শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

ভোটের আগে জঙ্গি পরিকল্পনা

বিশেষ প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার ১০:১৪ পিএম

ভোটের আগে জঙ্গি পরিকল্পনা

ঢাকা : সারা দেশে এখন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হাওয়া বইছে। আর এ নির্বাচকে কেন্দ্র করে বড় ধরণের জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার একটি তৎপরতার কথা আগেভাগেই জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। পরিকল্পনা মাফিক এই হামলায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার চেষ্টায় রয়েছে পকিস্তান কেন্দ্রিক জঙ্গি সংগঠন আইএসআই। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট সকল মহল ও দফতরে এরই মধ্যে বিশেষ সতর্কতা বার্তা পাঠানো হয়েছে।

আইএসআই’র সঙ্গে দীর্ঘ যোগসাযশ রক্ষাকারী বিএনপি-জামায়াত গং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিশেষ সুবিধা করতে না পারার পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের হামলার পরিকল্পনা আসছে বলেই ধারণা করছেন গোয়েন্দারা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়ন্দো সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, দেশের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি জানতে পারার পর সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সংশ্লিষ্ট সকল দফতর ও মহলে এ বিষয়ে সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়েছে।

গোয়েন্দারা বলছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের চেয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের অগ্রাধিকার, নিজেদের অনেক নেতার ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকা, সরকারি দলীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট নির্বাচনী মাঠে এগিয়ে থাকা এমন সব পরিস্থিতিতে ভোট বানচালের চেষ্টাতেই এই জঙ্গি তৎপরতা।

গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পরবর্তি সহিংসতা, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় বিএনপি ও জামায়াতের অনেক নেতা একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার মত কোনো সক্ষমতা সরকার বিরোধী এই দলগুলোর নেই। আর সে কারণেই নাশকতা করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায় তারা।’

সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে আইএসআইয়ের হামলার পরিকল্পনায় দিন তারিখ ও স্থানসহ উল্লেখ রয়েছে। যা অতি গোপন সূত্রে গোয়েন্দা সংস্থাটির হাতে পৌঁছেছে।

সূত্রমতে, সতকর্তার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে হামলা পরিকল্পনার বিস্তারিত উল্লেখ করে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদের কর্মকর্তাদের একটি ‘সতর্ক বার্তা’ পাঠানো হয়েছে।

‘পাকিস্তানের আইএসআইয়ের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা’ শিরোনামের ওই বার্তার শুরুতে বলা হয়েছে, ‘ক‚টনীতিক, ক‚টনৈতিক মিশনের সদস্যদের ওপর হামলার পরিকল্পনা রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে, চীন, নরওয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি ও সৌদি আরব। সৌদি দূতাবাসের বাসিন্দাদের হত্যার পরিকল্পনা রয়েছে।’

হিন্দু ও মুসলিম ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদদের উপর বিভিন্ন হামলা হতে পারে। এছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের সহিংসতা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয় ওই বার্তায়।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দার যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনা করে কেউ বাস্তবায়ন করতে পারবে না। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, ক‚টনৈতিক পাড়া এরইমধ্যে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।’

চলতি মাসের ১৫ থেকে ৩০ ডিসেম্বরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় উল্লেখ করে অপর এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে সবাইকে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনটির তথ্য অনুসারে, নোয়াখালী, চাদপুর, চট্টগ্রাম, তিন পার্বত্য জেলা, কক্সবাজার, রাজশাহী, সৈয়দপুর, সিলেট, বগুড়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলা বড় ধরণের হামলার পারিকল্পনা মধ্যে রয়েছে।

এসব বিষয় মাথায় রেখে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সমন্বয়ে নিরাপত্তার ছক কাটা হয়েছে। বিভাগীয় শহরগুলোর জন্য পুলিশের দু’জন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অধীনে সেল গঠন করে কাজ শুরু করছে। আইএসআই কিংবা দেশি কোনো জঙ্গি গোষ্ঠি কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচান কেন্দ্র করে দেশ বিরোধী গোষ্ঠির পরিকল্পনা অনেক কিছুই রয়েছে। এরই মধ্যে আমরা বেশ কিছু তথ্য উদ্ধার করছি। জঙ্গি বিরোধী কর্মকাণ্ডের তথ্য অনুসারে সজাগ থেকে কাজ চলছে।’

সোনালীনিউজ/এমটিআই