বুধবার, ০৩ জুন, ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

মূল্যবান সময় নষ্ট করা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২০, বুধবার ০৫:২২ পিএম

মূল্যবান সময় নষ্ট করা হয়েছে

ঢাকা : বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ দলীয় রাজনীতির কোনো বিষয় নয়, এটি জাতীয় অস্তিত্বের বিষয়। এ ভাইরাস মোকাবেলায় সরকার অনেক মূল্যবান সময়ক্ষেপণ করে সামান্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া এসব কথা বলেন।

গণফোরামের নেতারা বলেন, মানুষের জীবন বাঁচাতে দ্রুত দৃঢ় ও সমন্বিত নীতি গ্রহণ করতে হবে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ত্যাগ স্বীকারের মধ্য দিয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসীদের কার্যকরভাবে আলাদা রাখতে ব্যর্থতার বিষয়টি গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এসব ব্যর্থতার ফলে দেশের ৬৩ জন শিক্ষক ও গবেষক প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিয়ে একটি সম্ভাব্য কর্মপরিকল্পনা সুপারিশ করেছে।

তারা বলেন, আমরা ৬৩ জন বিশিষ্ট নাগরিকের প্রদত্ত গঠনমূলক ও সুবিবেচনাপূর্ণ সুপারিশগুলোকে সমর্থন করি। ভাইরাসটির ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া ব্যবস্থার সঙ্গে চীন, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেওয়া ব্যবস্থার মধ্যে বিস্তর ফারাক (পার্থক্য) রয়েছে। কিছু কিছু দেশ জানুয়ারি মাস থেকেই করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ব্যবস্থা নিয়েছে।

গণফোরামের শীর্ষ এ দুই নেতা বলেন, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বিশ্বের বহু দেশ তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন শহর এবং কিছু দেশে সম্পূর্ণ লকডাউন করেছে।

নেতারা বলেন, অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে যাদের কোনো সঞ্চয় নেই এবং দৈনিক/সাপ্তাহিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাদের সহায়তা করতে অনেক দেশ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশে সহায়-সম্পদহীন, এরূপ কয়েক কোটি মানুষের অবস্থা আরো বেশি সঙ্গিন। এই মানুষগুলোকে অনাহার, অপুষ্টি (বিশেষ করে শিশুদের) ও ক্ষুধা থেকে বাঁচাতে অন্তত কয়েক মাস খাওয়ানোর বন্দোবস্ত করতে হবে। এছাড়া উদ্ভূত বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা বিগত এক শতকের যে কোনো মন্দার চেয়ে ভয়াবহ ও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে এই মন্দার পরোক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে।

সংকর উত্তরণের পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, আমাদেরকে একটি লম্বা সময় ধরে জনজীবনে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে হবে। এ পরিস্থিতি থেকে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া হবে দীর্ঘ এবং কষ্টসাধ্য। আসন্ন মাস ও বছরগুলোতে আমাদের জনগণের ওপর এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগের প্রভাব কমিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে সতর্ক পরিকল্পনা এবং সুস্পষ্ট নীতি-প্রণয়ন আবশ্যক।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue