বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

বায়ুদূষণে বছরে দেশে মারা যায় পৌনে ২ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৩ জুন ২০১৯, রবিবার ০২:০৫ পিএম

বায়ুদূষণে বছরে দেশে মারা যায় পৌনে ২ লাখ মানুষ

ঢাকা : বায়ুদূষণে বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় পৌনে দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এশিয়ায় এ সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখ। আর বিশ্বজুড়ে প্রতি ৮ জনের মধ্যে ১ জনের মৃত্যুর কারণ এই বায়ুদূষণ।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে শনিবার (২২ জুন) আয়োজিত এক সেমিনারে পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য জানান। ‘আসুন, বায়ুদূষণ রোধ করি’ স্লোগানে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিবেশ অধিদপ্তর মিলনায়তনে ‘বায়ুদূষণ ও করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), ওয়াটার কিপারস বাংলাদেশ, ইকো সোসাইটিসহ ১০টি পরিবেশবাদী সংগঠন এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেসরকারি স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্যাসিফিক অঞ্চলের তিনজনের মধ্যে দুজনের মৃত্যু বায়ুদূষণের কারণে।

‘প্রতি বছর এশিয়ায় মৃত্যু হয় প্রায় ২৬ লাখ মানুষের। বিশ্বে ৮ জনের মধ্যে ১ জনের মৃত্যুর কারণও এটি। আর শুধু বাংলাদেশেই প্রতি বছর মারা যায় প্রায় এক লাখ ৭৫ হাজার মানুষ। এ ছাড়াও যে ১০টি রোগের কারণে বাংলাদেশে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, তার মধ্যে পাঁচটিই বায়ুদূষণজনিত রোগ।’

তিনি বলেন, পাকিস্তানের পর সবচেয়ে বায়ু দূষিত দেশ বাংলাদেশ, আর দিল্লির পর দূষিত শহর ঢাকা। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন শহুরে জনগণ এবং শিশু, দারিদ্র্য এবং বয়স্ক নাগরিকেরা।

বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আবদুল মতিন বলেন, চীনের একটি নীতি ছিল যে, আগে উন্নয়ন করি পরে দূষণ সামলাব। সরকার এমন কোনো নীতিই বাংলাদেশের জন্য নিচ্ছে কি না সন্দেহ হচ্ছে। উন্নয়ন করতে গিয়ে আমরা পরিবেশকে দূষিত করে ফেলছি। তবে চীন সেটা কাটিয়ে উঠতে পারলেও আমরা পারব না। তাই এমন নীতি হবে আমাদের জন্য আত্মঘাতী।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে কয়লাকে বলা হয় ‘ডার্টি ফুয়েল’। বিদেশি বিশেষজ্ঞরা গ্রাফ দিয়ে দেখিয়ে গেছেন, রামপালের ফলে যে বায়ু দূষিত হবে সেটি ঢাকা, নরসিংদীসহ কলকাতাও পৌঁছবে। আমরা সরকারকে দেখিয়েছি যে, আমাদের দেশে কয়লা ও পরমাণুভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র দরকার নেই। তবু সরকার তা শুনছে না।

প্রখ্যাত কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বাপার সহ-সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হক বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায় সবচেয়ে বেশি সরকারের। কারণ ব্যক্তি পর্যায় থেকে সরকারের পদক্ষেপে অথবা দূষণকারী ব্যক্তি পর্যায়ের কর্মকাণ্ডে সরকারের নির্লিপ্ততার জন্যই পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেলের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা ছিলেন না।

সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ কে এম রফিক আহম্মদ পরিবেশ সুরক্ষায় নিজ অধিদপ্তরের নানান পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, পরিবেশ ও বায়ুদূষণের বিভিন্ন সোর্স আমরা চিহ্নিত করেছি এবং সেগুলোকে আইনের আওতায় এনেছি। আগে বায়ুদূষণের সবচেয়ে বড় সোর্স ছিল ইটভাটা। এখন সেটি নেই। এখন হচ্ছে যানবাহন ও কারখানা।

‘প্রায় ৭১ শতাংশ ইটভাটাকে আমরা পরিবেশবান্ধব করেছি অথবা কম দূষণের তালিকায় নামিয়ে আনতে পেরেছি। দেশের ৩৩টি জেলায় এখন পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয় আছে, প্রতিটি জেলায় পরিবেশ আদালত আছে। তবে এটা ঠিক যে, আমাদের আরো কাজ করার আছে।’

সভায় অন্যদের মধ্যে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। এর আগে অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামানের লেখা ‘সমসাময়িক পরিবেশ ভাবনা’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

সোনালীনিউজ/এমটিআই