শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

বুয়েটের ২০১১ ও ২০০৫ নম্বর কক্ষ ছিল ছাত্রলীগের টর্চার সেল

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৯ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার ১২:২৪ পিএম

বুয়েটের ২০১১ ও ২০০৫ নম্বর কক্ষ ছিল ছাত্রলীগের টর্চার সেল

ঢাকা : বুয়েটের শেরে বাংলা হলে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের ১৭তম ব্যাচের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে।

শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে তাকে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। এরপরে তার লাশ ফেলে রাখা হয় ওই হলেরই সিঁড়ির মাঝে।

জানা গেছে, ২০১১ নম্বর কক্ষে থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা, উপদপ্তর সম্পাদক ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মুজতাবা রাফিদ, সমাজসেবা উপসম্পাদক ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ইফতি মোশাররফ ওরফে সকাল এবং প্রত্যয় মুবিন।

জানা গেছে, ২০১১ নম্বর কক্ষটি ছিল হল শাখা ছাত্রলীগের ঘোষিত টর্চার সেল।  এখানে তাদের বেধে দেওয়া নিয়মের একটু ব্যতিক্রম হলেই র‌্যাগিংয়ের শিকার হতো জুনিয়র শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, শুধু ২০১১-ই নয়, এছাড়াও শেরে বাংলা হলের ২০০৫ নম্বর কক্ষটিও ছিল ছাত্রলীগের টর্চার সেল। শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে এই এই দুই কক্ষে নির্যাতন করা হতো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ছাত্রলীগের মিছিল বা অনুষ্ঠানে অংশ না নিলে কিংবা রাজনৈতিক বড় ভাইদের কথা না শুনলে এই দুই রুমে এনে তাদের নির্যাতন করা হতো।

শিক্ষার্থীরা জানান, চড়-থাপ্পড়ের পাশাপাশি লোহার রড দিয়ে পেটানো হত তাদের। এ সময় উপস্থিত থাকতেন ২০০৫ নম্বর রুমের আবাসিক ছাত্রলীগ নেতা।

এ ব্যাপারে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি খন্দকার জামিউস সানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জানতেন না তিনি। নির্যাতনের অভিযোগ আসলে আরো আগেই ব্যবস্থা নেয়া যেত।  

প্রসঙ্গত, গত রোববার (৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে করা চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে পোষ্টা দেন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। সেই ঘটনার জেরে রাত ৮টার দিকে কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা তাকের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে  বেধড়ক পেটায়। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে ফাহাদ। পরে তাকে নিয়ে সিঁড়ির মাঝামাঝি স্থানে ফেলে দিয়ে আসে ছাত্রলীগ নেতারা। পরে রাত তিনটার দিকে অন্য শিক্ষার্থীরা বুয়েটের হলের আবাসিক চিকিৎসকে ডেকে আনলে তিনি ফাহাদকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণ ও  ব্যথায় ফাহাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।

এই ঘটনায় সোমবার (৭ অক্টোবর) রাতে ফাহাদ হ'ত্যার ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা বরকত উল্লাহ ঢাকার চকবাজার থানায় মামলা করেন।  মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ।

এ সময় চকবাজার থানায় করা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যাদের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে তারা হলেন- বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি মুস্তাকিম ফুয়াদ, সহ-সম্পাদক আশিকুল ইসলাম বিটু, উপ-দফতর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, উপ-সমাজকল্যাণ সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা, ক্রীড়া সম্পাদক সেফায়েতুল ইসলাম জিওন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, গ্রন্থনা ও গবেষণা সম্পাদক ইশতিয়াক মুন্না এবং খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির।

এদিকে মঙ্গলবার রাতে আলোচিত এই মামলার তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (ডিবি) ওপর নেস্ত করা হয়।
 
সোনালীনিউজ/এএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue