শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

তিস্তা রেলসেতু

মেয়াদোত্তীর্ণের ৮৫ বছর পরও চলছে ১৮ ট্রেন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৯ জুন ২০১৯, শনিবার ০৩:১৮ পিএম

মেয়াদোত্তীর্ণের ৮৫ বছর পরও চলছে ১৮ ট্রেন

লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের তিস্তা রেলসেতুতে পারাপার হচ্ছে দৈনিক ১৮টি ট্রেন। রেলসেতুতে ট্রেন পারাপার হবেই। কিন্তু তা যখন ৮৫ বছর আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়, কথা আসে তখন। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচালে সম্প্রতি রেল দুর্ঘটনার পর এমন কথা জোরেশোরেই আসবে।

রেলওয়ে ও স্থানীয়রা জানান, সারা দেশের সঙ্গে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম অঞ্চলে রেল যোগাযোগ সৃষ্টি করতে ১৮৩৪ সালে তিস্তা নদীর ওপর ২ হাজার ১১০ ফুট লম্বা এ তিস্তা রেলসেতু নির্মাণ করে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। তখন দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রেলসেতু হিসেবে এটির পরিচিত ছিল। সেতুটির উত্তর পাশে লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা এলাকা এবং দক্ষিণ পাশ যুক্ত হয়েছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সঙ্গে। ১৮৫ বছর বয়সী সেতুটির মেয়াদ ধরা হয়েছিল একশ বছর। ৮৫ বছর আগে সেতুটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও জোড়াতালি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে দৈনিক ছুটছে ১৮টি ট্রেন।

২০০১ সালে রেলসেতুর পূর্ব পাশে তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বরে তিনি আবারো তিস্তা সড়ক সেতু উদ্বোধন করেন। আর সড়ক সেতু চালু হওয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ রেলসেতুর যানবাহন চলাচল বন্ধ হলেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকে। সেতুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন থেকে ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করছে এ সেতুতে। অযত্ন আর অবহেলায় সেতুটির লাইনে বেশ কিছু স্লিপার নষ্ট হয়েছে। খুলে পড়ে গেছে অনেক স্লিপারের প্লেট ও নাট-বল্টু। ফলে যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দুর্ঘটনার আগেই সেতুটির কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যাত্রীসাধারণ ও স্থানীয়রা।

তিস্তা এলাকার বাসিন্দা সামাদ মিয়া, তোজাম আলী, রহিম মিয়া বলেন, তিস্তা রেলসেতুটির ওপর ট্রেন উঠলে সেতুটি কেঁপে ওঠে। সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে কি দুর্ঘটনা ঘটে। মাঝে মাঝে লোকদেখানো নামমাত্র মেরামতের কাজ হলেও উন্নতি ঘটেনি।

নিয়মিত ট্রেনযাত্রী আসাদুজ্জামান খন্দকার, আরিফ ও তোফায়েল বলেন, তিস্তা রেলসেতুতে ট্রেন উঠলে বুকটা কেঁপে ওঠে। সেতুটি অতিক্রম না করা পর্যন্ত বুক কাঁপতে থাকে। কয়েক মাস আগে তিস্তা রেলসেতু পরিদর্শন করে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন সাংবাদিকদের বলেন, কানেকটিভিটি বাড়াতে তিস্তা রেলসেতুতে ট্রেনের গতি ও সংখ্যা বাড়ানো হবে। তাই তিস্তায় আরেকটি রেলসেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুরাতন সেতুর পশ্চিম পাশেই আরেকটি ডুয়েল গেজ সেতু নির্মাণে খুব দ্রুত কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ম্যানেজার মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিভাগের ছোট-বড় ৪০৮টি সেতুর খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু সেতুতে ইতিপূর্বে মেরামত কাজ শুরু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কোনো সেতু নেই। তিস্তা রেলসেতু মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবু তিস্তা রেলসেতুর পশ্চিম পাশে নতুন করে আরো একটি ডুয়েল ব্রডগেজ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সেতুটিতে মিত্রবাহিনী বোমবিং করায় একটি গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে ১৯৭২ সালে সেতুটি পুনরায় চালু করা হয়। ১৯৭৭ সালে রেলওয়ে ও সওজ বিভাগ যৌথভাবে রেলসেতুতে মিটারগেজ লাইনের পাশে ২৬০টি স্টিলের টাইফ প্লেট ও কাঠের পাটাতন স্থাপন করে। ১৯৭৮ সালে ট্রেনের পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগ শুরু করা হয়। তখন থেকেই সেতু দিয়ে ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করত। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক পারাপারের ফলে সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই