শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

বিদ্রোহী ইস্যুতে কৌশলী আ.লীগ

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার ০২:২৯ পিএম

বিদ্রোহী ইস্যুতে কৌশলী আ.লীগ

ঢাকা : সম্প্রতি অনুষ্ঠেয় উপজেলা নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বাহিরে অবস্থান নিয়েছিলেন সেই সব বিদ্রোহী প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করেছে দলটি। তালিকা অনুযায়ী খুব শিগগির সাংগঠনিক ব্যবস্থা বা শাস্তির কথা জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

তবে এর আগে অভিযুক্তদের অভিযোগের বিষয়ে যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দলের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে সামনে রেখে দলের শৃঙ্খলা আরো জোরদার করতে এমন কৌশল হাতে নিয়েছেন দলটি।

দলীয় সূত্র বলছে, অভিযুক্তদের মধ্যে সরাসরি বহিষ্কার হবেন কেউ কেউ।

অন্যদিকে, অপরাধ বিবেচনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাবে একটি অংশ। জবাব সন্তোষজনক না হলে তারাও বহিষ্কার হবেন। তবে কেউ যেন মিথ্যা অভিযোগের বলি না হয়, সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

পাঁচ ধাপে শেষ হওয়া ৪৭৩টি উপজেলার নির্বাচনে ১৪৯টিতে চেয়ারম্যান পদে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১৪০ জনই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাকে দলের বিদ্রোহী হিসেবে ধরে নেয় দলটি।

অভিযুক্ত দুই শতাধিক নেতার মধ্যে খুলনায় ৪১ জন, রাজশাহীতে ২০ জন, সিলেটে ৩২ জন, রংপুরে ২৬ জন, বরিশালে ১৭ জন, ময়মনসিংহে ২০ জন, ঢাকায় ৪৫ জন এবং চট্টগ্রামে ১৭ জনের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বিদ্রোহীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার অপরাধে ৬২ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে অভিযুক্তদের নানা অভিযোগ ক্ষতিয়ে দেখতে কাজ করছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নেতৃত্বে গঠিত আট বিভাগের আটটি টিম। এই টিম আগামী ২৭ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগ বিচার বিশ্লেষণ করবেন। পরবর্তীতে অপরাধ বিবেচনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে দল। এরই মধ্যে আমরা অভিযোগগুলো সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেয়া শুরু করেছি। যদি অভিযুক্ত কেউ সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকও হয়, তিনিও শাস্তির আওতায় আসবেন। ২৭ তারিখ পর্যন্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে ২৮ তারিখ থেকে সিদ্ধান্ত কার্যকরের দিকে যাব।

এদিকে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারনী একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢালাও ভাবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে না দল। তবে অপরাধ বিবেচনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। গুরুতর অপরাধের জন্য কঠোর এবং লঘু অপরাধে জন্য স্বল্প শাস্তি দেয়া হবে। তবে শর্ত সাপেক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাধারণ ক্ষমাও ঘোষণা করা হতে পারে। সেজন্য শোকজ নোটিশকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে করে শোকজের উপযুক্ত জবাব দিবেন বা অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণ করতে পারবেন তাদের শাস্তি মওকুফ করা হবে।

এদিকে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা সূত্রে জানা গেছে, বিদ্রোহী বা তাতে সমর্থন জানানো নেতারা এবারে দলীয় সহানুভূতি পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ে কঠোর মনোভব রয়েছে। ভবিষ্যতে দলীয় মনোনয়নের বাইরে গিয়ে যাতে কেউ নির্বাচন না করে সেজন্য এবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

শুদ্ধি অভিযানে আওয়ামী লীগ : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নতুন সদস্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এবার দলে অনুপ্রবেশকারীদের ঢুকতে দিতে নারাজ ক্ষমতাসীন দল এ দলটি। এখন আর কেউ ইচ্ছে করলেই হুট করে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করতে পারবে না।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে যেমন সত্যিকারের আওয়ামী প্রেমীদের স্থান দেয়া হবে, তেমনি অনুপ্রবেশকারীরা দলে তাদের সদস্য পদ আর নবায়ন করতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে দলের ভেতর-বাহিরে এমন দাবি উঠেছে, জনগণের কাছে যারা অগ্রহণযোগ্য, অসৎ, তাদের আওয়ামী লীগে কোনো প্রয়োজন নেই। তাই দলকে সম্পূর্ণ ক্লিন রাখতে এ উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে দলের ইমেজ নষ্টকারীদের বের করে সত্যিকারের আওয়ামী প্রেমী ও ইমেজধারীদের স্থান দিতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা।

অবশেষে রোববার (২১) জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে দলের প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ অভিযান। এ অভিযানকালে নতুন ভোটারদের দলের সদস্য করার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হলেও অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দেওয়ার বিষয়টিও সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।

যারা এর আগেই দলে ঢুকে পদ-পদবি বাগিয়ে নিয়েছেন, তাদের সদস্যপদ নতুন করে নবায়ন না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। দলের জেলা-উপজেলা কমিটিকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে কেন্দ্র থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন সদস্য সংগ্রহ শুরু এবং বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের বের করে ২১ শতকের সময়পযোগী করে দলকে গড়ে তোলা।

এদিকে, দলের ভেতর বহিরাগত অতিথি পাখিদের কোন সুযোগ সুবিধা দিতে ইচ্ছুক নয় দলটি হাইকমান্ড থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতারা। দলের জন্য নিবেদিতরাই এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করছে অনেকে।

ভোল পাল্টে বঙ্গবন্ধুর প্রেমের মিথ্যে দোহাই দিয়ে যারা দলে ভিড়েছে, অসময়ে তাদের হারিকেন জ্বালিয়েও খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে দাবি করছে দলটির অসংখ্য নেতাকর্মী।

সুবিধাবাদীরা দলে প্রবেশ করছে শুধুমাত্র ফয়দা লুটে নেয়ার জন্য। এরা আওয়মী লীগের আদর্শে বিশ্বাস করে না। এরা অতিথি পাখি। অবিলম্বে এদের দল থেকে বের করে দিতে হবে।

দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে আওয়মী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মেসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, বেশি বছর ক্ষমতায় থাকলে দলে সুবিধাভোগীর সংখ্যা যেমন বেড়ে যায়, তেমন অবাঞ্চিত যুদ্ধাপরাধী পরিবারের সদস্যরাও যে কোন উপায়ে ঢুকে পড়ে। এদেরকে কোন অবস্থায় দলে রাখা হবে না। এরা দলের জন্য অভিশাপ এবং বিতর্কিত নেতারা দলের বোঝা। অতএব এদেরকে দল থেকে বের করে দেয়া হবে। কোন অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দল আওয়ামী লীগে এদের রাখা হবে না।

যদিও এরা কিছু ঢুকে পড়েছে, তবে এদের সদস্য নবায়ন করা হবে না। এদেরকে দল থেকে বের করে দেয়া হবে।

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের আলোচনা একটি সভায় ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের সময় জোয়ারে অনেকেই আওয়ামী লীগ ও নৌকার পক্ষে মিছিল করেছেন। সবাইকে দল ধারণ করতে পারবে কি-না- সেটা ভাবতে হবে। চিহ্নিত সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ, স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক শক্তির কেউ আওয়ামী লীগের সদস্য হতে পারবে না। দুষ্ট গরুর থেকে শূন্য গোয়াল অনেক ভালো।

সোনালীনিউজ/এমটিআই