বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯, ৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

বিজয়ের ধারাবাহিকতা চায় আ.লীগ

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার ০২:৩৪ পিএম

বিজয়ের ধারাবাহিকতা চায় আ.লীগ

ঢাকা : আগামী ২০২০ সালের আগে যথাসম্ভব শুদ্ধ রাজনৈতিক দল চায় আওয়ামী লীগ। নতুন বছর শুরুর আগেই দল ও দলের সহযোগী সংগঠনগুলোকে কেন্দ্রীয় সম্মেলন এবং শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে নতুন করে সাজিয়ে বিতর্কমুক্ত করার কার্যক্রমের বাস্তবায়ন চলছে।

এসব লক্ষ্যে পৌঁছাতে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশে দল ও সংগঠনে সাংগঠনিক শুদ্ধি অভিযান চলছে। নতুন বছরে ‘শুদ্ধ আওয়ামী লীগের’ পা রাখার মাসেই দলটি মুখোমুখি হচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের মুখোমুখি।

আগামী জানুয়ারিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হবে বলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ৫৩তম সভা শেষে রোববার (৩ নভেম্বর) ইসি থেকে জানানো হয়েছে।

নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরু হলে আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচিত দুই সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতির তথ্য উঠে আসে।

কয়েকজন কাউন্সিলরের অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্য পরিচালনা ও এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়। কয়েকজন অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন, অভিযুক্তরা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনেও আছেন।

অভিযানে সরকারি দলের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও অন্য সংগঠনের যেসব নেতা ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরের, যা দুই সিটি করপোরেশনেরও আওতাভুক্ত এলাকা। এমন পরিস্থিতিতে দল ও সরকার বিভিন্ন সমালোচনার শিকার হয়েছে।

চলতি বছর দুই ঢাকা সিটিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ, এতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়া, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতার বিষয়গুলোর কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের ভোটবাক্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে শীর্ষনেতাদের আশঙ্কা।

ফলে দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবার অনেক সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যাবে। প্রার্থী নির্বাচনে সৎ, যোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। তবে দুই সিটি করপোরেশনেই মেয়র পদে নতুন মুখের সম্ভাবনা বেশি। নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে জনপ্রিয় মুখ ও সামাজিকভাবে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দল। বিশেষ করে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ে জনপ্রিয়তা ও ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাসহ বেশকিছু বিষয়কে বিবেচনার কথা ভাবছে আওয়ামী লীগ।

বর্তমানের বেশিরভাগ কাউন্সিলরই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পাবেন না, এমনকি ওই নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরকে দলের সহযোগী সংগঠনের পদ থেকে বহিষ্কারেরও চিন্তাভাবনা চলছে। কাউন্সিলর পদেও বেশিরভাগ মনোনয়ন দেওয়া হবে নতুন ও জনপ্রিয়দের।

সিটি করপোরেশনে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে যারা দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে মূল্যায়ন করেননি, তাদেরকে সামনের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না।

দলীয় সূত্রমতে, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আগামী নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীদের বিজয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে দলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গত বেশ কয়েক মাস ধরে নানা চিন্তাভাবনা চলছে। আসন্ন ওই নির্বাচন নিয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ে নানা তৎপরতাও আছে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের আয়োজন হতে পারে, এমনটা ধরে নিয়ে দলের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন নির্বাচনের মাস নির্ধারিত হওয়ায় এর কর্মপরিকল্পনা ও কৌশল শিগগির অনুষ্ঠেয় দলীয় শীর্ষ কোনো বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে।

সূত্রমতে, প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিসহ দলটির নেতৃত্বের জোট ও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নেবে, ভোটের মাঠ ফাঁকা থাকবে না- এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন ক্ষমতাসীনরা। মেয়র পদে প্রার্থী বাছাইয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে জরিপ চলছে। জরিপের ফলের ভিত্তিতে জনপ্রিয়দের শিগগিরই ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হতে পারে।

মৌখিকভাবে একাধিকজন দলের পক্ষ থেকে ‘সবুজ সংকেত’ পেলেও ভোটের মাঠে দক্ষতা ও ভোটারদের আকৃষ্ট করার ক্ষমতা ইত্যাদি বিবেচনায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই চূড়ান্ত মেয়র প্রার্থী কে, তা জানানো হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই প্রার্থিতা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে।

যে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা দলের ও নেতাকর্মীদের কাছে থাকবে, যার বিরুদ্ধে কোনো অনৈতিক অভিযোগ থাকবে না, এমন প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

সোনালীনিউজ/এমটিআই