রবিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬

মেয়েকে ৩০ জনের বিছানায় যেতে বাধ্য করল বাবা! দরজায় লেখা ‘সরি মা’

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০৭:১৮ পিএম

মেয়েকে ৩০ জনের বিছানায় যেতে বাধ্য করল বাবা! দরজায় লেখা ‘সরি মা’

কাঠের দরজায় লেখা ‘সরি আম্মা’। হাতের লেখাটা ১২ বছরের এক কন্যাশিশুর। উদ্ধারকারীরা তাকে সেফ হোমে নিয়ে যেতে এলে তাড়াহুড়ো করে এতটুকু সে লিখে যেতে পেরেছিল। গত দু’বছর ধরে দিনের পর দিন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ওই শিশু। দুই বছরে অন্তত ৩০ জনের বিছানায় যেতে তাকে বাধ্য করেছিল তার বাবা। মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের কেরালার মলপ্পুরমে।

আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছিল, যখন বয়স মাত্র ১০ বছর। বেকার বাবার উপার্জনের সহজ রাস্তা ছিল স্ত্রী ও ১২ বছরের মেয়েকে যৌন ব্যবসায় নামিয়ে দেয়া। দিনের পর দিন নির্যাতনের শিকার হতো স্ত্রী-মেয়ে, আর কাঁচা টাকায় হাত ভরাত বাবা। এভাবেই চলছিল। সম্প্রতি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে মেয়েটির বাবা এবং বাবার দুই বন্ধুকে।

দু’কামরায় ছোট কাঠের ঘরের একটা কামরায় মেয়ে থাকত। পাশের ঘরে তার বাবা-মা। যখনই টাকায় টান পড়ত কাউকে না কাউকে মেয়ের ঘরে ঢুকিয়ে দিত বাবা। বিনিময়ে মিলত কাঁচা টাকা। এ ভাবেই দু’বছর ধরে নির্যাতন চলছিল তার ওপর।

সম্প্রতি মেয়েটির এক সহপাঠী স্কুলের শিক্ষিকার নজরে বিষয়টি আনেন। তখনও অবশ্য সহপাঠী বা স্কুলের শিক্ষিকা কেউই জানতেন না কী ঘটেছে। মেয়েটি মাঝে মধ্যেই স্কুলে আসত না, তার আচরণেও অস্বাভাবিকত্ব দেখা দিয়েছিল, প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ত।

সহপাঠী শুধু এটুকুই জানিয়েছিল স্কুলের শিক্ষিকাকে। স্কুলের পক্ষ থেকে চাইল্ডলাইন কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়া হয়। চাইল্ডলাইন কর্তৃপক্ষ তার কাউন্সেলিং করায়। তখনই জানতে পারে, কতটা যন্ত্রণা বুকে চেপে রয়েছে ওই ১২ বছরের শিশুর। সে জানায়, প্রথমে তার বাবা মায়ের সঙ্গে ঠিক এটাই করত। দু’বছর ধরে তার সঙ্গে এটা ঘটে চলেছে। সব মিলিয়ে মোট ৩০ জন ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেছে। শারীরিক পরীক্ষায় ধর্ষণের প্রমাণও পেয়েছেন চিকিৎসকেরা।

জিজ্ঞাসাবাদে স্থানীয়রা পুলিশকে জানিয়েছে, মলপ্পুরমের এই অঞ্চলে পাঁচ বছর ধরে ওই পরিবারের বাস। বাড়ির ভেতরে যে খারাপ কিছু ঘটে, তা প্রতিবেশীদের অনেকেই জানতেন। এমনকি প্রায়ই রাতে ওই শিশুর কান্নার আওয়াজ তারা পেতেন। রাত হলেই বাড়ির ভেতরে বাইরের লোক ঢুকতেও দেখতেন। তবু তারা ভয়ে এবং অহেতুক ঝামেলা ভেবে এই বিষয়ে জড়াতে চাননি। প্রতিবেশীদের সাহায্য পেলে অনেক আগেই ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করা যেত, জানিয়েছে পুলিশ।

গত শনিবার এই ঘটনা সামনে আসে। শনিবার তাকে ঘর থেকে হোমে নিয়ে যায় চাইল্ডলাইন। বাবা হয়ত মেয়ের কথা ভাবেনি, মেয়েকে পণ্য হিসাবে ব্যবহার করেছে, মা-ও মেয়ের পাশে দাঁড়ায়নি, কিন্তু সে চলে গেলে পরিবারের উপার্জনের রাস্তা যে একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে, উদ্ধারের সময়ও সেটাই সবচেয়ে বেশি ভাবিয়েছে ওই নাবালিকাকে। বাড়ি ছাড়ার আগে তাই ছোট হাত কাঠের দরজায় লিখে দিয়েছে, ‘সরি আম্মা’।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এসএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue