শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭

ভালো নেই বাংলার পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসন

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২০, সোমবার ০৩:৫৯ পিএম

ভালো নেই বাংলার পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসন

ঢাকা : মাইকেল জ্যাকসনের গানের সঙ্গে তার নাচের মুদ্রাগুলো নকল করে সড়কে নাচ দেখাচ্ছেন এক যুবক। তার চুল, চেহারা ও পোশাক মাইকেল জ্যাকসনের মতোই।

এ ব্যক্তি আর কেউ নন। তিনি হলেন বাংলার মাইকেল জ্যাকসন খ্যাত পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনের ভক্ত খুলনার বিল্লাল ব্যাপারী। শুধু নাচ দেখানোই তার কাজ নয়, এ নাচের ফাঁকে তিনি বিক্রি করেন ঘটি গরম চিড়া ও চানাচুর।

সম্প্রতি শ্রাবণের পড়ন্ত বিকেলে খুলনার প্রাণ কেন্দ্র পিকচার প্যালেস মোড়ে নাচের তালে তালে নিউ জ্যাকসন ভাইয়ের ঘটি গরম চিড়া ও চানাচুর বিক্রির সময় কথা হয় বিল্লালের সঙ্গে।

কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে করোনা আতঙ্ক। ঘরবন্দি বেশিরভাগ মানুষ। করোনার জেরে পাল্টে গেছে জীবনধারা। আর এ কঠিন পরিস্থিতিতে আমাদের মতো মানুষের আয় নেই বললেই চলে।

বিল্লাল বলেন, করোনার আগে অনেক স্টেজ প্রোগ্রাম হতো। কিন্তু করোনা এসে সব বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যও ভালো নেই। মানুষ এখন প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হলেও বাইরের কোনো খাবার খায় না। তাই করোনা ভাইরাসের এসময় খুব শোচনীয় অবস্থা আমার। মানুষকে বিনোদন দেওয়ার পাশাপাশি আগে মোটামুটি ভালোই ব্যবসা করছিলাম। কিন্তু সব দিক থেকে বর্তমান সময়ে খুব খারাপ অবস্থায় আছি। এক কথায় বলতে গেলে আগে যে ভালোটা ছিলাম তা এখন আর নেই।

তারপরও শত কষ্ট বুকে চাপা রেখে চেষ্টা করি মানুষকে একটু বিনোদন ও আনন্দ দিতে মাইকেল জ্যাকসনের স্মরণে। ভেতরের কষ্ট লুকিয়ে রেখে মানুষের মনের খোরাক একটু বিনোদন দিতে চেষ্টা করি। এজন্যই মানুষের সামনে আসা। মানুষকে বিনোদন দিয়ে আমি ভালো থাকতে চাই। পেটের দায়ে করোনার এসময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চানাচুর নিয়ে সড়কে বের হয়েছি।

তিনি বলেন, আমি মাইকেল জ্যাকসনের একজন ভক্ত। বাংলাদেশে আমার মতো বিনা পয়সায় আর কেউ এভাবে মাইকেল জ্যাকসনের নাচ দেখাবে কিনা এটা আমার জানা নেই।

বিল্লাল বলেন, অন্য সময় আমার বাসার এলাকা দৌলতপুর থেকে পিকচার প্যালেস মোড় পর্যন্ত এলে ৫০০-৬০০ টাকা বিক্রি হতো। কিন্তু এখন ৩০-৪০ টাকা বিক্রি হয়। সবাই আমাকে দেখে বলেন মাইকেল ভাই আপনাকে ওই টিভিতে সেই টিভিতে দেখেছি। আপনি এখনও কেন রাস্তায় রাস্তায় ঘোরেন? আপনার তো অনেক টাকা।
আমি বলি ভাইয়া, আসলে সবাই আমাকে নিয়ে শুধু মজাই করেছে। আমি জনপ্রিয়তা পেয়েছি কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে একেবারে অচল। আমি এক দুই দিন সড়কে না নামলে আমার অবস্থা শোচনীয়।

তিনি বলেন, আমি সাধারণত খুলনার দৌলতপুর, খালিশপুর, রেলগেট এলাকায় চানাচুর বিক্রি করি। তবে ভক্ত ও দর্শকদের অনুরোধে মাঝে মধ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় যাই।

বিল্লাল বলেন, ছোটবেলা থেকে আমি মাইকেল জ্যাকসনের ভক্ত ও তার সবকয়টি গান অনুসরণ করি। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে মাইকেল জ্যাকসনের গানের সঙ্গে নাচের অনুকরণ শুরু করি আমি। তারপর থেকে আমি সেই রকম নাচার চেষ্টা করি। দারিদ্রতার কারণে অষ্টম শ্রেণির পরে আর পড়াশোনা না হলেও আমি ছাড়িনি জ্যাকসনের নাচ-গান। যে কারণে পেশার মধ্যেও মাইকেল জ্যাকসনের নাচ দেখিয়ে আমি মানুষকে আনন্দ দেই।

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, আমার নামে অনেকে ইউটিউব চ্যানেল খুলে আমার নাচ, গানের ভিডিও দিয়ে ব্যবসা করছেন। কিন্তু আমাকে জানানোরও প্রয়োজন মনে করছেন না। তাদের বিরুদ্ধে আমি অচিরেই আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব। আমার ইউটিউব চ্যানেলের নাম youtube.com/bellaljacksonbm

করোনাকালে কোথাও থেকে কোনো সহযোগিতা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে বাংলার এ মাইকেল জ্যাকসন সাফ জানিয়ে দিলেন, না।

নিউ জ্যাকসন ভাইয়ের ঘটি গরম চিড়া ও চানাচুর খেয়ে তৃপ্ত শোহান নামের এক ভক্ত বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা বিচরণ করেন তারা সবাই বাংলার মাইকেল জ্যাকসনকে চেনেন। সেভাবে আমিও চিনেছি। যখন তার সঙ্গে দেখা হয় চানাচুর খাই। ভীষণ মজার তার ঘটি গরম চানাচুর। তিনি তার পেশার মাধ্যমে মাইকেল জ্যাকসনকে কতটা ভালোবাসেন তা ফুটিয়ে তোলেন মাইকেল জ্যাকসনের নাচ-গান দিয়ে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই