্রহ করা হয়। ন্যায্য মূল্যে ধান বিক্রি করতে পেরে খুশি হয়েছেন তারা।

এছাড়া উপজেলায় যেসব কৃষকদের কৃষি কার্ড রয়েছে তাদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চাষিদের দাবি অনুযায়ী বাজারের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি মূল্যে কেনা হচ্ছে এ ধান।

ভৈরব : ভৈরব খাদ্য গুদামে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে শহরের জগনাথপুর এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে এক টন ধান কেনার মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ভৈরব খাদ্য গুদাম কর্তৃপক্ষ এবার ১৮৪ টন ধান কিনবে এবং ১৭৯০ টন চাল কিনবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলম শরীফ খান জানান, কৃষকদের তালিকা তৈরি করতে একটু বিলম্ব হলেও প্রকৃত কৃষকরাই ধান দেবেন সরকারি গুদামে।

জয়পুরহাট : বুধবার থেকে জয়পুরহাটে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চলতি মৌসুমের বোরো ধান সংগ্রহ শুরু হয়েছে। দুপুরে শহরের রেল স্টেশনসংলগ্ন সরকারি এলএসডি খাদ্য গুদামে এ ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

জয়পুরহাট সদর উপজেলা ধানচাল সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এসএম সোলায়মান আলী, সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুস সাত্তার মণ্ডল, সদর খাদ্য গুদামের সংরক্ষক প্রমুখ।

সভায় জানানো হয়, ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সদর উপজেলায় ৫ হাজার ৫৮৬ টন চাল ও ৪৮০ টন ধান সংগ্রহ করা হবে।

নাগরপুরে (টাঙ্গাইল) : নাগরপুরে সরকার নির্ধারিত এক হাজার চল্লিশ টাকা মণ দরে বোরো ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ এ উদ্বোধনের আয়োজন করেন।

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সৈয়দ ফয়েজুল ইসলামের সভপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল-৬ ( নাগরপুর-দেলদুয়ার) সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু। আরও বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুস ছামাদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসমিন মনিরা প্রমুখ।

মহম্মদপুর (মাগুরা) : বুধবার দুপুরে উপজেলার এলএসডিতে খাদ্যশস্য সংগ্রহের উদ্বোধন করেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শ্রী বীরেন শিকদার।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসিফুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু আবদুল্লাহেল কাফি, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এসকে নুরুজ্জামান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত আলী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বেবী নাজনীন প্রমুখ।

সোনালীনিউজ/এমটিআই