বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯, ৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

‘বেবো’ই এগিয়ে

বিনোদন ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার ০৩:০৩ পিএম

‘বেবো’ই এগিয়ে

ঢাকা : পারিবারিকভাবে তার নাম ‘বেবো’। তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন অভিনয়শিল্পী। পুরো ভারতবাসী তাকে চিনে কারিনা কাপুর নামেই। কখনো কলগার্ল, কখনো স্পাই, শেকসপিয়রের নাটকের নায়িকা বা গ্রামের শিক্ষিত মার্জিত মেয়ে অথবা সমাজকর্মী কিংবা মেডিকেল স্টুডেন্ট, এমন বহুবিধ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। প্রাণবন্ত অভিনয় দিয়ে বলিউডের মতো অভিনয় সাম্রাজ্যে নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন এ অভিনেত্রী। হয়ে উঠেছেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের শীর্ষস্থানীয় নায়িকাদের একজন। ২০০০ সালে বড়পর্দায় ক্যারিয়ারের শুরু করেন বেবো। সে সুবাদে ক্যারিয়ার প্রায় দুই দশক পূর্ণ করতে যাচ্ছেন এ অভিনেত্রী।

অভিষেক বচ্চনের বিপরীতে ‘রিফিউজি’ নামের একটি সিনেমা দিয়ে বলিউডের জমকালো দুনিয়ায় তার পথচলা। এরপর ‘কাভি খুশি কাভি গাম’, ‘জব উই মেট’, ‘উড়তা পাঞ্জাব’, ‘চ্যামেলি’, ‘ভীরে দি ওয়েডিং’ ও ‘থ্রি ইডিয়টস’সহ বেশকিছু সুপারহিট সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত থাকতে চান অভিনয়ের সঙ্গে। নিজেকে উজাড় করে দিতে চান চরিত্রের প্রয়োজনে। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে এমনটিই জনিয়েছেন তিনি।

এ সময় নিজের অভিনয় ক্যারিয়ার নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কারিনা বলেন, ‘মনে হচ্ছে এই তো সেদিন শুরু করেছি। এখনো চোখ বন্ধ করলে প্রথমবার নিজেকে বড় পর্দায় দেখার অনুভূতি আন্দাজ করতে পারি। কিন্তু সময়টা দেখতে দেখতে বিশ বছরে গড়িয়ে যাবে, সত্যিই ভাবিনি। আজ এমন সময় দাঁড়িয়ে, যেখানে নিজের কাছেই পুরো বিষয়টি বিস্ময়কর মনে হচ্ছে। এত লম্বা সময় পাড়ি দিলাম কি করে? এখন মনে হচ্ছে, আমি অভিনয় করার জন্যই জন্মেছি। কারণ, আমার সব আবেগ ও চিন্তা এ অভিনয় ঘিরেই। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, আমি চাইলেও অন্য কোনো কাজে এত ভালো করতে পারতাম না। তাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত অভিনয়ের সঙ্গেই থাকতে চাই।’

ফিল্ম ফেয়ারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত এ অভিনেত্রীর ক্যারিয়ারে খুব কম সংখ্যক সিনেমাই ফ্লপ হয়েছে। মূলত ‘অশোক’ ও রোমান্টিক ছবি ‘কাভি খুশি কাভি গাম’-এ অভিনেত্রীকে নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। যদিও এরপর বেশ কয়েকটি সিনেমা বাণিজ্যিকভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। তবে সেসব ফেলে কারিনা বরাবরই নিজেকে প্রমাণ করেছেন ইতিবাচক অভিনয়ের মধ্য দিয়ে।

২০০৪ ‘চামেলী’ সিনেমায় একজন যৌনকর্মীর চরিত্রে অভিনয় করে ভারতব্যাপী আলোড়ন তুলেছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে তিনি উইলিয়াম শেকসপিয়র রচিত ওথেলো নাটকের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত ‘ওমরকার’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ে করে অর্জন করনে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। সেই থেকে আবারো শুরু হয় তার নতুন পথচলা। পরপর তিনটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে ভূষিত হন এ অভিনেত্রী। তার অভিনীত ‘থ্রি ইডিয়টস’ বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যবসায় সফল সিনেমাগুলোর একটি। এ ছাড়া সুপারস্টার সালমান খানের বিপরীতে ‘বজরঙ্গী ভাইজান’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আবারো উঠে আসেন আলোচনায়।

বর্তমানে কারিনা সুপারস্টার আমির খানের বিপরীতে ‘লাল সিং চাড্ডা’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন। ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘তালাশে’র পর এই সিনেমাটির মধ্য দিয়ে তাদের আবারো একসঙ্গে দেখা যাবে।

এ প্রসঙ্গে কারিনা বলেন, ‘সিনেমাটি (লাল সিং চাড্ডা) আমার জন্য অনেক স্পেশাল। যদিও সিনেমাটি নিয়ে আমি এখনই কিছু বলতে চাচ্ছি না। আর আমির খানের সঙ্গে কাজ করা আমার কাছে সবসময়েই সম্মানের। সহকর্মী হিসেবে নয়, সাধারণ দর্শক হিসেবেই আমি তার বড় ভক্ত। তার কাজের মধ্যে একটা মমতা আছে। আমির বললে আমি কোনো কাজ ফিরিয়ে দেই না। যখনই তার সঙ্গে কাজের বিষয়টি আসে, আমি নিজের শতভাগ ঢেলে দেই। আর সেটে তার সঙ্গে কাজ করাটা ভারতের নায়িকাদের কাছে স্বপ্নের মতো।’

সোনালীনিউজ/এমটিআই