শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, সাংবাদিক আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার ১১:২০ পিএম

বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর, সাংবাদিক আহত

ঢাকা : মনোনয়ন না দেয়ায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছেন দলটির তিনজন নেতার সমর্থকরা। সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার ও গোপালগঞ্জের সেলিমুজ্জামান সেলিমের কয়েক হাজার সমর্থক শনিবার বিকালে এই হামলা চালিয়েছে।

শনিবার (৮ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ৫টার দিকে কার্যালয়ের সামনে এসে ঢিল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিক্ষোভ করেন তারা। এসময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা ওই কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সংবাদ সংগ্রহে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গিয়ে আটকা পড়া জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সুমন মাহমুদ জানান, কয়েক হাজার নেতাকর্মী এসে বিএনপি কার্যালয় ঘেরাও করে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কার্যালয় লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে। কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে তারা। তাদের ছোড়া ইটের আঘাতে কার্যালয়েল জানালার কাঁচ ভেঙেছে।

গুলশান কার্যালয়ে হামলা-ভাংচুরের আগে গতকাল দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করেন কারাবন্দি এহছানুল হক মিলনের কর্মী-সমর্থকরা। পরে তারা সেখানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে দেখা করে ক্ষোভের কথাও জানান।

প্রসঙ্গত, এহছানুল হক মিলন চাঁদপুর-১, তৈমুর আলম নারায়ণঞ্জ-১ এবং সেলিমুজ্জামান গোপালগঞ্জ-১ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। চাঁদপুর-১ আসনে সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মিলনকে না দিয়ে এবার বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে মোশাররফ হোসেনকে।

বিক্ষুব্ধদের একজন আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কচুয়া থেকে মিলনকে চাই। যাকে দেওয়া হয়েছে সে একজন আদম ব্যাপারী। ৩৩ বছর তাকে এলাকায় দেখিনি। এলাকার লোকজনের সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই। সে মনোনয়ন পায় কীভাবে?’ এবাদুর রহমান নামে অপর আরেকজন অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ‘এহছানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে সরকার ৩৩টি মামলা দিয়েছে। সে তার সব কিছু ত্যাগ করেছে দলের জন্য। কিন্তু তাকে মনোনয়ন না দিয়ে টাকা খেয়ে একজন ভুয়া লোককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমরা এটা মানব না।’

এদিকে, মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে ক্ষোভ-হতাশা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে খোন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুও। গত শুক্রবার বিকালে তার এলাকা মানিকগঞ্জ-১ আসনে এসএ জিন্নাহ কবিরকে চ‚ড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার পর রাতেই ছোট বোন দেলোয়ারা বেগম পান্নাকে নিয়ে গুলশানের এই কার্যালয়ে আসেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের বাধা পেয়ে কেঁদে ফেলেন দুই ভাই-বোন। ডাবলু অনুসারীরা এসময় হৈ চৈ করেন।

নয়াপল্টনে মনোনয়ন বঞ্চিতদের তালা : রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন বঞ্চিতরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শনের মধ্যে কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করছেন বঞ্চিতদের সমর্থকেরা।

শনিবার (৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ায় তার সমর্থকরা বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা একপর্যায়ে তারা কার্যালয়ের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। তাদের অভিযোগ, ওই আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে মালয়েশিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেনকে। সমর্থকরা বলেন, দীর্ঘদিন এলাকায় রাজনীতি করলেও তারা মোশারফ হোসেন নামে কাউকে চেনেন না।

এছাড়া রাজবাড়ী-১ ও রাজবাড়ী-২ থেকে খৈয়ম ও সাবুকে বিএনপির মনোনয়ন দেয়ায় তৃনমূল বিএনপি বিক্ষুব্ধ হয়ে তাদের গাড়ী ভাংচুর করে ও ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং তৃণমূল বিএনপি তাদের দলীয় মনোনয়ন পরিবর্তন চায়। এছাড়া গোপালগঞ্জ-১ আসনে এফ ই সরফুজ্জামান জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেয়ায় তৃণমূল বিএনপি বিক্ষুব্ধ হয়ে সরফুদ্দিনকে লাঞ্চিত করে প্রতীক বরাদ্দের কাগজ কেড়ে নিয়ে ছিড়ে ফেলে। এছাড়া খন্দকার দেলওয়ারের পুত্র আব্দুল হামিদ ডাবলুকে বিএনপির মনোনয়ন না দেয়ায় তৃণমূল বিএনপি বিক্ষুব্ধ হয়ে গুলশান পার্টি অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

আমাদের গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, আওয়ামী লীগের শক্তিশালী অবস্থান থাকা গোপালগঞ্জে প্রার্থী বাছাই নিয়ে বিএনপিতে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ বিক্ষোভ। জেলার দুটি আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে বিক্ষোভে নামে দলের একাংশ। গত  শুক্রবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর  গোপালগঞ্জ-১ আসনে এফ ই সরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর ও গোপালগঞ্জ-২ আসনে সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে প্রার্থী ঘোষণা করেন। এরপরেই বিক্ষোভে নামে মনোনয়ন বঞ্চিত নেতাদের সমর্থকরা। দ্বিতীয় দিন গতকাল শনিবারও অব্যাহত থাকে তাদের প্রতিক্রিয়া।

গতকাল শহরের চৌরঙ্গী থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে স্থানীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে চ‚ড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া দলের দুই নেতার কুশপুতুল বানিয়ে তা পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

বিক্ষুব্ধরা গোপালগঞ্জ-১ আসনে সেলিমুজ্জামান সেলিম ও গোপালগঞ্জ-২ আসনে কে এম বাবরকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। গোপালগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মনসুর আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান পিনু, জেলা যুবদলের সভাপতি সিকদার শহীদুল ইসলাম লেলিন, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন লিপটন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফজলুল কবীর দারা, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হীরা, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি তৌফিকুল ইসলাম প্রমুখ বিক্ষোভে অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জে বিএনপি কখনো নির্বাচনে ভালো করতে পারেনি। প্রায় প্রতিবার তাদের প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সবশেষ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রতিদ্ব›িদ্বতাই গড়তে পারেনি বিএনপি।

সোনালীনিউজ/এমটিআই