শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

কখনো আপস করবেন না খালেদা

বিএনপির বিজয়ীরা বিসর্জনেও প্রস্তুত

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০২:০৯ পিএম

বিএনপির বিজয়ীরা বিসর্জনেও প্রস্তুত

ঢাকা : বিএনপি থেকে বিজয়ী ছয় সংসদ সদস্যের শপথ এবং সংসদে যোগদানের বিষয়টি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। তাদের নিয়ে আলোচনা মন্ত্রিপরিষদ থেকে পল্লীর চায়ের দোকান, রাজনৈতিক বোদ্ধা থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকের মধ্যে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে মুখরোচক শিরোনাম প্রকাশিত হচ্ছে নিত্যদিন।

শপথ ও সংসদে যোগদানের বিনিময়ে তাদের দলীয় প্রধানের মুক্তির গুঞ্জন চারদিকে চাউর। ঘরে-বাইরের সর্বোচ্চ চাপ আছে তাদের প্রতি। আছে মামলা ও বহিষ্কারের খড়্গও। শেষ পর্যন্ত কী করবেন তারা? দলীয় নীতিনির্ধারকরাইবা কী নির্দেশনা দিয়েছেন? সিদ্ধান্ত নিতে হাতে সময় মাত্র ১২ দিন।

বিএনপি থেকে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের মধ্যে একাধিকজন সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কথা জানিয়েছেন। কেউ বলছেন, বিজয়ী হয়ে পরাজিতদের থেকে বড় ধরনের মুসিবতে আছেন। কারো ভাষ্য, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এখন হুমকির মুখে। সঙ্গে আছে প্রতিপক্ষের রোষানলও।

তবে সব ছাপিয়ে দলীয় প্রধান, দল ও দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে বড় ধরনের ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত আছেন তারা। অর্থ, শ্রম, কাঠখড় পুড়িয়ে, নেতাকর্মীর রক্ত ঝরিয়ে যে বিজয় অর্জন করেছেন শপথ না নিয়ে তা বিসর্জন দেওয়ার মতো প্রস্তুতিও তাদের আছে। সব হারিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তকেই প্রাধান্য দেবেন তারা।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইতোমধ্যে গণমাধ্যমকে অবহিত করেছেন, পহেলা বৈশাখের সাক্ষাৎকালে খালেদা জিয়া জানিয়েছেন- তিনি প্যারোলের কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে অনেক অসত্য খবর প্রকাশিত হয়েছে বলেও মির্জা ফখরুলের দাবি।

সাজাপ্রাপ্ত হয়ে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।

এদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. এমাজউদ্দীন আহমদবলেন, আমি খালেদা জিয়াকে যতদিন চিনি, বিশেষ করে ৯০-এর গণআন্দোলন, ওয়ান ইলেভেনসহ বিভিন্ন খারাপ সময়ে তিনি কখনোই আপস করেননি। এখনো আগের অবস্থানেই আছেন। তিনি বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন কিনা তা নিতান্তই তাদের ব্যাপার। তবে যার নেতৃত্বে রাজনীতি, দলীয় পতাকা নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন তার সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়াই সঠিক হবে বলে মনে করেন এই রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, প্রায় তিন যুগ ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করছি। তার মনমানসিকতা, কঠোরতা ও ত্যাগ সম্পর্কে যতটুকু জানি তাতে দেশ ও দেশের মানুষকে ফেলে তিনি বিদেশে যাবেন না। আপসহীন খ্যাতিকে জলাঞ্জলি দিয়ে মিথ্যা সাজাকে মেনে নিয়ে প্যারোলেও যাবেন না।

গত ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে বিএনপির ছয় প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তারা হলেন- বগুড়া-৬ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বগুড়া-৪ আসনে মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মো. হারুন উর রশীদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আমিনুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুর রহমান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া।

আগামী ২৯ এপ্রিলের মধ্যে বিজয়ীরা শপথ না নিলে সংবিধান ও নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুসারে জাতীয় সংসদের ওই ছয়টি আসন শূন্য হয়ে যাবে। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে উপনির্বাচন।

গত সোমবার গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে মির্জা ফখরুল ইসলামসহ বাকি পাঁচ নির্বাচিত এমপি বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরেন। শপথ প্রসঙ্গেও আলোচনা হয় সেখানে।

বগুড়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, বৈঠকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের সিদ্ধান্তে আমরা যা করব, সবাই একসঙ্গেই করব। দলের বাইরে আমরা কিছু করব না। এর বাইরে গিয়ে কোনো কিছু করার প্রশ্ন্নই আসে না। আমি বিএনপি করি বলেই সারা বাংলাদেশে বিএনপির ছয়জনের একজন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। নেত্রী খালেদা জিয়া আজকে জেলে, একজন বয়স্ক মানুষ, এক ছেলে মারা গেছেন। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশ ছেড়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তারা যদি এত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তাহলে আমি কেন পারব না? দল যা বলবে, সেটাই করব; দলের বাইরে কিছু করব না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. হারুন উর রশীদ বলেন, দুঃসময়ে আমরা নির্বাচিত হয়ে এসেছি। দলীয় প্রতীক নিয়ে। তাই দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করব না।

সোনালীনিউজ/এমটিআই