বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

মন্ত্রিসভায় ডাক পাচ্ছেন মাশরাফি!

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০১৯, সোমবার ০২:৩২ পিএম

মন্ত্রিসভায় ডাক পাচ্ছেন মাশরাফি!

ঢাকা : চলতি বছরের বিশ্বকাপ ক্রিকেট শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা মন্ত্রিসভার সদস্য হতে পারেন, এমন প্রচারণা আগে থেকেই ছিল। বিশ্বকাপ শেষ না হলেও বাংলাদেশ দলের বিদায় ঘটে গ্রুপ পর্বেই। একই সঙ্গে শিগগিরই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হতে পারে বলে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে।

সব মিলিয়ে মন্ত্রিসভায় মাশরাফি ডাক পাচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্ন অনেকের। মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হলে জনপ্রিয় এ খেলোয়াড়ের ডাক পড়ার  খুব সম্ভাবনা আছে। তাকে দেওয়া হতে পারে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র এসব তথ্য জানায়।

সূত্রমতে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে অন্যতম চমক ছিলেন ক্রিকেটের বরপুত্র ও ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। নড়াইল-২ আসনে দলের টিকেটে বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তিনি। মন্ত্রিসভায়ও মাশরাশিকে চান প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে মন্ত্রিসভায়ও তাকে রাখা হবে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার সময় শেখ হাসিনা তাকে এমন প্রতিশ্রুতি দেন বলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভা গঠিত হলেও মাশরাফি তখন শপথের আমন্ত্রণ পাননি।

বিশ্বকাপ ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি শপথ নেবেন, এমনটিই তখন ভাবা হয়। তখন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পেলে বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলায় কোনো প্রভাব পড়ে কি না, সেজন্যই এমনটি ভাবা হয়।

সূত্র জানায়, মাশরাফি কোনো মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী নাকি উপমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন— এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ক্রিকেট শুরুর আগে থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তার অবসর নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে। মাশরাফি নিজে থেকে কখনো নির্দিষ্ট করে জানাননি যে, তিনি কবে অবসর নেবেন।

তবে তিনি এটি বলেছেন যে, এবারের বিশ্বকাপ হচ্ছে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তিনি এখন শুধু ক্রিকেটার নন, একজন রাজনীতিবিদও। মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পেলে রাজনীতিতে তিনি আরো নিয়মিত হবেন বলেও মনে করেন অনেকে।

সূত্রমতে, মন্ত্রিপরিষদের আকার বাড়লে কিছু রদ-বদলও হতে পারে। মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হলে শীর্ষ নেতাদের আলোচনা ও আলাপে বেশি আসছে নৌপরিবহন, পানিসম্পদ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর কথা। ওই তিন মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে কেউ এখনো শপথ নেননি। অর্থ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নতুন কোনো মুখ যোগ হতে পারে বলেও আলোচনা আছে। অর্থমন্ত্রীর শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওই মন্ত্রণালয়ে একজন প্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ভাবা হচ্ছে।

নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হতে পারে, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত দেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও নতুন মুখ যোগ হতে পারে। দ্বিতীয় দফায় সম্প্রসারণে আরো অন্তত আট থেকে দশজন যোগ হতে পারেন মন্ত্রিসভায়। তবে এ সংখ্যা দশের বেশি হবে না। সেখানেও নতুনদের প্রাধান্য থাকবে। আগের দুবারের মন্ত্রিসভার সফল ও জনপ্রিয় মন্ত্রীদের কেউ কেউ বর্তমান মন্ত্রিসভায় যোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো গঠিত সরকারের পথচলার মাসখানেক পর থেকেই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে সরকারের পরিকল্পনা আছে বলে দলের মধ্যে প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে। মন্ত্রিসভার আকার বাড়তে পারে বলে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সম্প্রতি দেওয়া বক্তব্যের পর এ আলোচনা আরো জোরালো হয়ে উঠেছে।

মন্ত্রিসভায় নতুন করে কারা যোগ হতে পারেন— এ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগসহ দলের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও ১৪ দলীয় জোটের নেতাদের মধ্যেও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পুনর্বিন্যাস নয়, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত (আকার বাড়ানো) হতে পারে। তবে এটা সম্পূর্ণই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। কেবিনেট সাফল-রিসাফলের বিষয়টা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। আমার মনে হয়, কিছু কিছু পদ-পদবি এখনো খালি আছে। কাজেই এক্সপান্ড (সম্প্রসারিত) হতে পারে। যেমন মহিলা ও শিশু, এখানে কোনো মন্ত্রী নেই।’

সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্র জানায়, চমকের মন্ত্রিসভায় জনপ্রিয় ও নতুনদের দ্বিতীয় দফায় যোগ করে চমক দিতে চায় সরকার। ফলে শিগগিরই হতে পারে মন্ত্রিসভায় প্রথমবারের মতো সম্প্রসারণ। এর আগে সরকারের পথচলার প্রায় সাড়ে চার মাসের মাথায় মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্বে কাটছাঁট করা হয়।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গত কয়েক দিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মন্ত্রিসভায় নতুন করে কারা স্থান পাচ্ছেন। তবে মন্ত্রিসভায় নতুন কারা স্থান পাচ্ছেন, তা একান্তই দলের সভাপতি শেখ হাসিনার এখতিয়ার। তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি যাদের চাইবেন, তাদেরই জায়গা হবে নতুন করে। প্রধানমন্ত্রী ও তার দপ্তরই নির্ধারণ করবে, কখন মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ নেওয়া হবে। সংবিধানই প্রধানমন্ত্রীর এ ক্ষমতা নিশ্চিত করে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই