শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯, ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ

বিশ্বে গড়ে আত্মহত্যা করছে ৮ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০২:০১ পিএম

বিশ্বে গড়ে আত্মহত্যা করছে ৮ লাখ মানুষ

ঢাকা : বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ। সারা বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ১০ অক্টোবর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই দিবস পালন করা হয়। দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও আত্মহত্যা প্রতিরোধ’।

দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে ৮ লাখ মানুষ আত্মহত্যা করছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কোনো পরিবারের একজন সদস্য আত্মহত্যা করলে ওই পরিবারের অবস্থা হয় ঝড়-পরবর্তী বিধ্বস্ত পরিস্থিতির মতো। ধীরে ধীরে পরিবারটি স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করে বটে কিন্তু শূন্যতা থেকেই যায়। বর্তমান বিশ্বে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে। এর বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এবারের মূল উদ্দেশ্য।

দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে আত্মহত্যা করে প্রায় আট লাখ মানুষ। অধিকাংশ আত্মহত্যাই প্রতিরোধযোগ্য। অধিকাংশ ব্যক্তিই আত্মহত্যার সময় কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত থাকেন। সাধারণত সেটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না বা মানসিক রোগ নিশ্চিত হলেও যথাযথ চিকিৎসা করা হয় না বলেই আত্মহত্যা বাড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মহত্যার এ হার কমিয়ে আনা সম্ভব বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, মানসিক রোগ প্রতিরোধে মনের যত্ন নেওয়া আবশ্যক। মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা অন্য সাধারণ রোগীর চেয়ে ভিন্ন ধারার চিকিৎসার পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক সমর্থনও এ ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে মাদকাসক্তি, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, নগরায়ণসহ পারিবারিক ও সামাজিক নানা অস্থিরতা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

জনগণের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে এ ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। অন্যান্য রোগের মতো মানসিক রোগেরও বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই ঝাড়ফুঁক বা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি পরিহারে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আগামী প্রজন্মকে মানসিকভাবে সুস্থ ও সুন্দরভাবে গড়ে তুলে একটি স্বাস্থ্যবান জাতি গঠনে সকলের সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত থাকবে— এ প্রত্যাশা করি।

অপরদিকে দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার ২০০১ সালে ঢাকায় শেরেবাংলানগরে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে, যা ছিল মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অগ্রগতিতে একটি মাইলফলক।

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মানসিক স্বাস্থ্যসেবাসহ সকল ধরনের স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং আপামর জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। দেশে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্র প্রসারিত করাসহ এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি সাইকিয়াট্রিস্ট, স্কুল সাইকোলজিস্ট, এডুকেশনাল সাইকোলজিস্ট, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, সাইকিয়াট্রিক সোশ্যাল ওয়ার্কার ও ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারসহ সকল মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের আত্মতহ্যা রোধে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করব। আমার প্রত্যাশা, দেশের প্রতিটি নাগরিক মাদকাসক্তি, মানসিক চাপ এবং আত্মহত্যা-ভাবনা পরিহার করে সুস্থ শরীর ও মন নিয়ে দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই