বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৭ ফাল্গুন ১৪২৬

মায়ের বুকের দুধ সংরক্ষণ, যা বলছে হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার ০৪:১২ পিএম

মায়ের বুকের দুধ সংরক্ষণ, যা বলছে হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক

ঢাকা: প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর এর মাধ্যমে মায়ের বুকের দুধ সংরক্ষণ করে রাখা হবে। ইরান, ইরাক, কুয়েত কিংবা পাকিস্তানের মতো মুসলিম দেশগুলোতে এ ধরনের ব্যবস্থা বহু দিন ধরেই চলছে। তাদের পথ অনুসরণ করে বাংলাদেশে এবারই প্রথম এ উদ্যোগ নিতে চলেছে মাতুয়াইলের শিশু এবং মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি। 

এ বিষয়ে হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক-এর সমন্বয়ক ডা: মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ধর্মীয় বিষয়গুলো মাথায় রেখে এবং ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করেই বিপন্ন শিশুদের জন্য এটি হয়েছে। কেননা আমরা অনেক সময় মা-হারা এমন অনেক বিপন্ন শিশু পাই, মায়ের দুধ পেলেই যাদের বাঁচানো সহজ হয়।’

আবার অনেক সন্তানহারা মা আছেন যারা নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই বিপন্ন শিশুদের জন্য নিজের বুকের দুধ দিয়ে মানসিক শান্তি পেতে চান। এমন বহু নারীর অনুরোধও তাদের মিল্ক ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় উৎসাহিত করেছে বলে জানান মুজিবুর রহমান। তবে কিছু সংগঠন ও ব্যক্তি ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’কে ইসলাম বিরোধী আখ্যা দিয়ে মিল্ক ব্যাংক থেকে দুধ পান করা বা এ ধরণের মিল্ক ব্যাংক স্থাপন করাকে হারাম বলে দাবি করেছে।

তাফসীর পরিষদ নামে একটি সংগঠনের দাবি হিউম্যান মিল্ক ব্যাংকের মাধ্যমে বহু অজানা দুধ ভাই-বোন হবে, যাদের মধ্যে বিয়ের সম্পর্ক হবে হারাম। এদের মধ্যে নিজেদের অগোচরে বহু হারাম বিয়ে হওয়ার আশংকা থাকবে। তবে মিল্ক ব্যাংকের উদ্যোক্তারা বলছেন, ধর্মীয় বিধান মাথায় রেখেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলেও মনে করেন তারা।

শিশুকে মিল্ক ব্যাংক থেকে দুধ নিয়ে খাওয়ানো যাবে। এই মিল্ক ব্যাংক যাতে দাতা ও গ্রহীতা দুজনরেই বিস্তারিত তথ্য থাকবে যাতে করে উভয় পক্ষই বিষয়টি জানতে পারে ডা: মুজিবুর রহমান বলছেন, এমন কোনো আশংকাই থাকবে না, কারণ মিল্ক ব্যাংক থেকে দুধ দাতা ও গ্রহীতা নিজেদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানবেন এবং তাদের নিজস্ব পরিচয়পত্রও থাকবে। তাদের তথ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি প্রতি বছর প্রকাশও করা হবে, যাতে করে দাতা ও গ্রহীতার সব প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যায়।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিটি মায়ের দুধ আলাদা বিশেষ পাত্রে নেয়া হবে এবং আলাদা লেবেলিং থাকবে যা কখনো নষ্ট হবে না। যিনি দুধ দেবেন তার অনুমতি নেয়া হবে। তিনি নিজেও নিজের দুধ প্রয়োজনে নিতে পারবেন বা অন্য কেউ নিলে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আইডি কার্ড থাকবে। দাতা ও গ্রহীতা এ বিষয়ে একে অন্যের বিস্তারিত জানতে পারবে।’

এছাড়া এই ব্যাংকের দুধ সাধারণভাবে সবার জন্য নয়। কেবল বিশেষ ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হবে এই মিল্ক ব্যাংক। এছাড়া মিল্ক ব্যাংকের দুধটা দেয়াও হবে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে। ইতিমধ্যে হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক-এর যাত্রার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে এবং সর্বাধুনিক যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে বলেও জানান ডা: মুজিবুর রহমান। 

তিনি আশা করছেন, খুব দ্রুত এটি চালু করা সম্ভব হবে। যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করেননি। এর আগে পহেলা ডিসেম্বর থেকে এই মিল্ক ব্যবাংক চালু করার উদ্যোগ নিয়েছিল মাতৃস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট। কিন্তু ধর্মীয় নেতাদের বিরোধিতার কারণে তাদের এই উদ্যোগ পিছিয়ে যায়। তবে সবার সহযোগিতা নিয়ে দ্রুতই এর কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চিকিৎসক মুজিবুর রহমান।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue