সোমবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬

শিক্ষক রাজনীতির নতুন সমীকরণে

ভেঙ্গে যাচ্ছে জাবির সম্মিলিত জোট

শাহাদাত হোসাইন স্বাধীন, জাবি প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার ০৫:৩৩ পিএম

ভেঙ্গে যাচ্ছে জাবির সম্মিলিত জোট

জাবি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের একাংশ, বিএনপি ও বামপন্থি শিক্ষকদের জোট সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ ভেঙ্গে যাচ্ছে। মূলত এই জোটের আওয়ামী অংশের দল পরিবর্তনে অবিশ্বাস থেকে জোট থেকে সরে দাঁড়াতে চায় বিএনপিপন্থি অংশ।

সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের বিভিন্ন অংশের কয়েকজন নীতি নির্ধারকের সাথে কথা বলে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। সম্প্রতি জোটের আওয়ামী অংশ সাবেক ভিসি শরীফ এনামুল কবিরপন্থি ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ এর শতাধিক (১১৩ জন) শিক্ষক বর্তমান ভিসি ফারজানা ইসলামপন্থি ‘বঙ্গবন্ধু -আদর্শের শিক্ষক পরিষদ’এ যোগ দেওয়ায় এই জোট দূর্বল হয়ে পড়ে। একই কারণে শরীকদের মধ্যে অবিশ্বাস জন্ম নেওয়ায় জোট ভেঙ্গে যাচ্ছে।

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক সমাজের অন্যতম নীতি নির্ধারক জোটের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম বলেন, ‘জাবির শিক্ষক রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আমরা দলীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। শিগগিরই দলের সাধারণ সভা ডেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির দুইজন নীতি নির্ধারক বলেন, ‘সাবেক ভিসি শরীফ এনামুল কবিরপন্থি শিক্ষকরা তাদের নেতাদের উপর আস্থা রাখতে পারেননি। তাদেরকে আমরা কিভাবে বিশ্বাস করব। আমরা আমাদের স্বতন্ত্র রাজনীতি করব। একদল ক্ষমতালোভী স্বার্থান্বেষী মহলের সাথে রাজনীতি করার কোনো মানে হয় না।’

সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের সদস্য সচিব বিএনপিপন্থি শিক্ষক অধ্যাপক জামাল উদ্দীন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়ে সোচ্চার হতে সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ গঠন করা হয়েছিল। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।’

সম্মিলিত শিক্ষক সামজে আওয়ামীপন্থি অংশে মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন জোটের আহবায়ক অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ (পদার্থ বিজ্ঞান), সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ (দর্শন), অধ্যাপক কৌশিক সাহা, অধ্যাপক আলমগীর কবিরসহ প্রমুখ।

এ ছাড়া এই অংশের বুদ্ধিজীবী বলে পরিচিত অধ্যাপক লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ, অধ্যাপক শাহেদুর রশিদ। তাদের মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ (দর্শন) রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন এবং বাকিরা বর্তমান ভিসিপন্থি  ‘বঙ্গবন্ধু -আদর্শের শিক্ষক পরিষদ’ এ যোগ দিয়েছেন। ফলে সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের আওয়ামী অংশের দায়িত্বশীল সূত্রের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি এতজন শিক্ষকের দল পরিবর্তনে কেউ প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করতেও রাজি হচ্ছেন না।

তবে বঙ্গবন্ধু’র আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের নতুন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খবির উদ্দীন বলেন, ‘আমি সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের কেউ না। তবে এই জোট বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃহত্তর স্বার্থে গঠন করা হয়েছে। আশা করি জোট এবং জোটের কার্যক্রম বহাল থাকবে। আর আমরা আজ  (সোমবার) প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ বৈঠকে বসব। সেখানে দলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে এবং সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হবে।’

জানা যায়, গত সেপ্টেম্বরে বর্তমান ভিসিপন্থি তৎকালীন বঙ্গবন্ধু-আদর্শের শিক্ষক পরিষদে ২২০ জন মতো শিক্ষক ছিলেন। এই বছরের জানুয়ারিতে শিক্ষক সমিতির নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হলেও পরাজিত প্রার্থীরা দলের ব্যানারে গড়ে ২৪০ টি ভোট পায়। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অপরাংশ শরীফ এনামুল কবিরপন্থি দলে দুই শতাধিক শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু কয়েকদিন আগে  আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপকে এক হতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে নির্দেশরা আসে। নির্দেশের পর আওয়ামী লীগের বর্তমান ভিসিবিরোধী অংশের ১১৩ জন শিক্ষক ভিসিপন্থি দলে যোগ দেয়। এই যোগদান উপলক্ষে ভিসিপন্থিরা দলের নাম কিঞ্চিৎ পরিবর্তন করে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পর্ষদ’ নামকরণ করেন। পহেলা বৈশাখে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পর্ষদ’-এর শুভেচ্ছায় বার্তায় ৩৪৩ জন শিক্ষকের নাম রয়েছে।

এ ছাড়া আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষক যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করছে। ফলে  বর্তমানে ভিসিবিরোধী আওয়ামী অংশে সর্বসাকুল্যে ৭০-৮০ জন শিক্ষক রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন নাম দেওয়া বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, আমরা চাই আওয়ামী শিক্ষকরা এক জোট হয়ে কাজ করুক। আমাদের আহবান সবসময় বহাল থাকবে। এখন সাড়ে তিনশ মতো শিক্ষক আমাদের  দলে আছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে আরও বেশ কয়েকজন আমাদের দলে যোগদান করবে। যোগদান প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। দুইদল এক হওয়ার সম্ভাবনা তিনি বলেন, এটা নিয়ে আমি আশাবাদী। সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের ভবিষ্যত নিয়ে তার মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি এই নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই পক্ষে দূতিয়ালি করা এক শিক্ষক বলেন, আমরা কয়েকজন চেষ্টা করছি দুইদলকে এক করতে। এমনকি এইচ টি ইমামের সঙ্গে বৈঠকেও তিনি বলেছিলেন দুইদলকে এক করার বর্ধিত সভায় তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন। কিন্তু একজন সাবেক ভিসি ও একজন প্রোভিসির নারাজিতে সেটা হয়ে উঠেনি। কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে সাবেক ভিসি অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে থাকায় তারা এই মুহূর্তে এক হতে বিব্রতবোধ করছেন। তবে আগামী বছরের শুরুতে অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির এলপিআরে গেলে সবাই একদলে যোগ দিয়ে একটি দল অবলুপ্ত করার ব্যাপারে আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এইচএআর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue