মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮, ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

বিদ্রোহীরা আপিল করায় দুশ্চিন্তায় আ.লীগ

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার ১১:৫৭ এএম

বিদ্রোহীরা আপিল করায় দুশ্চিন্তায় আ.লীগ

ঢাকা : আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র নানা কারণে বাতিল হওয়ায় দলের শীর্ষ পর্যায়ে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল। কিন্তু প্রার্থিতা ফিরে পেতে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করার খবর দলের জন্য অনেকটা দুশ্চিন্তার।

আপিলে মনোনয়নপত্র বৈধ হলে আর শেষ পর্যন্ত দলের বিদ্রোহী হিসেবে ভোটের মাঠে থেকে গেলে মূল প্রার্থীর জয়ে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। তাই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নজর এখন তাই বিদ্রোহী প্রার্থীদের আপিলের দিকে। দলের যেসব স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে, তাদের নিয়েও দলে উদ্বেগ আছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র জানায়, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল ও জোট মনোনীতদের বাইরে দলের ৯৫ জন নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হন। তাদের মধ্যে ৪৫ জন ইসির যাচাই-বাছাইয়ে অযোগ্য ঘোষিত হন। মনোনয়ন বাতিল হওয়া নেতাদের আপিল না করতে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা না মেনে বেশ কয়েকজন প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসিতে আবেদন করেন। আপিল করার কথা তারা গণমাধ্যমকেও আগেভাগে জানান।

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) আপিলের শেষ দিনেও কয়েকজন ইসিতে আবেদন করেন। তারা প্রার্থিতা ফিরে পান কি-না, সেদিকেই এখন নজর রাখছে আওয়ামী লীগ।

দলের শীর্ষ পর্যায়ের কেউ কেউ মনে করেন, মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ও যাদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের নিয়ে দল স্বস্তিতে আছে। কারণ, সহজেই ভোটের মাঠ থেকে তারা সরে গেলেন। দলের নেতাদের ধারণা, গণপ্রতিনিত্বি আদেশ অনুযায়ী বাতিল হওয়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগেরই প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এবার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পরও সব দলের মিলিয়ে আপিল করেননি ২৫২ জন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মহাজোটের প্রার্থীদের ছাড় দিয়ে যেসব সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ এবার প্রার্থী দেয়নি, সেসব আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর বেশ কয়েকজনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। ১৪ দলের শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া ১৩টি আসনের মধ্যে কয়েকটিতে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়নি। মাঠে দল-জোটের একক প্রার্থী রাখতে বিদ্রোহীদের স্বেচ্ছায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। সেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করাতে দলকে বেগ পেতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দেয়নি। আসনটি মহাজোটের শরিক ধর্মভিত্তিক একটি দল বা জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে। এ আসনেও আওয়ামী লীগের অন্তত ছয়জন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হলে চারজনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল করে ইসি। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মঈন উদ্দিন ও আশরাফ উদ্দিনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে ইসি।

একইভাবে পটুয়াখালী-১ আসন আওয়ামী লীগ ছাড় দেয় জাতীয় পার্টির পার্টিকে। এ আসন থেকে মহাজোটের বড় শরিক জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার প্রার্থী হলেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। আসনটিতে এখনো আওয়ামী লীগের প্রার্থী শাহজাহান মিয়া টিকে আছেন। এমন অবস্থা দেশের বেশ কয়েকটি সংসদীয় আসনে। এসব আসনের বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে বলা হচ্ছে, স্বেচ্ছায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে। নির্দেশ অমান্য করে কেউ প্রার্থী থাকলে তাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করার কথাও বলা হয়েছে।

অন্যদিকে দল ও জোটের একাধিক প্রার্থীর একজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া সংক্রান্ত তথ্য ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে জানাতে হবে ইসিকে। ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে এ সংক্রান্ত চিঠি দেয় ইসি। ১৭টি আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী আছে। যার নামে দল চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র বা প্রতীক বরাদ্দের চিঠি দেবে, তিনি বাদে অন্যদের মনোনয়নপত্র আপনাআপনি প্রত্যাহার হয়ে যাবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী না হওয়ার কড়া হুশিয়ার নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগেই দল থেকে দেওয়া হয়। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হবে। শীর্ষ নেতারা মনে করেন, মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ থেকে নেতারা এটা করছেন। আগামী ৮ ডিসেম্বরে এসব প্রার্থীকে গণভবনে ডেকে এনে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশ দেওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পর অনেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই