সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০, ৪ কার্তিক ১৪২৭

মশার কামড়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, নিস্তার চায় উপজেলাবাসী

ঝালকাঠি প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, শনিবার ১২:৩২ পিএম

মশার কামড়ে অতিষ্ঠ জনজীবন, নিস্তার চায় উপজেলাবাসী

ঝালকাঠি: ঝালকাঠির রাজাপুরে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ জনজীবন। রাত দিন মশার উৎপাত চলছে সমান তালে। মশার যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে কয়েল ও অ্যারোসলসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করেও মশার হাত থেকে যেন নিস্তার মিলছে না। এতে যেমন মানুষের স্বাভাবিক কাজকর্ম বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

মশার যন্ত্রণায় দিনের বেলায়ও স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম করা যাচ্ছে না। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আরো কয়েকগুন উৎপাত বেড়ে যায়। তখন মশারির মধ্যে কিংবা মশা তাড়ানো উপকরণ ছাড়া বসে থাকা দুরুহ হয়ে পড়ে। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা। মশার উৎপাতে তারা ঠিকভাবে লেখাপড়া করতে পারছে না।

মশার উপদ্রবে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উপজেলার ব্যবসায়ীরাও রয়েছে বিপাকে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এছাড়াও বাস স্ট্যান্ডে রাত কাটানো ছিন্নমূল মানুষগুলো মশার যন্ত্রনা থেকে বাঁচার জন্য মশারি বা মশা তাড়ানো উপকরণ কেনার সামর্থ্য নেই তাদের। তাই নিরুপায় হয়ে মশার যন্ত্রণায় তাদের অনেকেই বিনিদ্রায় রাত কাটাতে হচ্ছে। আর এতে ডেঙ্গুসহ মশাবাহী রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এদিকে উপজেলার সদরের সরকারি খাল দখলের ফলে পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী নালা-নর্দমার ময়লা পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা সদরের অপরিকল্পিত ড্রেনে পানি জমে এখন মশাদের অবাসস্থলে পরিনত হয়েছে। অনেক ড্রেন-নর্দমা অপরিষ্কার থাকার কারণে ময়লা পানি আবদ্ধ হয়ে থাকায় মশার বংশবিস্তার ঘটছে।

উপজেলার অধিকাংশ স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, যদি মশার এসব আবাসস্থল নিয়মিত পরিষ্কার রাখার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পরিচ্ছন্ন শাখার কার্যকর্ম অব্যাহত থাকে এবং সেই সঙ্গে মশা নিধন অভিযান, তবে মশার উৎপাত থেকে অনেকটাই পরিত্রাণ পেতেন উপজেলাবাসী। আবার মশা নিধন উপজেলা প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিলেই চলবে না, এর সঙ্গে সকল এলাকাবাসীকে সচেতনতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। নিজের আবাসস্থল পরিচ্ছন্ন রাখতে বসবাসকারীদের সহযোগিতা করতে হবে। বাড়ির ময়লা-আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলা উচিত। এমনটি করা হলে মশার উৎপাত অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী মোঃ জুবায়ের খান বলেন, মশার কারণে রাতের বেলায় চেয়ার-টেবিলে বসে লেখাপড়া করা কষ্টকর। তাই নিরুপায় হয়ে তাকে মশারি টাঙিয়ে বিছানায় বসে লেখাপড়া করতে হচ্ছে।

উপজেলা সদরের বাজার এলাকার বাসিন্দা মোঃ জিয়াউল হক টিটু জানায়, মশার অত্যাচারে ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি মিলছে না। দিনের বেলায়ও কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হচ্ছে। 

এ ব্যপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহাগ হাওলাদার বলেন, মশা নিধনে ফগার মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। শীঘ্রই মশা নিধন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করা হবে।

সোনালীনিউজ/এসএ/এসআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue