সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮, ৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

মনোনয়ন হারাতে পারেন আওয়ামী লীগের ৭০ এমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার ০১:৩৯ পিএম

মনোনয়ন হারাতে পারেন আওয়ামী লীগের ৭০ এমপি

ঢাকা: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অন্তত ৭০জন এমপি মনোনয়ন ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে তাদের প্রার্থীতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের যৌথ সভার পর শীর্ষ নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচনী এলাকা ও সাংসদদের অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে করা একাধিক জরিপ প্রতিবেদন তার কাছে আছে। এসব প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্তত ৭০ জন এমপির অবস্থা ভালো নয়।

সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। নভেম্বরের শুরুতে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে যৌথ সভায় বসে ক্ষমতাসীন দলটি।

বৈঠক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নির্বাচনী এলাকা ও সাংসদদের অবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা দিয়ে করা একাধিক জরিপ প্রতিবেদন তার কাছে আছে। এসব প্রতিবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্তত ৭০ জন সাংসদের অবস্থা ভালো নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনবিচ্ছিন্ন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। কাউকে মনোনয়ন থেকে বাদ দেওয়া হলেও যাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষে কাজ করতে হবে। কেউ পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে বিরোধিতা করলে তাৎক্ষণিকভাবে আজীবন বহিষ্কার করা হবে। অতীতে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শাস্তি দিয়ে ক্ষমা করা হয়েছে। এবার আর তা করা হবে না।

আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদ, সংসদীয় দল এবং উপদেষ্টা পরিষদের এই যৌথ বৈঠকে দলের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ, নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও সংসদীয় দলের সদস্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দেশটা যে সুন্দরভাবে চলছে, দেশের মানুষ স্বস্তিতে আছে, তাঁদের ভালো লাগছে না, তাঁরা চান একটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। তাঁরা নির্বাচন চান কি চান না, সেটাই বড় প্রশ্ন।

বৈঠক সূত্র জানায়, হেফাজতে ইসলামকে নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ধর্মভিত্তিক এই সংগঠন সম্পর্কে আওয়ামী লীগের নেতারা যাতে সমালোচনা না করেন, সে বিষয়ে কথা হয়েছে। শরিক দলগুলো যাতে এটি মেনে চলে তা খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।

হেফাজতে ইসলাম ও জামায়াতে ইসলামীকে এক করে দেখার সুযোগ নেই বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।


সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন