শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইফতারের আয়োজন করা হয় যেখানে

ধর্মচিন্তা ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৬ মে ২০১৯, রবিবার ১০:১৩ পিএম

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইফতারের আয়োজন করা হয় যেখানে

ছবি সংগৃহীত

ঢাকা: সৌদি আরবে মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববিতে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইফতারের আয়োজন করা হয়। এখানে গড়ে প্রতিদিন প্রায় লাখো মানুষ একসঙ্গে ইফতার করে থাকেন। পবিত্র রমজানে মুসলিম, অমুসলিম সব শ্রেণির বিদেশি শ্রমিকদের জন্য সৌদি আরবে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ ইফতার। রিয়াদের ৯১টি স্থানে জেদ্দায় ১৫০টি উন্মুক্ত ইফতার করানো হয় হাজার হাজার বিদেশি শ্রমিককে।

রমজানের আগে থেকেই সর্বত্র দেখতে সারি সারি তাঁবু টানিয়ে এগুলো রোজাদারদের ইফতার করানোর জন্য তৈরি করা হয়। রিয়াদে প্রতিদিন এমন ইফতারে শামিল হবেন ৩০ হাজারেও বেশি মানুষ। এ উদ্যোগের আয়োজক হলো বাদশা আবদুল্লাহ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর হিউম্যানিটারিয়ান সার্ভিসেস। সারা রমজানে মোট ১০ লাখ ইফতার বিতরণ করে এ সংস্থা। মধ্য প্রাচ্যের মধ্যে এটাই এমন সবচেয়ে বড় আয়োজন। এ প্রজেক্টের ব্যবস্থাপনা অফিস হলো ইন্টাস্ট্রিয়াল সিটি কালচারাল সেন্টার।

প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা শেখ ওয়ালিদ আল মারজুকি বলেন, প্রায় ২০ বছর আগে আমরা দিনে মাত্র ৫০০ মানুষকে অর্থাৎ এক মাসে মাত্র ১৫ হাজার মানুষকে ইফতার করাতে পারতাম। এখন প্রিন্স আমাদের উদ্যোগকে প্রশংসা জানিয়েছেন। আমাদের দিকে হাত প্রসারিত করেছেন। তার উৎসাহেই আমরা পবিত্র রমজান মাসে ১০ লাখ মানুষকে ইফতার করানোর পরিকল্পনা নিয়েছি।

এখানকার ইফতারে থাকে নানা ধরনের মুখরোচক খাবার। কোনাফা, ত্রোম্বা, বাছবুচান্ডর নামক নানা রকম হালুয়া ইত্যাদি।এ ছাড়া রয়েছে সাম্বুচা নামক এক ধরনের খাবার, যা দেখতে ঠিক সমুচার মতো, এটি মাংসের কিমা দ্বারা তৈরি। এটির আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে, এতে কোনো মরিচ থাকে না। এ ছাড়া থাকে সালাতা, যা হচ্ছে এক প্রকার সালাদ। এ ছাড়া থাকে সরবা, জাবাদি দই, লাবান, খবুজ (ভারী ছোট রুটি) বা তমিজ (বড় রুটি) খেপসা, তাছাড়া খেজুরের নানা রকম লোভনীয় আইটেম তো রয়েছেই।

রমজান আসার ১৫ দিন আগে থেকেই সৌদিতে রমজানের প্রস্তুতি শুরু হয়। রমজানকে ঘিরে চারদিকে পড়ে যায় সাজ সাজ রব। একে অন্যকে জানায় রমজানের অভিবাদন। বিভিন্ন রকমের হ্যান্ডবিল, লিফলেট, ছোট পুস্তিকা, সকাল-সন্ধ্যার দোয়ার ছোট কার্ড ইত্যাদি ছাপিয়ে মসজিদে মসজিদে বা ব্যক্তি পর্যায়ে বিতরণ করা হয়। আর এ ধারা অব্যাহত থাকে রমজানজুড়ে।

রমজানের আগে থেকেই এখানে সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায় সারি সারি তাঁবু। এগুলো রোজাদারদের ইফতার করানোর জন্য তৈরি করা হয়। আয়োজন করা হয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতার। আর মসজিদগুলোতে থাকে ইফতারের ব্যবস্থা। কারখানার শ্রমিকরাও পান উন্নতমানের ইফতার সামগ্রী। ইফতার সরবরাহ সওয়াবের কাজ। তাই আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে মক্কা নগরীর হাজার-হাজার মানুষ ছাড়াও পবিত্র ওমরাহ করতে আসা বিশ্বের অগণিত মুসলমানরা যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ইফতার সামগ্রী নিয়ে ছুটেন মসজিদে হারামে।

গত কয়েক বছর থেকে নতুন নিয়মে পবিত্র কাবা প্রাঙ্গনে ইফতারির আয়োজন করা হচ্ছে। যারা ইফতার সামগ্রী প্রদান করেন তারা সুপারভাইজার ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করবেন। তারা ইফতার সাজানো ও পরিষ্কারের দায়িত্ব পালন করবেন। মসজিদে হারামের প্রায় ৯০টি গেট দিয়ে রোজাদার মুসল্লিরা ধীরস্থীরভাবে প্রবেশ করছেন। সব ভোদাভেদ ভুলেএকসঙ্গে পাশাপাশি বসে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশে ইফতার গ্রহণের এ দৃশ্য বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায় না।

মক্কায় কাবার ইফতার আয়োজনে চেনা-জানার কোনো দরকার নেই, যাকে পাচ্ছে তাকেই অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলছে, ভাই! আসুন আমরা একসঙ্গে একটু ইফতার করি। এ ধরনের সম্বোধন করে যথেষ্ট সম্মানের সঙ্গে রোজাদারদের নিয়ে যাওয়া হয় ইফতার আয়োজনে। সৌদিয়ানরা রমজানের অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার পর ওমরা আদায়ে মনোযোগী হবেন এবং রমজানের শেষ দশকে হারামাইন শরিফে ইতিকাফের জন্য একত্রিত হবেন। এভাবেই ওমরা আদায় ও পূণ্য কাজের মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে রমজানের সিয়াম পালন করেন সৌদি নাগরিক ও প্রবাসীরা।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/জেডআই