শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

মণির কন্যা যদি প্রশ্ন করে মা নুসরাতকে কেন মারলে

আনোয়ার হোসাইন সোহেল | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার ০১:৪৫ পিএম

মণির কন্যা যদি প্রশ্ন করে মা নুসরাতকে কেন মারলে

ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী ‍ছিলেন নুসরাত জাহানা রাফি। অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সাদা পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কালো হায়নার মন বাঁচতে দেয়নি তাকে।  গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতন করে অধ্যক্ষ। এই অভিযোগে নুসরাতের মায়ের দায়ের করা মামলায় আটক করা হয় সিরাজ উদ দৌলাকে। মামলা তুলে নিতে নুসরাতের পরিবারকে চাপ ও হুমকি দেয়া হয়। মামলা প্রত্যাহার না করায় নুসরাতকে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাদেই নিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় ৬ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসার চারদিন পর তাঁর মৃত্যু হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে সারাসরি জড়িত মণি।

এবার তিনিও একটি কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন। তার মেয়েকে যদি এভাবে কেউ যৌন হয়রানি করে তা হলে মণি কিভাবে তাকে রক্ষা করবেন। যদি মণির কন্যা বড় হয়ে তার মাকে জিজ্ঞাস করে মা কেন নুরাতকে পুড়িয়ে মারলে কি জবাব দেবেন তিনি। তখন সময় বলে দিবে তিনি কি জবাব দেন। আমাদের সমাজের আনাচে কানাচে এমন ভাবে লুকিয়ে রয়েছে বহু সিরাজ। যাদের ধ্বংষণে প্রতিনিয়তই অকালেই ঝরে যাচ্ছে অনেক সম্ভাবনাময় জীবন। ঝরে পড়ছে নুসরাতরা।  রাষ্ট্র তাদের বিচার করলেও নৈতিক বিচারের কাঠগড়া দাঁড়িয়ে মণিরা কি উত্তর দেবেন?  

প্রসঙ্গ, শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর)  ফেনীর চাঞ্চল্যকার মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় কারাবন্দী কামরুন নাহার মণি মা হয়েছেন। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতাল সূত্র জানান, মা ও মেয়ে দুজনই সুস্থ রয়েছেন। এর আগে পাঁচ মাসের গর্ভের সন্তান নিয়েই নুসরাত কিলিং মিশনে অংশ নেয় মণি।

গত ২১ এপ্রিল শনিবার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ফেনীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে মণি এ জবানবন্দি দেন। ২২ এপ্রিল রোববার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

একই দিন ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে ১৬৪ ধারার এ জবানবন্দি দেয় এ মামলার অন্যতম আসামি জোবায়ের। জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রামের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ইকবাল রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

জোবায়েরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, মাদ্রাসার সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ম্যাচের কাঠি দিয়ে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরায় জোবায়ের। রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে যায় পপি। সেখানে আগে থেকেই আমি (জোবায়ের) অপেক্ষা করছিলাম। আমার সঙ্গে ছিলেন মণি, পপি, শাহাদাত ও জাবেদ। রাফি ছাদে এলে আমরা তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ দিই।

এতে নুসরাত রাজি না হলে তার হাত-পা বেঁধে ছাদে শুইয়ে ফেলি। এরপর রাফির পা চেপে ধরেন পপি, মুখ চেপে ধরেন শাহাদাত, মণি বুক চেপে ধরেন, জাবেদ কেরোসিন ঢালেন এবং আমি (জোবায়ের) দিয়াশলাই দিয়ে গায়ে আগুন ধরাই।

নুসরাত জাহান রাফি হত্যার কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত ছিল কামরুন নাহার মণি। নুসরাতের বুকসহ শরীর চেপে ধরেন এবং তিনি বোরকা ব্যবস্থা করে দেন।

গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে যান। পরীক্ষার আগে তাকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। সরাসরি কিলিং মিশনে অংশ নেয় পাঁচজন। তারা হল- শাহাদাত হোসেন শামীম, জোবায়ের হোসেন, জাবেদ হোসেন, কামরুন নাহার মণি ও উম্মে সুলতানা পপি। এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল রাতে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান

সোনালীনিউজ/এএস


*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন। সোনালীনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের এই মতামতের অমিল থাকাটা স্বাভাবিক। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য সোনালীনিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। এর দায় সম্পূর্ণই লেখকের।