রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

মধ্যপ্রাচ্যে আজ ঈদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১১ আগস্ট ২০১৯, রবিবার ১২:৪৭ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে আজ ঈদ

ঢাকা : ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান নি-মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা শারিকা লাক।’ অর্থাৎ ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’ সেলাইবিহীন দুই টুকরো সাদা কাপড় পরে হজের নিয়তে মুখে এমন ধ্বনি উচ্চারণের  শনিবার মুখোরিত ছিল আরাফাতের ময়দান। মিনায় ফজরের নামাজ আদায় শেষে পাপমুক্তির আকুল বাসনায় এ ময়দানে সমবেত হন লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান।

ইসলামের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের একটি পবিত্র হজ। বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমান তাদের জীবনে অন্তত একবার অবশ্যই হজ পালন করতে হবে। ধারাবাহিকভাবে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান পালনের মধ্য দিয়ে এটি করা হয়। সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় ইসলামের পবিত্র নগরী মক্কা ও এর আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে হজ পালন শেষ করতে পাঁচ দিন সময় লাগে।

সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এবার বিশ্বের ১৭২টি দেশের প্রায় ২৫ লাখ মুসলমান হজ করছেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজার।  হজের আনুষ্ঠানিকতার শুরুতে সৌদি আরবে হাজির হওয়া মুসলমানরা বৃহস্পতিবার থেকে জড়ো হতে শুরু করেন কাবা শরিফ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে তাবুনগরী মিনায়। শুক্রবার সেখানে তারা সারাদিন ও রাত কাটান ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে। এর পর হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার জন্য গতকাল ভোরেই তারা সমবেত হতে থাকেন প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানে। চার বর্গমাইল আয়তনের এ বিশাল সমতল মাঠের দক্ষিণ দিকে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরও প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত।  মুসলিম উম্মাহর বিশাল জনসমুদ্রের মহাসম্মিলনে এবারের হজের খুতবা দেন শায়খ মুহাম্মদ বিন হাসান আলে আশ-শায়খ।

সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাত ময়দানে অবস্থান করেন হাজিরা। এখানে উপস্থিত না হলে হজের আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণাঙ্গ হয় না। তাই হজে এসে যারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে নিয়ে আসা হয় স্বল্প সময়ের জন্য। ইসলামি রীতি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের নবম দিনটি আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে ইবাদতে কাটানোই হলো হজ। সূর্যাস্তের পর হাজিরা মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই সেখান থেকে রওনা দেন মুজদালিফার দিকে। সেখানে পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করেন তারা। এর পর খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন। সেখান থেকে পাথর সংগ্রহ করেন মিনার জামারায় (প্রতীকী) শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য।

রবিবার (১১) সকালে ফজরের নামাজ শেষে হাজিরা আবার ফিরে আসবেন মিনায়।  জামারাতে পাথর নিক্ষেপ ও পশু কোরবানির পর পুরুষরা মাথা মু-ন করে ইহরাম ত্যাগ করবেন। এর পর পবিত্র কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ করে হজের পূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করবেন হাজিরা। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যারা আগে মদিনায় যাননি, তারা মদিনায় যাবেন। সেখানে হাজিরা সাধারণত ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন। পরে শুরু হবে তাদের দেশে ফেরার পালা।

মক্কা অঞ্চলের গভর্নর প্রিন্স খালিদ আল ফয়সাল জানান, হাজিদের সেবা দিতে শত কোটি ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন তারা। গত শুক্রবার মিনায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, অতিথিদের স্বস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারে তারা কুণ্ঠিত নন। হাজিদের সুরক্ষা নিশ্চিতে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি সামরিক-বেসামরিক সদস্য এবং চার হাজার স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েন রয়েছেন।

এদিকে রীতি অনুযায়ী, প্রতিবছর ৯ জিলহজ তারিখে মসজিদ আল হারামে পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। সে রীতি মেনে এরই মধ্যে গিলাফ পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন গিলাফটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৭০ লাখ রিয়াল। বরাবরের মতোই ৬৭০ কেজি রেশমি কাপড়, ১২০ কেজি স্বর্ণ ও ১০০ কেজি রুপা দিয়ে তৈরি হয়েছে এ গিলাফ।

সোনালীনিউজ/এএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue