মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে ইসির ব্রিফিং

বিচারকদের সব শক্তি ভোটের মাঠে প্রয়োগের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার ০৯:১৯ পিএম

বিচারকদের সব শক্তি ভোটের মাঠে প্রয়োগের নির্দেশ

ঢাকা : নির্বাচনি তদন্ত কমিটির কোনো কাজ এখনও পর্যন্ত চোখে না পড়ায় হতাশা প্রকাশ করলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নির্বাচনি মাঠে বিচারকদের সম্পূর্ণ শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কমিশনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কোনো কাজই বরদাশত করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনাররা।
 
প্রসঙ্গত, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের যেকোন অভিযোগ আমলে নিতে ২৫ নভেম্বর সারাদেশে বিচারকদের নিয়ে ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন। এই কমিটি একজন দায়রা জজ এবং একজন সহকারি জজ নিয়ে গঠিত। গঠনের ১০ দিন পর কমিটির সকল সদস্যকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফিং করে কমিশন। এসময় সিইসিসহ চার নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন তাদের সামনে। সব রকম চাপ উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তারা।

নির্বাচন কমিশনার  শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘কোনও রকমের ভয়ভীতি আপনাদের মধ্যে যেনো কাজ না করে। আর আপনাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন সবসময় পাশে আছে এবং পাশে থাকবে।’

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আপনাদের কার্যক্রম আমাদের মুখে হাসি আনতে পারে আবার আমাদের ভারাক্রান্তও করতে পারে। আপনাদের সার্বিক সহযোগীতা এবং আপনাদের প্রতিটা ক্ষেত্রে একেবারে যথাযথ কার্যক্রম আমরা প্রত্যাশা করি।’

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে সাজা না পায় বিচারক হিসেবে নির্বহ দৃষ্টি দিয়ে আপনাদের ব্যবস্থা নিতে আমি আহ্ববান জানাই।’

নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, ‘সব ধরনের রাগ অনুরাগের ঊর্ধ্বে থেকে একজন বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা আপনাদের আছে। সেজন্য এটা নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়ার কোনও প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমি মনে করি না।’

তবে, এই কমিটির কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সিইসি বিচারকদের সম্পূর্ণ শক্তি নির্বাচনি মাঠে প্রয়োগের নির্দেশ দেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, ‘সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে এবং পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে আপনারা মাঠে অবস্থান নেবেন। সব রকম সমস্যার মোকাবেলা করবেন। প্রার্থীদের মুখোমুখি থেকে এমন কি যারা আচরণবিধি যারা ভঙ্গ করবে তাদের মুখোমুখি থেকেও। নতুন একটি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্র আপনাদের সামনে অর্পিত হয়েছে। সেটাকে আপনাদের ভালোভাবে পালন করতে হবে।’

সিইসি আরও বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, ২৫ নভেম্বর যখন এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল- আমরা আশা করেছিলাম যে প্রত্যেকটি কমিটি  অন্তত ১২২টি অভিযোগ তদন্ত করার কথা ছিল। এটা আমাদের প্রত্যাশা ছিল। ১০০টা তদন্ত করার প্রত্যাশা ছিল, ১০০টা বাদ দিলাম, ২২টি তদন্ত করার প্রত্যাশা ছিল। তা হয়নি। কারণ সেটাই, এখন পর্যন্ত আপনারা প্রস্তুতি নিয়ে গুছিয়ে উঠতে পারেননি।

আজকে থেকে, এখান থেকে, আপনাদের কী করণীয়, দায়িত্ব এবং কিভাবে এই কমিটি পরিচালিত হবে জেনে শুনে, ফিরে গিয়ে তদন্ত করবেন। মানুষের অভিযোগগুলো শুনবেন, আমলে নেবেন এবং তাদেরকে রিলিফ দেবেন। যাতে তারা যাদের জায়গায় বসে, এলাকায় থেকে, ঢাকা পর্যন্ত না এসে আপনাদের কাছ থেকে, পাশে থেকে সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারেন।  

ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটিকে ইসির ব্রিফিং চলাকালে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue