বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

মিন্নির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি, বাবার দাবি জবরদস্তি

আদালত প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২০ জুলাই ২০১৯, শনিবার ১২:৫৭ এএম

মিন্নির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি, বাবার দাবি জবরদস্তি

ঢাকা : আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন চাঞ্চল্যকর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকাল তিনটার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। পরে আদালতের বিচারক মো. সিরাজুল ইসলাম গাজী মিন্নিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মিন্নি। শুক্রবার হঠাৎ করে কড়া নিরাপত্তায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

বরগুনার সিনিয়র মেজিস্ট্রেট আদালত এর আগে বুধবার মিন্নিকে পাঁচদিনের রিমান্ডে দেন। রিমান্ডের দুদিন শেষে তাকে আদালতে তোলা হলো।

এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবির মিন্নিকে আদালতে হাজিরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তাকে আদালতে হাজির করার সংবাদে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিক ও উৎসুক মানুষ ভিড় জমান। তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরও আদালত প্রাঙ্গণে ছিলেন। তিনি দাবি করেন, নির্যাতন ও জোর জবরদস্তি করে মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

রিমান্ড শেষ না হতেই কেন মিন্নিকে আবারও আদালতে হাজির করা হয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে কিছুই জানাননি আদালতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা। তারা শুধু বলেছেন, এ মামলার তদন্তের স্বার্থেই আপাতত কিছু জানানো যাচ্ছে না।

বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় ২৬ জুন সকাল ১০টার দিকে স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। বিকাল ৪টায় বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

১৩ জুলাই রাতে রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৮ দিন পর রিফাতের বাবা বরগুনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে মিন্নির গ্রেফতার দাবি করেন। রিফাতের বাবার অভিযোগের ফলে আলোচিত এই হত্যা মামলা নাটকীয় মোড় নেয়।

রিফাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ছয় আসামিসহ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, চারজন রিমান্ডে আছে।

বাবার দাবি মিন্নি নির্দোষ : বরগুনার আলোচিত রিফাত হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে হঠাৎ আদালতে হাজির করেছে পুলিশ। পাঁচদিনের মধ্যে দু’দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার বিকেলে তাকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

পরে আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর কাছে রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মিন্নি। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বেলা দুইটার দিকে মিন্নিকে আদালতে নেওয়া হয়। আদালত থেকে তাঁকে বের করা হয় সন্ধ্যা সাতটার দিকে। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, রিমান্ডে নেওয়ার তিন দিনের মাথায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

এ দিকে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে মিন্নির বাবা মোজ্জাম্মেল হোসেন আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। এ সময় তিনি চিৎকার করে বলছিলেন, তাঁর মেয়ে অসুস্থ, গতকাল রাতে একজন পুলিশ সদস্য তাঁর বাসায় গিয়ে চিকিৎসাপত্র নিয়ে এসেছেন। আজকে জোর জবরদস্তি ও নির্যাতন করে তাঁর মেয়ের কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

মোজ্জাম্মেল হোসেন আরও বলেন, ‘মেয়ে আমার জীবন বাজি রেখে তার স্বামীকে রক্ষা করতে গেছে। এটাই তার অপরাধ? মিন্নির বাবা কিশোর কোর্টের সামনে চিৎকার করে বলে আমাকে গ্রেপ্তার করুন আমিও গ্রেপ্তার হবো।

মিন্নিকে যখন আদালত থেকে বের করা হচ্ছিলেন, তখন তাঁকে পুলিশের দুজন নারী সদস্য ধরে ছিলেন। ছোট পিকআপে তোলার সময় মিন্নি কিছু একটা বলার জন্য উদ্যত হয়েছিলেন। কিন্তু পাশে থাকা নারী পুলিশ সদস্য এ সময় মিন্নির মুখ চেপে ধরেন।

এর আগে মঙ্গলবার মিন্নিকে প্রায় ১৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ এই মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির মিন্নিকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে মিন্নিসহ ১৩ জন অভিযুক্ত রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এছাড়া এ মামলার দুজন অভিযুক্ত রিমান্ডে রয়েছেন। আর এ মামলার প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue