শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

মৃত নবজাতককে নিয়ে থানায় হাজির প্রাথমিকের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী

জামালপুর প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার ০৯:৩৭ এএম

মৃত নবজাতককে নিয়ে থানায় হাজির প্রাথমিকের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী

জামালপুর: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে এক কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে সন্তান প্রসবের দুই দিন পর শিশুটি মারা যায়। এ ব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার ডালবাড়ী এলাকার প্রদ্যুত নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে প্রায় ৭ মাস আগে বিয়ের প্রলোভনে কয়েক দফা ধর্ষণ করে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. রায়হান। রায়হান দেওয়ানগঞ্জ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের ছাত্র। ধর্ষণের ফলে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে মেয়ের বাবা এলাকাবাসীর কাছে বিচার প্রার্থনা করেন। ওই সময় রায়হানের বাবা স্কুল শিক্ষক হাবিবুর রহমান মেয়েটির গর্ভের সন্তান প্রসবের পর দুজনের বিয়ে সম্পন্ন করাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি ঘটনাটি গোপন রাখার অনুরোধ করেন।

এরই একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) রাতে ওই মেয়েটি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কন্যা সন্তান প্রসব করে। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক নবজাতক শিশু ও তার মায়ের শারীরিক অবস্থা গুরুতর দেখে রাতেই তাদেরকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে মেয়েটির স্বজনরা নবজাতক শিশু ও তার মাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। দুইদিন পর বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি হাসপাতালেই মারা যায়। পরে মেয়েটির বাবা মেয়ের বিয়ে ও সুচিকিৎসার দাবি জানালে স্কুল শিক্ষক হাবিবুর রহমান কিছুই করতে পারবেন না বলে জানান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রায়হান এবং তার বাবা স্কুল শিক্ষক হাবিবুর রহমান পলাতক রয়েছেন।

শুক্রবার মৃত কন্যাশিশুসহ ওই কিশোরী ও তার পরিবারের সদস্যরা বিচারের আশায় দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র শাহ নেওয়াজ শাহান শাহের বাসায় যান। পরে পৌর মেয়র দেওয়ানগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ফোন করে এই ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বলেন।
 
ওই কিশোরীর বাবা বলেন, আমার মেয়েটি খুবই সহজ-সরল। এই সরলতার সুযোগে মেয়েটির জীবন যে লম্পট শেষ করেছে আমি তার শাস্তি চাই। আমার মেয়েটির শারীরিক অবস্থাও ভালো না।

দেওয়ানগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএম মইনুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার একটি মৃতশিশু কোলে নিয়ে ওই কিশোরী তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থানায় মামলা করতে আসে। এ ব্যাপারে থানায় একটি ধর্ষণের মামলা হয়েছে। আলামত সংগ্রহের জন্য মৃত শিশুটিকে সংরক্ষণ করতে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

সোনালীনিউজ/এইচএন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue