শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

বোরো ধানের সোনালী ঝিলিক

ফিচার ডেস্ক   | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০৩:০২ পিএম

বোরো ধানের সোনালী ঝিলিক

ঢাকা: বাম্পার ফলন হওয়ায় বিরাজ হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে করছে বোরো ধানের সোনালী ঝিলিক। বোরো ধানের জমিতে শুধু পাকা ধান। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে নতুন ধান কাটা। তবে ধান ঘরে তুলতে বাঁধ সেজেছে শ্রমিক ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ। কিছুদিন পূর্বে জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টি। শ্রমিক সংকটের কারনে কৃষকদের ধান ঘরে তোলার স্বপ্ন পরিণত হতে পারে দুঃস্বপ্নে। গত বছর বাম্পার ফলন হলেও এরপূর্বে ২ বছর অকাল বন্যা ভাসিয়ে নিয়েছিল কৃষকের কষ্টে বোনা স্বপ্নের ধান। তখন ছিল শুধু কৃষকের কান্না আর হাহাকার। এবারও প্রকৃতি যেন অকৃপণভাবে দু’হাত ভরে দান করেছে কৃষকদের। বাতাসে দোল খাচ্ছে সোনা রাঙা পাকা ধান আর ধান। ধানের মৌ মৌ গন্ধে কষ্টের সেই দিনগুলোর কথা ভুলে, আবারও নতুন স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। ধান কাটার উৎসবে মেতে উঠতে শুরু করছে। সরকারিভাবে প্রনোদনা সহায়তা প্রদান, মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টি ও ধানের মূল্য কৃষকদের মনের মত থাকায় সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবী কৃষি বিভাগের।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার ৮ উপজেলায় এ বছর ১ লক্ষ ১৮ হাজার ১শত ৯৭ হেক্টর জমিতে হাইব্রীড, উফশী ও স্থানীয় জাতের বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিধার্রণ করা হয়। ১ লক্ষ ২১ হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়। যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩ হাজার ৩ শত ০৩ হেক্টর বেশী। ৪ লক্ষ ৬৬হাজার ৬শত ৭৮ মেট্রিক টন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নিধার্রণ করা হয়। কিন্তু ৪ লক্ষ ৮৮ হাজার ৪শত ৩০ মেট্রিক টন উৎপাদন হবে ধারণা করা হচ্ছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১ হাজার ৭শত ৫২ মেট্রিক টন বেশী। এরমধ্যে, হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ১২ হাজার ৫শত ৫০, মাধবপুর ১১ হাজার ৫শত , চুনারুঘাট ৯ হাজার ৩শত ৪০, বাহুবল ৮ হাজার ৫শত ২০, নবীগঞ্জ ১৭ হাজার ৬শত ৪০, লাখাই ১১ হাজার ৩শত ৫০, বানিয়াচং ৩৫ হাজার ৫শত ২০, আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১৫ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে।

লাখাই উপজেলার করাব গ্রামের কৃষক জলিল মিয়া বলেন, ধানের ফলন ভালো হলেও কাঠার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ শ্রমিক যাচ্ছে না। আর কিছু শ্রমিক পাওয়া গেলেও তার পারশ্রমিক বেশী চাচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। 

আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা গ্রামের কৃষক আবেদ আলী বলেন, গত বছরও আমাদের ভাল ফসল হয়েছিল। এবার কিছুদিন পূর্বে শিলা বৃষ্টি ও ঝড়ে ক্ষতি করলেও বাম্পার ফলন হয়েছে। শ্রমিক সংকটের কারনে সময়মত ফসল ঘরে না তুলতে পারলে প্রাকৃতিক দূর্যোগে পড়তে হবে। ফলে না খেয়ে মরতে হবে।

হবিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী বলেন- চলতি বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এক্ষেত্রে উন্নত বীজের নিশ্চয়তা, সেচ ও সারের সহজলভ্যতা, কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক তদারকি এবং পরামর্শ প্রদান বাম্পার ফলনের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। তিনি আরও বলেন- জেলায় ধান কাটার শ্রমিক সংকট রয়েছে। তবু আশা করছি কোন বড় ধরণের প্রাকৃতিক দূযোর্গের আগেই কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারবে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এসআই