বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯, ২৯ কার্তিক ১৪২৬

বিএনপি থেকে এক লাফে আ.লীগের বড় নেতা ঘোড়া মালেক

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার ০১:০০ পিএম

বিএনপি থেকে এক লাফে আ.লীগের বড় নেতা ঘোড়া মালেক

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম কর্ণফুলী থানা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মালেক প্রকাশ ‘ঘোড়া মালেক’ কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের বড় আওয়ামী লীগার বলে তৃণমূলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে ।

 

তার বিরুদ্ধে স্থানীয় আওয়ামী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তিনি দলে প্রবেশ করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বহু নেতাদের সাথে ছবি তোলে নানা সুযোগ সুবিধা ভোগ ও দাপট দেখিয়ে যাচ্ছেন। যে সব ছবি ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

 

বিএনপির থানা কমিটি সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৩রা নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি,এন,পি) কর্ণফুলী থানা শাখার ৭১ সদস্য বিশিষ্ট প্রকাশিত কমিটির ১১নং ক্রমিকে সংগঠনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ছিলেন জুলধার আলোচিত এই আবদুল মালেক। যদিও সময়ের ব্যবধানে তিনি আজ কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য। যিনি ঘোড়া মালেক নামে সুপরিচিত।

নিজের প্রয়োজনে সাপ ও খোলস পাল্টায় মানুষ আর বৈকি! রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে দলবদল দেশের রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। নীতি-আদর্শের কথা ভুলে ফায়দা লুটতে অতীতে অনেকেই যোগ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলে। শুধু কর্ণফুলীতে নয়; তার ইতিহাস ভুরি ভুরি।

এক দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেওয়ার এই প্রক্রিয়া দৃশ্যমান কর্ণফুলীতে একটু বেশি হচ্ছে। যে প্রক্রিয়ায় নিজ দল ছেড়ে ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেওয়া হচ্ছে তাকে আর দলবদল বলা যায় না। বলা যায়, অনুপ্রবেশ। যদিও বিএনপি ও জামায়াত-জাপা শিবির ছেড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ শুরু হয় ২০০৯ সালে।

২০১৫ সালের ৮ নভেম্বর গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘জামায়াত-শিবির ও বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে নয়।’ কিন্তু তার পরও অনুপ্রবেশ যেনো থেমে নেই। নানা প্রক্রিয়ায় জামায়াত-শিবির-বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশের পর অনেকে পদ-পদবি বাগিয়ে নিচ্ছেন। জুলধার আবদুল মালেক হয়তো তার ব্যতিক্রম নয়!

শুধু কি সুপরিচিত ঘোড়া মালেক? কর্ণফুলীতে একাধিক নাশকতা মামলার আসামিরাও আওয়ামী লীগ এবং দলের অঙ্গসংগঠনে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ধীরে ধীরে তাঁদের মামলাগুলো অন্তরালে চলে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তদবিরে অনেকে আবার মামলার চার্জশীট হতে বাদ গেছেন ও যাচ্ছেন।

অনুপ্রবেশ হিসেবে কর্ণফুলীতে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে-বিএনপির বহু নাশকতা মামলার আসামী জয়নাল (যিনি কর্ণফুলী থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক চৌধুরী মুচলেখায় থানা হতে ছাড়িয়ে নেন), এছাড়া জাপার ছাত্রসমাজ হতে আগত এএইচ আবিদ, বিএনপি নেতা হাজী ইউসুফ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের পুনার্ঙ্গ কমিটিতে স্থান পাওয়া ছাত্রদল নেতা দিদারুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা মনির, ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি সাঈদ খাঁন আরজু, মুহাম্মদ বেলাল, মনসুরসহ আরো অনেক।

স্থানীয় আওয়ামী সমর্থকরা এসব দেখে বলছেন, ‘অনুবেশকারীরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে নয় বরং অনেকেই এখন গা বাঁচাতে আওয়ামী লীগের ওপর ভর করেছে। যারা সুযোগ বুঝে রং পাল্টাতে পারে। অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদরাসার পরিচালনা পর্ষদ থেকে পুরনো আওয়ামী লীগ নেতাদের সরিয়ে জামায়াত বিএনপি নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু সম্প্রতি কর্ণফুলী উপজেলার টক অব দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে আবদুল মালেক প্রকাশ ঘোড়া মালেকের ভাইরাল হওয়া ছবিটি। অনেকে তাকে হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী কিংবা থানা বিএনপির সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক বলে প্রচার করলেও তিনি কিন্তু নিজেকে বঙ্গবন্ধুর আর্দশের সৈনিক মনে করেন।

থানা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ মালেক হঠাৎ আওয়ামী লীগে দলবদল প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক (২০০৯ সালের কমিটি) ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিএনপি থেকে লোক বাগিয়ে নির্বাচনের সময় আ’লীগ শোডাউন করেছিল যেন বিএনপি নেতৃত্বে ও তৃণমূলের মনোবল ভেঙ্গে যায় কিন্তু তাদের ধারণা ভূল প্রমাণিত হয়েছে কারণ পরবর্তীতে বিএনপি আগের থেকে বেশী ঐক্যবদ্ধ ও মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে।’

আব্দুল মালেক প্রসঙ্গে টেনে জানতে চাইলে কর্ণফুলী থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি এহসান এ খান বলেন, ‘২০১৪ কিংবা ১৫ সালের কোন এক সময়ে তাকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ওর বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় জনিত সমস্যা ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে আব্দুল মালেক কে বিএনপি থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পরে সে আওয়ামী লীগে যোগ দিলো সেটা সবাই জানে।’

অভিযোগ রয়েছে, এক সময় দুবাই থেকে ফেরত এসে নিজের নামের সাথে এমবিএ যোগ করে  পোস্টারিং করেছিলেন (ইঞ্জিনিয়ার এমএ মালেক এমবিএ)। দলীয় অবক্ষয় ও ভূমিদস্যুতার অভিযোগে কর্ণফুলী থানা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার। নিজেকে কখনো এমবিএ আবার কখনো ইঞ্জিনিয়ার ডিগ্রি।

বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের উপজেলা আ’লীগের নেতা পরিচয় সর্বোপরি বিষয় উপস্থাপন করে জানতে চাইলে জুলধার আবদুল মালেক জবাবে বলেন, ‘আমি ৯৯ সালে দুবাই গিয়েছিলাম আসলাম ২০১৪ সালে। আমি দুবাইতে একটা ডিপ্লোমা কোর্স করি। আমার ৬টা পাসপোর্ট, ভিসা কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, দুবাই সরকারের বতাকা সব জায়গায় তা লেখা আছে। এগুলো ভুয়া কমিটি হাতে কলমে বানাই দিয়া আমাকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছিলো। আমি ৯৪ সালে এজে চৌধুরী কলেজে পড়েছি। আমার সার্টিফিকেট আছে। ২০১৪ সালে আমাকে বহিষ্কার করা হয় নি আমি নিজেই পদত্যাগ করেছি। ২০১৭ সালের ১৫ আগষ্ট দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে আমি আওয়ামী লীগে যোগদান করি। আমি তো আওয়ামী পরিবারের সদস্য লিখি কোন পদ পদবি লিখিনা ও কখনো চাইনি।’

এদিকে আওয়ামী লীগের অনেকে বলছেন ভিন্ন কথা। অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা যা-ই হোক, ওরা কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে এটা উদ্বেগজনক। কারণ জামায়াত ও বিএনপির জামায়াতপন্থীরা সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রবেশ করে। কারণ তারা বাইরে থেকে কিছু করতে পারেনি, এখন ভেতরে থেকে কিছু করতে চায়।’

সোনালীনিউজ/এএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue