শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬

মিতুর জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার ০৮:১৭ পিএম

মিতুর জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ

ঢাকা: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যার ঘটনায় প্ররোচনার মামলায় স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাষ্ট্রপক্ষ এ আবেদন করে।

এর পর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে জামিন স্থগিতের আবেদনটি শুনানির জন্য উঠলে আদালত নট টুডে (আজ নয়) বলে আদেশ দেয়। চেম্বার জজ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এই আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন- ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরওয়ার কাজল। আদালতে মিতুর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরওয়ার কাজল বলেন, ‘আজ চেম্বার আদালতে মিতুর জামিন স্থগিতের আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় ছিল। আদালত নট টুডে (আজ নয়) বলে আদেশ দিয়েছেন। আশা করছি, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর মিতুর জামিন স্থগিতের আবেদনটি চেম্বার আদালতে শুনানি হবে।’

এর আগে গত ২৮ আগস্ট স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে স্থায়ী জামিন দেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি কাজী ইজহারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি সকালে নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি বাসায় মোস্তফা মোরশেদ আকাশ ইনজেকশনের মাধ্যমে নিজের শিরায় বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন। তার আগে স্ত্রীর সঙ্গে অন্য পুরুষের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে বাসা থেকে বেরিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান তানজিলা মিতু। পরে স্ত্রীর সমালোচনা করে স্বামী মোস্তফা মোরশেদ আকাশ ফেসবুকে পোস্ট দেন। তিনি লিখেন, ‘আমাদের দেশে তো ভালোবাসায় চিটিংয়ের শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম, আর আমি চির শান্তির পথ বেছে নিলাম।’

আর  ওই দিন রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে নগরীর নন্দনকানন এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তানজিলা মিতুকে আটক করে। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মোস্তফা মোরশেদ আকাশের স্ত্রী, শ্যালিকা, দুই বন্ধুসহ ছয়জনকে আসামি করে ১ ফেব্রুয়ারি বিকালে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন ডা. আকাশের মা জোবেদা খানম।

এদিকে, মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা মানসিক যন্ত্রণা ও উত্তেজনা সৃষ্টি করায় আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে মৃত্যুর মুখে পড়েন মোস্তফা মোরশেদ আকাশ। ২০০৯ সালে তানজিলা মিতুর সঙ্গে মোস্তফা মোরশেদের প্রেমের সম্পর্ক হয়। ২০১৬ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে আসা–যাওয়ার মধ্যে থাকেন তানজিলা মিতু। কিন্তু বিয়ের আগে ও পরে অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। মোস্তফা মোরশেদ বিষয়টি জানার পর তার শ্বশুর-শাশুড়িকে জানান। তবে তারা শোধরানোর উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো মোস্তফা মোরশেদকে শাসাতে থাকেন। তানজিলার বোন সানজিলা যুক্তরাষ্ট্র থেকে নানাভাবে মোস্তফা মোরশেদকে হুমকি দিয়ে মানসিক যন্ত্রণা দিতে থাকেন। এই মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হন তানজিলা মিতু। পরে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। জামিন শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারি করেন।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ