মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট, ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

বাজেট ২০১৯-২০২০

বিরোধী ভূমিকা পালনে ১৪ দলে ভিন্নমত

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার ১১:৫২ এএম

বিরোধী ভূমিকা পালনে ১৪ দলে ভিন্নমত

ঢাকা : একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনে ‘বিরোধী দলের ভূমিকা’ পালনে ১৪ দলের শরিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্নমত আছে। কয়েকটি দল বিরোধী দলের ভূমিকা পালনে রাজি হলেও বাকি দলগুলো আগ্রহী নয়। ভিন্নমত পোষণকারী দলের নেতারা সরকারের শরিক হিসেবেই সংসদে থাকতে চান। দলগুলোকে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকতে আওয়ামী লীগ প্রস্তাব দেওয়ার পরও সিদ্ধান্ত বদলায়নি।

ফলে বাজেট পেশের মতো সংসদের গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনেও ১৪ দলের শরিক কয়েকটি দলকে বিরোধী দলের ভূমিকা দেখা যাবে না। দলগুলো দলীয় বৈঠকে এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানায় জোটের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র।

সংসদে বিরোধী দল হতে অনাগ্রহী ১৪ দলের শরিক নেতাদের মতে, একই প্রতীকে ভোট করার পর এখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের বিরোধী দলে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন আছে। সরকারের চাওয়ামতো বিরোধী দলে গেলে আদর্শিক এ জোটের ঐক্য অটুট থাকবে না বলেও তারা যুক্তি দেখাচ্ছেন। এ যুক্তি আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের। কোনো কোনো দল বিরোধী দলের আসনে না বসলেও সংসদ প্রাণবন্ত করতে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনার পক্ষেও কাজ করতে চায়।

আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, বিএনপির নেতৃত্বের ঐক্যফ্রন্ট মাত্র পাঁচটি আসন নিয়ে বিরোধী দলে বসতে পারছে কি না, এ নিয়েও নানা তর্ক আছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে। আসন কম হওয়ায় ঐক্যফ্রন্ট বিরোধী দল হতে পারছে না বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। আবার বিএনপি ‘কমসংখ্যক আসনের বিরোধী দল’ হলেও প্রকৃত গণতান্ত্রিক ভূমিকা পালন করবে সংসদে, এ বিষয়ে আশ্বস্ত হতে পারছেন না সরকারি দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকে। ঐক্যফ্রন্টের এখন থাকা সাতটি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপির মাত্র পাঁচটি আর বাকি দুটি গণফোরামের।

এ পরিস্থিতিতে সংসদের বিরোধী দল ও মহাজোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের জোরালো ভূমিকা দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক মিত্র ও সমমনা হওয়ায় মহাজোটের শরিক দলগুলো সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হতে পারে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের কেউ কেউ।

১৪ দলের নেতৃত্বে থাকা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকার আজ বৃহস্পতিবার সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবে, যা আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম, দেশের ৪৮তম আর অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট। তাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবারের বাজেট অধিবেশনকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

দলটি চায়, মহাজোট ও ১৪ দলের শরিকরাসহ সংসদে থাকা সরকারবিরোধী দলগুলো বাজেটের গঠনমূলক সমালোচনা করে সংসদকে উত্তপ্ত করে তুলুক। বাজেটের প্রতিক্রিয়া জানাক গণতান্ত্রিক সমালোচনার ভাষায়।

১৪ দলের জোটের কয়েক নেতা জানান, শরিক দলের কোনো কোনো নেতাকে এবারের সংসদে ভিন্ন রকমে দেখা যেতে পারে। একই প্রতীকে ভোট করলেও বা সরকারের শরিক হলেও জোটের কয়েক নেতা সংসদে ‘প্রকৃত বিরোধী দলের ভূমিকা’ রাখতে চান। ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদ এবার সংসদে নানা জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সরকারের সমালোচনায় মুখর হতে চায়।

এর ফলে দীর্ঘদিন পর একটি কার্যকর ও উত্তপ্ত সংসদের আভাস দিচ্ছে এবারের বাজেট অধিবেশন। ঘুষ, দুর্নীতি, ঋণখেলাপি, ব্যাংক খাতে অস্থিরতা, কৃষকদের দুরবস্থা, ধানের সঠিক দাম নির্ধারণ, সদ্য শেষ হওয়া পবিত্র ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখা না-দেখা নিয়ে বিভ্রান্তি, নারী নির্যাতন ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তারা সরকারের সমালোচনা করবেন। পাশাপাশি এসব বিষয়ে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাবেন।

এবারের বাজেট গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে— এমনটাই ভাবছেন শরিকরা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাসস্থানসহ মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় সরকার ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তারা। দুর্নীতি প্রতিরোধ আর নিত্যপণ্যের দাম নাগালের মধ্যে রাখারও দাবি তাদের।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বাজেটে ঘুষ, দুর্নীতি, ঋণখেলাপি ও ব্যাংক খাতে নৈরাজ্য বন্ধে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার থাকতে হবে। তা না হলে সরকারের সব অর্জন নষ্ট হয়ে যাবে। বাজেটে অর্থমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের অর্থায়ন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

সোনালীনিউজ/এমটিআই