বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

ভিয়েনার সেই ‘হিউম্যান ডগ’ এবার হাতিরঝিলে

সোনালীনিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার ০৩:০৪ পিএম

ভিয়েনার সেই ‘হিউম্যান ডগ’ এবার হাতিরঝিলে

ঢাকা: ‘হিউম্যান ডগ’ মানে ‘মানব কুকুর’- তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষ কেন কুকুরের মতো চলাফেরা করছে? এ নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনার জন্ম হয়েছে রাজধানীর হাতিরঝিলে। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা-সমালোচনা ঝড় বইছে।

জানা যায়, হিউম্যান ডগ সেজে হাতিরঝিলের রাস্তায় যিনি হাঁটছেন তার নাম টুটুল চৌধুরী। সেঁজুতি নামের এক নারী তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সে সময় তাদের কিছু ছবি তোলা হয়। মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা।

ধারণাটি বাংলাদেশে প্রথম হলেও এটি একটি ‘পারফর্মিং আর্ট’। পশ্চিমা ধারণার এ পারফর্মিং আর্ট প্রথম দেখা যায় ১৯৬৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা শহরের প্রকাশ্য রাস্তায়। তখন ভ্যালি এক্সপোর্ট ও পিটার উইবেল এ পারফর্মিং আর্টে অংশ নেন। এ পারফর্মিং আর্টের উদ্দেশ্য হচ্ছে- কার্টুনে যেমন বিভিন্ন প্রাণিকে মানুষের মতো কথা বলা ও আচরণগতভাবে দেখানো হয়; তেমনই এখানে মানুষকে প্রাণি চরিত্রে দেখানো হয়।

সম্প্রতি হাতিরঝিলে সেই ‘পারফর্মিং আর্ট’ ফ্রম পোর্টফোলিও অব ডগডনেসের পুনারাবৃত্তি ঘটে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায়। এতে অংশ নেওয়া নারী সেঁজুতি একে ‘সমাজতাত্ত্বিক’ ও ‘আচরণমূলক’ কেসস্ট্যাডি বলেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেইন্টিং ও ড্রয়িংয়ের শিক্ষার্থী।

সেঁজুতি লেখক ক্লদিয়া স্লানারের লেখাকে উদ্ধৃত করে লিখেছেন, ‘এই ছবিতে একজন নারী একজন পুরুষকে গলায় রশি বেঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বা আরো ভালো কোনো সামাজিক অবস্থার চিত্র দেখায় না। বরং সমাজ আমাদের ওপর যে সিস্টেম চাপিয়ে দিয়েছে সেটাই ফুটে উঠেছে। আমরা যে কাজটা করেছি এই কাজের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি এবং এই কাজটাকে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিয়েছে সেটাই আমরা দেখতে চেয়েছি।’

কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় এ পারফর্মিং আর্টের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে নেতিবাচকভাবে। সেখানে বলা হচ্ছে, হাতিরঝিলে দেখা গেল মানব কুকুর কিংবা আমাদের সমাজে ঢুকে গেল পশ্চিমা নিম্ন প্রকৃতির সংস্কৃতি। সেঁজুতি পুরো বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘রোগ হইলে যেমন ডাক্তারের কাছে যাওন লাগে কিন্তু তার আগে রোগটা নির্ণয় করতে হয়। এখন পরিচিত রোগের সাথে তো পরিচিত কিন্তু অপরিচিত/অজানা রোগ হইলে কেম্নে বুঝবা? এখন আমি অসুস্থ হইলে সেটা কষ্ট দেয় আগে কাকে! আমার পরিবারকে। আর আমরা অসুস্থ হইলে কাকে কষ্ট দেয়!! সমাজকে। তাই সমাজ সুস্থ করতে হইলে আগে আমাদের সুস্থ থাকতে হবে তাই না? তাই আমরা সুস্থ আছি কিনা অইটা পরীক্ষা করলাম। কাটা দিয়ে কাটা তোলা বুঝে সবাই কিন্তু প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস কেউ মন দিয়ে করে না।’

অনেকে বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে ‘Taboo’ অনুষ্ঠান দেখলে হিউম্যান ডগ সম্পর্কে অনেকটা ক্লিয়ার হবেন। সেখানকার একটি এপিসোডে ‘হিউম্যান ডগ’ নিয়ে একটি ডকুমেন্টরি আছে, ইউটিউবে পাবেন। এটি আধুনিক দুনিয়ায় পুরাতন ক্রীতদাস প্রথাও বলা যায়। ইউরোপ-আমেরিকায় এসব দেখা যায়। আপনি মানুষ কিনে তাকে দিয়ে যা ইচ্ছে, তা-ই করাতে পারেন। আধুনিক সভ্যতায় এটাকে ‘সাইকো অসভ্যতা’ও বলা যেতে পারে।’

সোনালীনিউজ/এইচএন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue