বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

বৈশাখের টানে মৃৎশিল্পের বাজারে ধুম

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০১৯, শনিবার ০৩:৩৪ পিএম

বৈশাখের টানে মৃৎশিল্পের বাজারে ধুম

ঢাকা : চৈত্রের কড়া রোদ পেরিয়ে দরজার কড়া নাড়ছে বৈশাখ। কড়া নাড়ছে বাঙালির প্রাণের বৈশাখ। বৈশাখ মানেই সৌখিন বাঙালির আমেজ আর উৎসবের দিগন্ত। দিনটি সকল বাঙালী জাতির ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণের দিন। দিনটি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নববর্ষ হিসেবে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়।

এই উৎসব শোভাযাত্রা, মেলা, পান্তাভাত খাওয়া, হালখাতা খোলা ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়। আর এই উৎসব পালনে বাঙালিরা তাদের অতীতের মৃৎশিল্পের ব্যবহারটা সৌখিনতার সাথে করে। ১৩ এপ্রিল চৈত্র, ১৪ এপ্রিল আসবে আমেজে মাখা বৈশাখ। প্রতিবারের মতো এবারও বৈশাখকে সামনে রেখে ব্যাপক কেনাকাটা করছেন সৌখিনরা।

পোশাক, ইলিশ পান্তার প্রস্তুতির সাথে সাথে মৃৎশিল্পের পণ্যের বাজারে ভিড় করছেন মানুষজন। রাজধানীর দোয়েল চত্বর, ধানমন্ডি, কারওয়ানবাজারসহ বেশকিছু এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে এসব মাটির তৈরি পণ্য। অন্যান্য বছরের তুলনায় দাম বেশী বলে ক্রেতাদের দাবি তবে বিক্রেতারা বলছে স্বাভাবিক। এর মধ্যে মাটির পণ্যের মধ্যে মাটির প্লেট ছোট বড় সাইজের ১৫০ থেকে ৮০ টাকা, গ্লাস ৪০/৫০ টাকা, মগ ৫০ টাকা, হাড়ি ছোট থেকে বড় ১৫০/২০০/২৫০ টাকা, শানকি বাংলা ৩০/৪০ টাকা, শানকি ১৮০ টাকা, বাটি ছোট-বড় ৫০/১৫০ টাকা, বড় বাটি ২০০ টাকা, কলস ১৫০/৮০ টাকা, ঝগ ১৫০/২০০ টাকা, কাপ-পিরিজ ৫০ টাকা, হারিকেন ১০০/২৫০ টাকা, হাতি ঘোড়া ৩০/৪০ টাকা।

এছাড়া বাশ, বেত, পাটের পণ্যও মিলছে, ঝুড়ি ১০০ টাকা, পাখা ৩০/৫০ ছোট কোলা ৪০ টাকা, একতারাতে একাধিক সাইজের ৫০ থেকে ৮০ টাকা, ডুগডুগি ৬০ টাকা।

গৃহিণী আফরোজা বেগম এসেছেন মাটির প্লেট গ্লাস কিনতে। তিনি বলেন, আমি প্রতি বছর বৈশাখে বিভিন্ন আয়োজনে কাটাই আর এসব মাটির তৈরি প্লেটে পান্তা ইলিশের স্বাদটাই অন্যরকম এজন্য বেশকিছু প্লেট আর গ্লাস কিনতে এসেছি।

ইলিয়াস হোসাইন নামের এক ক্রেতা বলেন, আমি এখান থেকে পাটের কয়েকটাসহ বেশকিছু মাটির তৈরি জিনিসপত্র কিনতে এসেছি, কিন্ত এসবের দাম বেশী।

বিক্রেতা মো: মামুন বলেন, মাটির সব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে আমাদের কাছে, প্রতিটি জিনিসেরই দাম সাধ্যের মধ্যেই। আমাদের বেচাকেনা চলছে তবে আবহাওয়ার কারণে এবার বিক্রি কম হচ্ছে।

রাকিব হাসান বলেন, দোয়েল চত্বরে মাটির তৈরি এসব জিনিস সারা বছরই পাওয়া যায়। এবার বৈশাখ উপলক্ষে এখানে এসেছি কিছু উপহারের জন্য জিনিস কিনব বলে। ব্যবহারের জন্য এসব তেমন কেনা হয় না বললেই চলে।

ঢাকা মহানগর মৃৎশিল্প সমিতির সভাপতি ইসমাইল হোসাইন মানিক বলেন, আমরা এবার সব ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দিয়েছিলাম, সারা বাংলাদেশে এরকম যতো পণ্যের সমাহার আছে তার সবকিছু সংগ্রহ করতে। ফলে অন্যান্যবারের তুলনায় এবার আরো আকর্ষণীয় পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। যা সংস্কৃতমনাদের নজর কাড়ছে। আর এসব সংগ্রহের পরিমান বেশী হওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই