রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯, ৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমার টালবাহানা করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৬ জুন ২০১৯, বুধবার ০৮:২৮ পিএম

মিয়ানমার টালবাহানা করছে

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)

ঢাকা : মিয়ানমার সরকার জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত তাদের রোহিঙ্গা নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে টালবাহানা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধাবার (২৬ জুন) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ক্ষমতাসীন দলের এমপি নুর মোহাম্মদের প্রশ্নে লিখিত উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ থাকার পরও রোহিঙ্গাদের ফেরত নিচ্ছে না মিয়ানমার। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে মিয়ানমারের সঙ্গে ৩টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তিগুলোর একটিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে দুই বছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপরও দেশটির সরকার নানা টালবাহানা করছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গাদের খুব দ্রুত মিয়ানমারে ফেরানো না গেলে আমাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই জোরপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে প্রথম থেকেই একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

সংসদ নেতা বলেন, দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার লক্ষ্যে সম্প্রতি মিয়ানমারে তৈরি ঘরবাড়ি ও অন্য সুযোগ সুবিধা পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত বছর আগস্টে মিয়ানমারে যান। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার জন্য এরইমধ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে দুদেশের সম্মতিক্রমে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে গত বছরের ২৫ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফেরত যেতে রাজি হয়নি। এতে ২৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির একটিতে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, দুই বছরে মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ওই চুক্তিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার অধিবাসীদের নিরাপত্তা, সম্মান ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের দিকে লক্ষ রাখতে হবে। চুক্তির আদর্শ ও মূল বাণী বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমার সরকারকেই উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে ও আশ্বাস দিতে হবে। কারণ মিয়ানমার সরকার নিজেরাই এ সংকট সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্ব জনমত অব্যাহতভাবে বাংলাদেশকে সমর্থন দিচ্ছে। জাতিসংঘ এ বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনে একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার সরকার তাদের এ বিষয়ে কাজ করতে দিচ্ছে না। মিয়ানমারের অসযোগিতা সত্ত্বেও আমরা দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক দুটি পথই খোলা রেখেছি। বঙ্গবন্ধুর অনুসৃত পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী সকল বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির বিষয়ে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই