বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল, ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬

মা-মেয়ের এ কেমন ‘ফাঁদ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার ০২:৪৮ পিএম

মা-মেয়ের এ কেমন ‘ফাঁদ’

ঢাকা : ফেসবুক প্রোফাইল বলছে, মেয়েটির নাম আয়েশা দে। কিন্তু এলাকায় তিনি কোথাও পরিচিত রিয়া নামে, কেউ আবার তাকে চিনতেন জেসিকা নামে! এমন ঘটনা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের।

মা-মেয়ের জীবনযাপন ছিল বিলাসবহুল। অথচ তারা কী কাজ করতেন, সে সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতেন না এলাকাবাসী।

উত্তর ২৪ পরগনার নিউ ব্যারাকপুরের বাসিন্দা, ওই মা-মেয়ের অর্ধদগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়েছে হলদিয়ায় হুগলি নদীর পাড়ে।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, মেয়ের সঙ্গে বিভিন্ন যুবকের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি তুলে তা দেখিয়ে তাদের ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায় করতেন মা। ওই কাণ্ডের জেরেই দু’জনকে খুন হতে হয়েছে হলদিয়ার যুবক শেখ সাদ্দামের হাতে। এসব তথ্য সামনে আসার পরেই অবাক ওই দু’জনের নিউ ব্যারাকপুরের ভাড়া বাড়ির মালকিন সন্ধ্যা দাশগুপ্ত।

নিউ ব্যারাকপুর পুলিশ সূত্রের খবর, ওই তরুণী আরও ছয়টি নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি এবং তার মা মুম্বাইয়ে থাকতেন। বছর তিনেক আগে তারা আসেন নিউ ব্যারাকপুরে। সেখানে থানার কাছেই এন সি সরণিতে একটি দোতলা বাড়ির নীচে ভাড়া থাকতে শুরু করেন। বাড়ির দোতলায় থাকেন মালকিন সন্ধ্যাদেবী।

সন্ধ্যাদেবী সোমবার জানান, রীতিমতো চুক্তিপত্রে সই করে বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন তিনি। তার দাবি, ওই সময়ে মহিলা তাকে জানিয়েছিলেন, স্বামীর সঙ্গে তার বনিবনা হয় না। স্বামী থাকেন মুম্বাইয়ে। এখানে মা-মেয়ে দু’জনে কাজ করেন।

সন্ধ্যা সোমবার বলেন, ‘‘ওরা নিজেদের মতো থাকতেন। কী কাজ করতেন জানি না। পুলিশকে বাড়ি ভাড়ার চুক্তির নথি দিয়েছি।’’

পুলিশ সূত্রের খবর, মা-মেয়ে কেউই পানশালায় নাচগান বা প্রত্যক্ষভাবে যৌন ব্যবসায় জড়িত ছিলেন না। তদন্তে পুলিশ জেনেছে, মূলত ফেসবুকের মাধ্যমেই তারা বিভিন্ন যুবকের সঙ্গে আলাপ জমাতেন। পরে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলে সুযোগ বুঝে ব্ল্যাকমেল করতেন। মা-মেয়েকে খুনে ধৃত সাদ্দাম এবং শেখ মনজুর আলমের ক্ষেত্রেও তেমনই হয়েছিল বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা।

ঘটনায় ধৃত সাদ্দামের ভাই বলেন, ‘‘ভাই যে খারাপ সংসর্গে পড়েছে, তা জানতাম। কিন্তু এই ঘটনায় অবাক হয়ে গিয়েছি। লোকমুখে শুনেছি, ভাইকে টাকার জন্য চাপ দেওয়া হত।’’

আর মনজুরের পরিবারের দাবি, তাকে ফাঁসানো হয়েছে। সে এই ধরনের কাজ করতেই পারে না। সূত্র : আনন্দবাজার

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue