রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

মঙ্গলময় হোক সবার জীবন

সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬, রবিবার ১২:৫৭ পিএম

মঙ্গলময় হোক সবার জীবন

আজ শুভ বড়দিন। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের পুণ্যময় ও মঙ্গলময় দিন। এদিনে মহামানব যিশু পৃথিবীতে আবির্ভূত হন। স্বাভাবিকভাবেই অনেক আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পবিত্র এদিনে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের খ্রিস্টান সম্প্রদায় মহান যিশুর জন্মদিন পালনের উৎসবে মেতে উঠবে। বড়দিনের এ আনন্দ-উৎসব শুধু এদিনের কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে তা নয়, যিশুর শান্তির বাণীও ছড়িয়ে দেয়া হবে সব মানুষের মধ্যে। সব ধরনের মানবিক গুণকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে সর্বসাধারণের মাঝে। কারণ উন্নততর মানবিক সম্পর্কই সমৃদ্ধতর সমাজ গড়ে তুলতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে। মানুষে মানুষে বিভেদের অবসান ঘটাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। 

এ কথা স্মরণযোগ্য যে, মানব জাতির ত্রাতা বা উদ্ধারকর্তা হিসেবে পৃথিবীতে আবির্ভাব হয়েছিল যিশুখ্রিস্টের। হিংসা, বিদ্বেষ, পঙ্কিলতাপূর্ণ এ পৃথিবীর মানুষকে সুপথে ফিরিয়ে এনে তাদের সার্বিক মঙ্গলের লক্ষ্যেই তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন। যিশুর জন্মদিন তাই শুধু খ্রিস্টান সম্প্র্রদায়ের জন্য নয়, সমগ্র মানব জাতির জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। কেননা তিনি শান্তি আর মঙ্গলের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন পৃথিবীতে। তিনি ছিলেন আলোর দিশারী। যিশুখ্রিস্ট পথভ্রষ্টদের যেমন দেখিয়েছেন আলোকিত ও কল্যাণের পথ, তেমন বঞ্চিত-লাঞ্ছিত মানুষকে দিয়েছেন বেঁচে থাকার প্রেরণা। সমগ্র মানবজাতিকে পার্থিব পাপ-পঙ্কিলতা থেকে তিনি ফেরাতে চেয়েছিলেন মমতা, ভালোবাসা ও ক্ষমাশীলতার পথে। শান্তির যে বাণী নিয়ে তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন, তা শাশ্বত এবং সব সময় মানুষের কল্যাণে নিবেদিত। তার শিক্ষা সব মানুষের কাছেই গুরুত্ব্পূর্ণ ও অনুসরণীয়। মুসলমানদের কাছে যিশুখ্রিস্ট নবী হজরত ঈসা (আ.) নামে পরিচিত। যিশু তৎকালীন সমাজে অমানুষিক নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হলেও নীতি, আদর্শ ও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত হননি। যিশুর পথ ছিল সংযম, সহিষ্ণুতা, শান্তি, কল্যাণ আর ভালোবাসার। সারা বিশ্ব আজ হিংসা, হানাহানি, অবিশ্বাস আর অশান্তি দ্বারা আক্রান্ত। সর্বত্র পেশিশক্তির জয়জয়কার, চলছে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মানবিক বিপর্যয়। মানবতা ও মানবিক মূল্যবোধ আজ পর্যুদস্ত। ফলে বর্তমান পৃথিবীর এ অস্থির ও সংকটময় অবস্থায় বড়দিনের বাণী মানব সম্প্রদায়কে নতুনভাবে মুক্তির পথ দেখাক এবং প্রতিষ্ঠিত হোক বিশ্বভ্রাতৃত্ব, কল্যাণ ও ঐক্য।

যিশুর জš§ হয়েছিল গোশালায়, অত্যন্ত দীনবেশে। তার এ জš§ঘটনা তাকে এতটুকু পিছু টানেনি বা লক্ষ্যচ্যুত করেনি। তিনি বলেছিলেন, দীনহীন যারা তারাই সুখী, কারণ স্বর্গরাজ্য তাদেরই। তিনি শিশুদের নম্রতার প্রতীক বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তোমাদের মন যদি পরিবর্তন না হয় আর তোমরা যদি শিশুদের মতো না হয়ে ওঠো তবে স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না। আর তাই যুগে যুগে বড়দিনের আহ্বান হচ্ছে শিশুদের মতো হয়ে ওঠা।

যে কোনো ধর্মীয় উৎসবে সব ধর্ম-সম্প্রদায়ের মানুষের সংহতি অটুট থাকবে এটাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত। নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাংলাদেশ সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস। আজ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেশে দেশে বড়দিন পালিত হচ্ছে। আমরা কামনা করি, এ শুভ দিনটি সবার জন্য আনন্দময় হয়ে উঠুক, কল্যাণ বয়ে আনুক। পৃথিবীজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি।

সোনালীনিউজ/ঢাকা