বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯, ৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

ক্যাসিনো-কাণ্ড

মুখোমুখি হচ্ছেন সম্রাট-আরমান, টাকার ভাগ নিয়েছেন নেতারাও

আদালত প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার ০৮:৪০ এএম

মুখোমুখি হচ্ছেন সম্রাট-আরমান, টাকার ভাগ নিয়েছেন নেতারাও

ঢাকা : অস্ত্র ও মাদকের মামলায় র‌্যাব হেফাজতে থাকা যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুবলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি আরমানকে মুখোমুখি করা হচ্ছে।

ক্যাসিনোর অর্থ ভাগাভাগি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়া এসব অর্থ বিদেশে পাচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সম্রাট ও আরমানকে মুখোমুখি করা হচ্ছে বলে র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে।

রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের মুখোমুখির মাধ্যমে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগের কোন কোন নেতা কীভাবে জড়িত ছিলেন, কাদের শেল্টারে ক্যাসিনো চলত— এসব বিষয়ে জানতে চাইবে র‌্যাব।

ইতোমধ্যে যুবলীগের এ আলোচিত নেতা সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয় থেকে র‌্যাব-১-এর কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে তাকে র‌্যাব-১-এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই আরমান এবং সম্রাটকে মুখোমুখি করা হচ্ছে। এর আগে ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় সম্রাট ও আরমান বেশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে।

সেখানে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির সঙ্গে কোন কোন নেতা জড়িত ছিলেন, কারা কত টাকা ভাগ নিয়েছেন বিস্তারিত বলেছেন সম্রাট ও আরমান।

 র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান ভূঞা জানান, সম্রাটের বিরুদ্ধে রমনা থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দায়ের করা দুটি মামলার তদন্তভার পেয়েছে র‌্যাব-১।

বুধবার রাতে মামলা দুটি তদন্ত করার আদেশ পাওয়া গেছে। এর আগে মামলা দুটি ডিবির কাছে ছিল। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ডিবির কাছে দেওয়া তথ্যও র‌্যাব তদন্ত করবে। মামলা দুটি তদন্তের আদেশ পাওয়ার পর ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে ডিবি কার্যালয় থেকে র‌্যাব-১-এর কার্যালয়ে আনা হয়েছে।

ডিবির ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় সম্রাট ডিবিকে বলেছেন, ক্যাসিনোর টাকার ভাগ তো অনেক নেতাই পেয়েছেন। সবাইকে ক্যাসিনো থেকে আসা টাকার ভাগ পৌঁছে দেওয়া হতো। তিনি একা ক্যাসিনোর টাকা নেননি। তাহলে তাকেই একা দায়ী করে কেন গ্রেপ্তার করা হলো। অন্য নেতাসহ যারা ক্যাসিনোর টাকা নিয়েছেন তারা কেন গ্রেপ্তার হবেন না।

রিমান্ড মঞ্জুরের পর সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে প্রথমে ডিবি হেফাজতে রাখা রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়- ক্যাসিনো বাণিজ্য, অবৈধ মার্কেট, দোকান, ফুটপাত, মাদক ব্যবসার কমিশনসহ বিভিন্ন খাত থেকে উপার্জিত টাকা কোথায় রাখা হয়েছে? দল ও দলের বাইরে আড়ালে থেকে এসব অপকর্মে কারা সহযোগিতা করতেন?

কাকরাইলে ভূঁইয়া ম্যানশন দখল এবং সেখানে কারা যাওয়া-আসা করতেন, ক্যাসিনো ও টেন্ডার সিন্ডিকেটে কারা রয়েছেন, এসব বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু ডিবির অনেক প্রশ্নের জবাব দেননি সম্রাট।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, যুবলীগের একজন কেন্দ্রীয় নেতা ক্যাসিনো থেকে মাসে ১০ লাখ টাকা নিতেন। তাকে ওই টাকা পৌঁছে দেওয়া হতো লোক মারফত।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য ও পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারাও তার কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিতেন। ক্যাসিনো, মাদক, অবৈধ মার্কেট-দোকান থেকে মাসে সম্রাটের একশ কোটি টাকার বেশি আদায় হতো। ভাগবাঁটোয়ারা শেষেও সিংহভাগ টাকা সম্রাটের ভাগে রাখা হতো। বিভিন্ন দেশে টাকা পাচার করেছেন সম্রাট।

এ ছাড়া সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো খেলে এ পর্যন্ত কয়েকশ কোটি টাকা খুইয়েছেন। এক ঘণ্টায় সম্রাট ৫০ কোটি টাকা খুইয়েছেন বলেও তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ওই খেলায় তার সঙ্গে একজন সংসদ সদস্যও ছিলেন।

সূত্র জানায়, উপাজির্ত অর্থ দলের প্রয়োজনে ব্যবহার করতেন বলে জানান সম্রাট। তিনি সুবিধাভোগী একাধিক সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। তার সহযোগী যুবলীগের সহসভাপতি আরমানকে দিয়ে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ করেছিলেন সম্রাট। রাজনৈতিক বড় ভাইদের সৌজন্যে প্রায়ই বিভিন্ন পার্টি আয়োজন করা হতো। এসব পার্টিতে নায়িকা মডেলদের আমন্ত্রণ করতেন আরমান। পার্টিতে সংসদ সদস্য, মন্ত্রীসহ প্রভাবশালী নেতারা উপস্থিত থাকতেন। আরমান নিজেও সিনেমা তৈরি ও পরিচালনায় যুক্ত হন সম্রাটের পরামর্শেই।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue