বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬

মধ্যরাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে তুমুল সংঘর্ষ 

কুবি প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, রবিবার ১০:১১ এএম

মধ্যরাতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে তুমুল সংঘর্ষ 

ঢাকা : মধ্যরাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে দফায় দফায় তুমুল সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এতে হিমেল চাকমা নামে একজন গুরুতর আহত শিক্ষার্থীকে রাতেই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসের জিয়া মোড় এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষ ঘটে।

এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের প্রায় ৮-১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলে মার্কেটিং বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জেবিয়ারকে বন্ধু ভেবে পেছন থেকে ডাক দেন আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কামাল হোসেন। 

পরে জেবিয়ার সেখানে গেলে ভুল বুঝে ডাকার কারণে দুঃখ প্রকাশ করেন কামাল। এসময় কামাল দুঃখ প্রকাশ করার পরও জেবিয়ার কামালের উপর কিছুটা চড়াও হন। এসময় জেবিয়ার কামালকে শাসান এবং পরে দেখা করতে বলেন।

পরে কামাল তার বন্ধুদের নিয়ে জিয়া হলে (১২৭) জেবিয়ারের সাথে দেখা করতে যায়। এসময় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জেবিয়ারকে মারধর করে কামাল ও তার বন্ধুরা। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতারা ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি সমাধান করেন। 

পরে জিয়া হলের ২০৮ নম্বর রুমে কামাল অবস্থান করছে সংবাদ পেয়ে জেবিয়ার তার বন্ধু ইমতিয়াজ, জয়, সালমান, হামজাসহ প্রায় ১০-১৫ জন কর্মী নিয়ে তার রুমের সামনে যায়। এসময় কামাল রুম থেকে বের হলে তারা দরজায় লাথি দেয় এবং জানালার গ্লাস ভাংচুর করেন।

এরপর কামালকে না পেয়ে তারা হল থেকে বের হয়ে আসলে জিয়া মোড় এলাকায় জিয়া হলসহ অন্যান্য হলে থেকে আসা কামালের গ্রুপের কর্মীদের সঙ্গে জেবিয়ারের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। এসময় উভয় কর্মীদের হাতে লাঠিসোঠা, দেশিয় অস্ত্র দেখা যায়।

এ সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের প্রায় ৮-১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে হিমেল চাকমা নামের এক কর্মীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের এই সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। সংঘর্ষের সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও পরে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান এবং সংঘর্ষ শেষ হলে আসেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক পরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমরা প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে যাই। ছাত্রলীগের নেতারা নিজেরাই বিষয়টি সমাধান করায় আমরা কোন পদক্ষেপ নেইনি।’

দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে পুলিশ ঘটনাস্থল কেন আসল? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুলিশ ফোর্স প্রধান ফটকে প্রস্তুত ছিল। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তারা ঘটনাস্থলে আসেনি।’

এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আরিফ বলেন, ‘আমাদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। আমরা ফোর্স নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে ছিলাম, কিন্তু ঘটনাস্থলে যাইনি।’

সোনালীনিউজ/এএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue